Views Bangladesh Logo
author image

শিমুল জাবালি

  • কবি ও সাংবাদিক

  • থেকে

শিমুল জাবালি, কবি ও সাংবাদিক
গ্যাসে চুলা জ্বলে না, বিদ্যুৎ বিলও থামে না: সংকটের দুই আগুনে মানুষ
গ্যাসে চুলা জ্বলে না, বিদ্যুৎ বিলও থামে না: সংকটের দুই আগুনে মানুষ

গ্যাসে চুলা জ্বলে না, বিদ্যুৎ বিলও থামে না: সংকটের দুই আগুনে মানুষ

দিনাজপুরের হিলিতে পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে গত সপ্তাহে লম্বা একটা সারি দেখা গেছে। সবাই বিল জমা দিতে আসেননি। অনেকের হাতে ছিল বিলের কাগজ, আর মুখে একটাই কথা—এত টাকা কেন এল? বরগুনার বেতাগীতেও একই ছবি। সেখানকার গ্রাহকরা বলছেন, বিল এসেছে স্বাভাবিকের দ্বিগুণ, কারও তিনগুণ। কেউ কেউ বলছেন, মিটার না দেখেই অনুমানে বিল বানানো হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি পুরুষ, মৃত্যু বেশি নারীর; কারণটা কেউ খুঁজে দেখেনি
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি পুরুষ, মৃত্যু বেশি নারীর; কারণটা কেউ খুঁজে দেখেনি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি পুরুষ, মৃত্যু বেশি নারীর; কারণটা কেউ খুঁজে দেখেনি

প্রতিদিন বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। গণমাধ্যম রুটিন কাজের মতো প্রকাশ করে, আর রাষ্ট্রীয় হাজার সমস্যার ভিতরে ডেঙ্গুতে কী হচ্ছে তা পাঠককে সাড়া জাগায় না কিংবা ভাবায় না। অধিদপ্তরের ৩০ জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৫৩ জন—তাঁদের মধ্যে ৩২ জন নারী, ২১ জন পুরুষ। সংখ্যাটি নতুন নয়। নতুন নয় অনুপাতটিও। ২০১৯ সালে আইইডিসিআরের বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছিল, ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৬৫ শতাংশই পুরুষ। অথচ সে বছর মৃতদের প্রায় ৫৪ শতাংশ ছিলেন নারী। ২০২৪ সালে মৃতদের ৫১ দশমিক ২ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু ২৬ থেকে ৩০ জুলাই—এই চার দিনে যে দশজন মারা গেছেন, তাঁদের সাতজনই নারী।

একটি রিল, শিক্ষিকা বিউটি পাল এবং আমাদের সামাজিক অসুস্থতা
একটি রিল, শিক্ষিকা বিউটি পাল এবং আমাদের সামাজিক অসুস্থতা

একটি রিল, শিক্ষিকা বিউটি পাল এবং আমাদের সামাজিক অসুস্থতা

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল গত ২৩ জুলাই স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের আঙিনায় হেঁটে চলার একটি ভিডিও ধারণ করে সেটি রিল আকারে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। পটভূমিতে বাজছিল ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ পঙক্তিটি—ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের একটি কলি। এইটুকুই ছিল ঘটনা। কয়েক সেকেন্ডের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্ত, যা তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছিলেন। অথচ সেখান থেকে যা তৈরি হলো, তার পরিধি একজন ব্যক্তির রুচি বা পছন্দের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে আমাদের পুরো সামাজিক মানসের একটি অসুস্থ ছবি এঁকে দিল। আসল প্রশ্নটি তাই এখন আর ভিডিওটি নিয়ে নয়; প্রশ্নটি হলো, সেই ভিডিও ঘিরে আমরা যে প্রতিক্রিয়া দেখালাম, তার ভেতরে অসুখটা ঠিক কোথায় বাসা বেঁধে আছে।

কেপ ভার্দে: সাত সমুদ্রের ওপারে এক দ্বীপরাজ্যের রূপকথা
কেপ ভার্দে: সাত সমুদ্রের ওপারে এক দ্বীপরাজ্যের রূপকথা

কেপ ভার্দে: সাত সমুদ্রের ওপারে এক দ্বীপরাজ্যের রূপকথা

ঠাকুরমার ঝুলির গল্পগুলোয় প্রায়ই থাকে এমন এক রাজ্যের কথা, যেটা মানচিত্রে খুঁজে পাওয়াই কঠিন — চারদিকে অথই জল, মাঝখানে টুকরো টুকরো কয়েকটা দ্বীপ, আর সেখানে বাস করে এক মুঠো মানুষ, যাদের গল্প কেউ কোনোদিন শোনেনি। কেপ ভার্দের গল্পটাও অনেকটা তেমনই। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে ছয়শো কিলোমিটার দূরে আটলান্টিকের বুকে দশটা আগ্নেয়গিরি-জাত দ্বীপ নিয়ে গড়া এই রাজ্য, আয়তনে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট দেশ, জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম — সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের বাস, অথচ তাদেরই দ্বিগুণেরও বেশি সন্তান ছড়িয়ে আছে দুনিয়ার আনাচেকানাচে, রাজ্য ছেড়ে ভিনদেশে বসত গড়েছে বহুকাল আগে থেকেই। রূপকথায় যেমন রাজপুত্র রাজ্য ছেড়ে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দেয় ভাগ্যের সন্ধানে, কেপ ভার্দের মানুষও ঠিক তেমনই পাড়ি দিয়েছে দেশের পর দেশ — তবে রাজকুমারের মতো স্বেচ্ছায় নয়, বাঁচার তাগিদে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পতনের পর কোন পথে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পতনের পর কোন পথে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পতনের পর কোন পথে?

২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় ঘটনা হলো— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। যে কেন্দ্রে ২০২১ সালে তিনি ৭০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন, সেখানেই এই পরাজয় কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রতীকী অর্থেও অত্যন্ত গভীর।

ক্যামেরার সাক্ষী: রঘু রাই ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ক্যামেরার সাক্ষী: রঘু রাই ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

ক্যামেরার সাক্ষী: রঘু রাই ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

ইতিহাস লেখা হয় কলমে। কিন্তু কখনো কখনো একটি ছবি সেই কলমকেও নির্বাক করে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ফ্রেমবন্দী করার দুঃসাধ্য কাজটি করেছিলেন রঘু রাই — এবং সেই ছবিগুলোকে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক অসামান্য মহাকাব্যে। তাঁর ক্যামেরা শুধু মুহূর্ত ধারণ করেনি, ধারণ করেছিল একটি জাতির যন্ত্রণা, সংগ্রাম ও বিজয়ের সমগ্র আখ্যান।