দেশ ও রাজনীতি
অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই
ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ হচ্ছে গণতান্ত্রিক বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে দেশকে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন করানো। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পছন্দনীয় সরকার গঠন করতে পারবে- এটাই সবার প্রত্যাশা এবং মূল আকাঙ্ক্ষা। এখানে কোনো ধরনের ছলচাতুরীর সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সুবিধা সংস্কার প্রশ্নে। পরবর্তীকালে তা সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলনের মূল উপজীব্য ছিল গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র।
৪৪টি ক্ষুদ্র কফিন ও একটি তালাবদ্ধ ফাইল: কাঠামোগত হত্যার দায় কার?
পাবনার চাটমোহর থেকে আসা আড়াই বছরের শিশু নুসায়বা যখন ১২ মার্চ নিথর হয়ে গেল, তার ঠিক চার দিন পর তার বাবার ফোনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে একটি কল আসে। জানানো হয়, নুসায়বার জন্য একটি শয্যা বরাদ্দ হয়েছে। মৃত সন্তানের জন্য শয্যা বরাদ্দের এই ‘মরণোত্তর ডাক’ আসলে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমাদের সুশাসনের গালে এক বিরাট চপেটাঘাত। নুসায়বার মতো একই ভাগ্য বরণ করেছে তেরখাদিয়ার নাহিদ বা দুর্গাপুরের ১০ মাসের শিশু জিহাদ, যাদের পরিবার দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও একটি যান্ত্রিক নিঃশ্বাসের অধিকার পায়নি।
যুদ্ধ, আধিপত্য ও এর বৈশ্বিক মূল্য
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি পুরোনো সমস্যাকে আবার সামনে এনে দিয়েছে—বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সামরিক শক্তির উপর নির্ভরতা। সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো তাদের পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধের যুক্তিতে ব্যাখ্যা করলেও বৃহত্তর বাস্তবতা ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে। এই সংঘাত আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের রাজনীতি সাধারণ মানুষের জীবন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
হাঁস শিকারের আড়ালে বাঙালি নিধনের নকশা
সমৃদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার গোড়াপত্তন সিন্ধু নদ ও তার অববাহিকাকে কেন্দ্র করে। ভারত-পাকিস্তানে বিস্তৃত এই নদের তীরে যেসব শহর গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের লারকানা। দেশটির সিন্ধু প্রদেশের অন্যতম সৃমদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এটি। হাজার মাইল দূরের এই শহরটির সাথে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় জড়িয়ে আছে। কারণ এই শহরেই চূড়ান্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে বাঙালি নিধনযজ্ঞের নীলনকশা। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। যেদিন ভারী ভূরিভোজ, রঙ্গীন পানীয় আর ক্ষমতায় নেশায় বাঙালি জাতিকে একটি রক্তাক্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ও পাকিস্তানি শীর্ষ সেনা কর্তারা।
অবৈধ মীমাংসা থেকে হত্যা: রাষ্ট্রকে দেখাতে হবে বিচারের দৃষ্টান্ত
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার সাহস দেখিয়েছিল ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। কিন্তু ন্যায়বিচারের পথেই তার জীবন থেমে গেল। অভিযোগ অনুযায়ী, বাবার সঙ্গে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পথে তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ করা হয় এবং পরদিন উদ্ধার হয় তার নিথর দেহ।
যুদ্ধের ভয়ঙ্কর রূপান্তর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
মানুষের ইতিহাসে যুদ্ধ অনেক পুরোনো। পাথর দিয়ে, লাঠি দিয়ে, তলোয়ার দিয়ে, কামান-বন্দুক দিয়ে মারামারির পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালে মানুষ পৌঁছে গেছে পারমাণবিক যুগে।
জনগণের রায় ও নতুন দিগন্ত: সেবার অঙ্গীকার হোক রাজনীতির মূলমন্ত্র
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি কোটি মানুষের গভীর আস্থা, বিশ্বাস এবং এক নতুন আগামীর স্বপ্ন। জনগণ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্বপ্নটি বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছে একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে।
'বাংলাদেশে নারীদের কাছে নির্বাচনকে ঘিরে আশা এখন হতাশা আর ভয়'
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা নারীরাসহ দেশের অনেক নারীর কাছে নির্বাচনকে ঘিরে আশাটা এখন হতাশা আর ভয়ে পরিণত হয়েছে বলে বৃটেনের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
‘গুপ্ত রাজনীতি’ বিতর্ক এবং...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনীতিতে ততই বাড়ছে বক্তব্যের তীক্ষ্ণতা, শব্দচয়নের কৌশল এবং প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ।
গিলোটিনের গুরুর গর্দান আর কত?
অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নানা নৈরাজ্য এখনও দৃশ্যমান। পালাবদলের পটভূমিতে রাষ্ট্রযন্ত্র এখনও অনেকটা নিস্ক্রিয়। যে শূণ্যতায় আংশিক হলেও চলমান উন্মত্ত জনতার শাসন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অরাজকতা ও উন্মত্ততা কিছুটা থিতু হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা এখনও বিদ্যমান। প্রতিদিনই কোনা না কোনো শিক্ষককে নাজেহাল হতে হচ্ছে। অতি উৎসাহী ছাত্ররা নিজ ইচ্ছায় অথবা কারও প্ররোচনায় শিক্ষককে অবরুদ্ধ করছেন, অপমান করছেন, পদত্যাগে বাধ্য করছেন। কোথাও কোথাও শিক্ষককে সরিয়ে শিক্ষার্থী নিজেও শিক্ষককের চেয়ারে বসে পড়ছেন। কী সব বিভৎস কাণ্ডকারখানা, অকল্পনীয় নৈরাজ্য।
