দেশ ও রাজনীতি
তবে কী ফাতেমার মৃত্যুর অপেক্ষাতেই ছিল বাগেরহাট প্রশাসন?
বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুকে শুধু একটি দুর্ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এই মৃত্যুর আগে একাধিক সতর্ক বার্তা ছিল। রয়েছে অতীতের প্রাণহানির ঘটনাও।
এম.এ. মঞ্জুর কেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলেন তা আজও বোধগম্য নয়
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরবেলা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটি ছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক দশকের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হত্যা। যে ঘটনায় অন্যতম প্রধান চরিত্র মেজর জেনারেল এম.এ. মঞ্জুর। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর এম.এ. মঞ্জুর পুরো ঘটনার দায় নিয়ে চট্টগ্রামে এই ধরনের বিদ্রোহ করেছিলেন। মার্শাল ল জারি করাসহ চার দফা দাবিও পেশ করেছিলেন । ঘোষণা দিয়েছিলেন একটি বিপ্লবী পরিষদের। যদিও খুব দ্রুত এম.এ. মঞ্জুর ঘটনাপ্রবাহে তাঁর লাগাম হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনিও ২ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অত্যন্ত নির্মমভাবে নিহত হন।
শিশুর নিরাপত্তায় পরিবার নাকি রাষ্ট্র বেশি দায়ী?
প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ কিংবা শিশুশ্রমের মতো ভয়াবহ খবর চোখে পড়ে। সম্প্রতি রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সমাজকে আবারও গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। কখনও স্কুলে, কখনও বাসায়, কখনও রাস্তায়—শিশুরা যেন কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য এইচএসসি থেকেই করণীয়
বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন এখন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে শুধুমাত্র স্বপ্ন দেখলেই হবে না, দরকার সঠিক সময়ে সঠিক প্রস্তুতি। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময় থেকেই কিছু বিষয় মাথায় রাখলে পরবর্তীতে অনেক সময়, টাকা ও ঝামেলা বাঁচানো সম্ভব। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে কিছু পরামর্শ তুলে ধরছি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পতনের পর কোন পথে?
২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় ঘটনা হলো— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। যে কেন্দ্রে ২০২১ সালে তিনি ৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন, সেখানেই এই পরাজয় কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রতীকী অর্থেও অত্যন্ত গভীর।
কেন দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠাচ্ছে দিল্লী?
দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় আসছেন। এই খবরে বেশ কৌতুহল, উত্তেজনা ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে অনেকেই এসেছেন, ভবিষ্যতেও অনেকে আসবেন। কিন্তু দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এখন পর্যন্ত ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা ভারতের হাইকমিশনারদের মধ্যে ‘অনন্য’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। কারণ তিনি পেশাদার কূটনীতিক নন, কোনও উচ্চপদস্থ আমলাও নন, বরং ভারতের রাজনীতির মাঠের শীর্ষ পর্যায়ের একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি এর আগে লোকসভার সদস্য ছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। আবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসেরও প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অতএব কেন এ ধরনের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে দিল্লী থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে কৌতূহল কিংবা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের অভিভাবকত্ব হারিয়েছে?
একটি রাষ্ট্রের শক্তির মাপকাঠি তার জিডিপি বা মেগা প্রকল্প নয়, বরং তার সবচেয়ে অসহায় নাগরিকটি বিপদের দিনে কতটা সুরক্ষা পায়— তাতেই নিহিত থাকে তার প্রকৃত পরিচয়। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের উত্তর লস্করচালা গ্রামে ৯ বছরের শিশু আর ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তান নিয়ে একজন বিধবা মা যখন রাতভর কবরের পাশে আশ্রয় নেন, তখন আমাদের উন্নয়নের সব তকমা এক লহমায় ফিকে হয়ে যায়। এই দৃশ্য কেবল হাড়হিম করা নিষ্ঠুরতার গল্প নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রের ‘অভিভাবক’ সত্তার এক চরম নৈতিক পরাজয়।
দুধের শিশু থেকে ৬ বছরের শিশু: কারাগারে নিরপরাধ শৈশব
আদালতের বারান্দায় একজন মা তার ৪৬ দিনের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন। চারদিকে আইনজীবীদের আনাগোনা, পুলিশের পায়চারি, মামলার কাগজপত্রের ব্যস্ততা। সেই ব্যস্ততার মাঝে একটু পরেই ওই মাকে— সেই দুধের শিশুসহ — হাজতখানায় নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি কাঁদছেন।
৪৪টি ক্ষুদ্র কফিন ও একটি তালাবদ্ধ ফাইল: কাঠামোগত হত্যার দায় কার?
পাবনার চাটমোহর থেকে আসা আড়াই বছরের শিশু নুসায়বা যখন ১২ মার্চ নিথর হয়ে গেল, তার ঠিক চার দিন পর তার বাবার ফোনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে একটি কল আসে। জানানো হয়, নুসায়বার জন্য একটি শয্যা বরাদ্দ হয়েছে। মৃত সন্তানের জন্য শয্যা বরাদ্দের এই ‘মরণোত্তর ডাক’ আসলে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমাদের সুশাসনের গালে এক বিরাট চপেটাঘাত। নুসায়বার মতো একই ভাগ্য বরণ করেছে তেরখাদিয়ার নাহিদ বা দুর্গাপুরের ১০ মাসের শিশু জিহাদ, যাদের পরিবার দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও একটি যান্ত্রিক নিঃশ্বাসের অধিকার পায়নি।
যুদ্ধ, আধিপত্য ও এর বৈশ্বিক মূল্য
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি পুরোনো সমস্যাকে আবার সামনে এনে দিয়েছে—বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সামরিক শক্তির উপর নির্ভরতা। সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো তাদের পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধের যুক্তিতে ব্যাখ্যা করলেও বৃহত্তর বাস্তবতা ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে। এই সংঘাত আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের রাজনীতি সাধারণ মানুষের জীবন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
