রাজনীতি ও জনপ্রশাসন
প্রভুর হাতে রাষ্ট্রের রাশ, মরুভূমিতে হায়াতুল্লাহর শেষ নিঃশ্বাস
মরুভূমির ওপর তখন সুর্যের গনগনে উত্তাপ। যেনো বিশাল এক আগুনের গোলা। পুড়ে ছারখার করে দেবে চারপাশ।
গ্যাসে চুলা জ্বলে না, বিদ্যুৎ বিলও থামে না: সংকটের দুই আগুনে মানুষ
দিনাজপুরের হিলিতে পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে গত সপ্তাহে লম্বা একটা সারি দেখা গেছে। সবাই বিল জমা দিতে আসেননি। অনেকের হাতে ছিল বিলের কাগজ, আর মুখে একটাই কথা—এত টাকা কেন এল? বরগুনার বেতাগীতেও একই ছবি। সেখানকার গ্রাহকরা বলছেন, বিল এসেছে স্বাভাবিকের দ্বিগুণ, কারও তিনগুণ। কেউ কেউ বলছেন, মিটার না দেখেই অনুমানে বিল বানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে যেসব রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন
গতকাল ২৪ জুলাই, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই হঠাৎ পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বড় ধরনের কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগের কথা জানান। তাঁর অবর্তমানে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পদোন্নতির পরশপাথর: অবসর, অপসারণ ও অমর প্রশাসনিক কৃপাকাহিনি!
বাংলা ভাষায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রহিয়াছে-'শেষ ভালো যাহার, সব ভালো তাহার।' কিন্তু আমাদের প্রশাসনিক বাস্তবতায় ইহার একটি নব সংস্করণ প্রচলিত হইতে পারে-'শেষে পদোন্নতি যাহার, তাহার অতীতের হিসাব আর কাহার?' কারণ, যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ, কর্মদক্ষতা কিংবা শৃঙ্খলা-এই সকল শব্দ যেন ক্রমশ অভিধানের অলংকারে পরিণত হইতেছে; বাস্তবের প্রশাসনে তাহাদের স্থান দখল করিয়াছে এক রহস্যময় পরশপাথর, যাহার স্পর্শে অবসরও নবজীবন লাভ করে, চাকুরিচ্যুতিও পদোন্নতির সিঁড়ি হইয়া উঠে।
প্রজ্ঞাপনের রাজ্যে প্রভু কে মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়, না কি মহামহিম গুঞ্জন?
বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে বিচিত্র ঘটনার অভাব কখনো ছিল না। তথাপি সাম্প্রতিক কালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত ঘটনাটি এমন এক অভিনব দৃষ্টান্ত, যাহা দেখিয়া সাধারণ নাগরিক প্রশ্ন করিতে বাধ্য-রাষ্ট্রের প্রশাসন প্রকৃতপক্ষে পরিচালনা করিতেছেন কে?
এম.এ. মঞ্জুর কেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলেন তা আজও বোধগম্য নয়
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরবেলা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটি ছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক দশকের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হত্যা। যে ঘটনায় অন্যতম প্রধান চরিত্র মেজর জেনারেল এম.এ. মঞ্জুর। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর এম.এ. মঞ্জুর পুরো ঘটনার দায় নিয়ে চট্টগ্রামে এই ধরনের বিদ্রোহ করেছিলেন। মার্শাল ল জারি করাসহ চার দফা দাবিও পেশ করেছিলেন । ঘোষণা দিয়েছিলেন একটি বিপ্লবী পরিষদের। যদিও খুব দ্রুত এম.এ. মঞ্জুর ঘটনাপ্রবাহে তাঁর লাগাম হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনিও ২ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অত্যন্ত নির্মমভাবে নিহত হন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পতনের পর কোন পথে?
২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় ঘটনা হলো— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। যে কেন্দ্রে ২০২১ সালে তিনি ৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন, সেখানেই এই পরাজয় কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রতীকী অর্থেও অত্যন্ত গভীর।
রাজশাহীর হাম বিপর্যয়: আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা নাকি কাঠামোগত সহিংসতা
হাম — চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি অত্যন্ত সংক্রামক, কিন্তু শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য একটি ভাইরাস। তবে রাজশাহীর বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শব্দটি আর কেবল একটি ক্লিনিক্যাল পরিভাষায় সীমাবদ্ধ নেই— এটি হয়ে উঠেছে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যর্থতার জীবন্ত দলিল। গত দেড় মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এই রোগের জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে ৫৩টিরও বেশি শিশু। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস এবং দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র দুই সপ্তাহেই হামের গ্রাসে হারিয়ে গেছে ৪৪টি প্রাণ। আর এই লেখাটি চূড়ান্ত হওয়ার আগের মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় আইসিইউর দীর্ঘ সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে করতে নিভে গেছে আরও ৩টি নিষ্পাপ শিশুর জীবনপ্রদীপ।
৪৪টি ক্ষুদ্র কফিন ও একটি তালাবদ্ধ ফাইল: কাঠামোগত হত্যার দায় কার?
পাবনার চাটমোহর থেকে আসা আড়াই বছরের শিশু নুসায়বা যখন ১২ মার্চ নিথর হয়ে গেল, তার ঠিক চার দিন পর তার বাবার ফোনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে একটি কল আসে। জানানো হয়, নুসায়বার জন্য একটি শয্যা বরাদ্দ হয়েছে। মৃত সন্তানের জন্য শয্যা বরাদ্দের এই ‘মরণোত্তর ডাক’ আসলে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমাদের সুশাসনের গালে এক বিরাট চপেটাঘাত। নুসায়বার মতো একই ভাগ্য বরণ করেছে তেরখাদিয়ার নাহিদ বা দুর্গাপুরের ১০ মাসের শিশু জিহাদ, যাদের পরিবার দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও একটি যান্ত্রিক নিঃশ্বাসের অধিকার পায়নি।
হাঁস শিকারের আড়ালে বাঙালি নিধনের নকশা
সমৃদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার গোড়াপত্তন সিন্ধু নদ ও তার অববাহিকাকে কেন্দ্র করে। ভারত-পাকিস্তানে বিস্তৃত এই নদের তীরে যেসব শহর গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের লারকানা। দেশটির সিন্ধু প্রদেশের অন্যতম সৃমদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এটি। হাজার মাইল দূরের এই শহরটির সাথে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় জড়িয়ে আছে। কারণ এই শহরেই চূড়ান্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে বাঙালি নিধনযজ্ঞের নীলনকশা। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। যেদিন ভারী ভূরিভোজ, রঙ্গীন পানীয় আর ক্ষমতায় নেশায় বাঙালি জাতিকে একটি রক্তাক্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ও পাকিস্তানি শীর্ষ সেনা কর্তারা।