রাজনীতি ও জনপ্রশাসন
এম.এ. মঞ্জুর কেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলেন তা আজও বোধগম্য নয়
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরবেলা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটি ছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক দশকের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হত্যা। যে ঘটনায় অন্যতম প্রধান চরিত্র মেজর জেনারেল এম.এ. মঞ্জুর। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর এম.এ. মঞ্জুর পুরো ঘটনার দায় নিয়ে চট্টগ্রামে এই ধরনের বিদ্রোহ করেছিলেন। মার্শাল ল জারি করাসহ চার দফা দাবিও পেশ করেছিলেন । ঘোষণা দিয়েছিলেন একটি বিপ্লবী পরিষদের। যদিও খুব দ্রুত এম.এ. মঞ্জুর ঘটনাপ্রবাহে তাঁর লাগাম হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনিও ২ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অত্যন্ত নির্মমভাবে নিহত হন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পতনের পর কোন পথে?
২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় ঘটনা হলো— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। যে কেন্দ্রে ২০২১ সালে তিনি ৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন, সেখানেই এই পরাজয় কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রতীকী অর্থেও অত্যন্ত গভীর।
৪৪টি ক্ষুদ্র কফিন ও একটি তালাবদ্ধ ফাইল: কাঠামোগত হত্যার দায় কার?
পাবনার চাটমোহর থেকে আসা আড়াই বছরের শিশু নুসায়বা যখন ১২ মার্চ নিথর হয়ে গেল, তার ঠিক চার দিন পর তার বাবার ফোনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে একটি কল আসে। জানানো হয়, নুসায়বার জন্য একটি শয্যা বরাদ্দ হয়েছে। মৃত সন্তানের জন্য শয্যা বরাদ্দের এই ‘মরণোত্তর ডাক’ আসলে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমাদের সুশাসনের গালে এক বিরাট চপেটাঘাত। নুসায়বার মতো একই ভাগ্য বরণ করেছে তেরখাদিয়ার নাহিদ বা দুর্গাপুরের ১০ মাসের শিশু জিহাদ, যাদের পরিবার দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও একটি যান্ত্রিক নিঃশ্বাসের অধিকার পায়নি।
হাঁস শিকারের আড়ালে বাঙালি নিধনের নকশা
সমৃদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার গোড়াপত্তন সিন্ধু নদ ও তার অববাহিকাকে কেন্দ্র করে। ভারত-পাকিস্তানে বিস্তৃত এই নদের তীরে যেসব শহর গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের লারকানা। দেশটির সিন্ধু প্রদেশের অন্যতম সৃমদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এটি। হাজার মাইল দূরের এই শহরটির সাথে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় জড়িয়ে আছে। কারণ এই শহরেই চূড়ান্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে বাঙালি নিধনযজ্ঞের নীলনকশা। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। যেদিন ভারী ভূরিভোজ, রঙ্গীন পানীয় আর ক্ষমতায় নেশায় বাঙালি জাতিকে একটি রক্তাক্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ও পাকিস্তানি শীর্ষ সেনা কর্তারা।
জনগণের রায় ও নতুন দিগন্ত: সেবার অঙ্গীকার হোক রাজনীতির মূলমন্ত্র
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি কোটি মানুষের গভীর আস্থা, বিশ্বাস এবং এক নতুন আগামীর স্বপ্ন। জনগণ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্বপ্নটি বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছে একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে।
'বাংলাদেশে নারীদের কাছে নির্বাচনকে ঘিরে আশা এখন হতাশা আর ভয়'
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা নারীরাসহ দেশের অনেক নারীর কাছে নির্বাচনকে ঘিরে আশাটা এখন হতাশা আর ভয়ে পরিণত হয়েছে বলে বৃটেনের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
‘গুপ্ত রাজনীতি’ বিতর্ক এবং...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনীতিতে ততই বাড়ছে বক্তব্যের তীক্ষ্ণতা, শব্দচয়নের কৌশল এবং প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক গুরুত্ব কী?
প্রায় দেড় যুগ পরে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে একজন রাজনৈতিক নেতা তো বটেই, যেকোনো সাধারণ মানুষেরও যে অনুভূতি হয়, তাতে জুতা মোজা খুলে খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা, মাটির ঘ্রাণ নেয়া অস্বাভাবিক কোনো দৃশ্য নয়। সুতরাং, ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে নেমে তারেক রহমানের খালি পায়ে হাঁটার দৃশ্যটি মানুষেকে যতটা না আপ্লুত করেছে, তার চেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে তিনশো ফুট এলাকায় সংবর্ধনা মঞ্চে বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসা এবং ১৬ মিনিটের বক্তৃতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যাপারে কোনো নেতিবচক মন্তব্য না করা, বিষোদ্গার না করা, আমিত্বের অহমিকা না দেখানো এবং মানুষকে আকাশকুসুম স্বপ্ন না দেখানো। সেইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত নাগরিক অধিকার নেতা, ধর্মযাজক ও অহিংস আন্দোলনের প্রতীক মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর অনুকরণে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে) বলার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বক্তৃতায় বাক্য ও শব্দচয়নে মিতব্যয়িতা প্রদর্শন করলেন, সেটি তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে হয়তো কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ: মৌলবাদী উত্থান কিংবা বিজয়ের চেতনার নবজাগরণ
ডিসেম্বর এলেই বাংলাদেশের হৃদয়ে এক অদ্ভুত আলো জ্বলে ওঠে—বিজয়, শোক আর গৌরব মিলেমিশে তৈরি হয় এক অপ্রতিরোধ্য আবেগ। ১৯৭১-এর বিজয় শুধু একটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং ছিল এক জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জয়, এক সভ্যতার মুক্তি। প্রতি বছর ডিসেম্বর তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের গল্প, শত বাধা পেরিয়ে জন্ম নেওয়া একটি লাল-সবুজ পতাকার গর্ব। তবে বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগে—বিজয়ের ৫৩ বছর পর আমরা কি সেই চেতনা ঠিকভাবে ধারণ করতে পারছি? নাকি সময়ের স্রোতে, রাজনৈতিক অস্থিরতায় এবং সামাজিক বিভাজনে সেই আলো ক্ষীণ হয়ে আসছে? কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনা যেন এ প্রশ্নটিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি কাদের হাতে?
‘বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে, তারা অন্তর্গতভাবেই অগণতান্ত্রিক এবং এখানে শাসকশ্রেণির পড়ালেখা ও বিদ্যাশিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্ন।’ ইংরেজি দৈনিক নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির যেদিন এই বক্তব্য দেন, তার ঠিক আগের দিন দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। প্রয়াত রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নুরুল কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় তা কখনো ছিল না।’
