নিবন্ধ
বিজুর অজানা কথা
'বিজুর অজানা কথা' বঙ্গীয় শব্দকোষ (শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়), বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ, ক্রিয়াভিত্তিক বর্ণার্থ বিধি (কলিম খান-রবি চক্রবর্তী) অনুসৃত বানান রীতিতে (যথাসম্ভবভাবে) সম্পাদিত।
বাংলার নববর্ষ: আদি উৎস থেকে আধুনিকতার বিশ্বায়ন
ইতিহাসের পাতায় কোনো জাতির পরিচয় ফুটে ওঠে তার উৎসবের রঙে। বাঙালির ক্ষেত্রে সেই রঙের নাম 'পহেলা বৈশাখ'। কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শুরু করে আজকের বিশ্বায়িত নাগরিক জীবন পর্যন্ত এই উৎসবের রূপান্তর ঘটেছে অসংখ্য বাঁক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।
পহেলা বৈশাখ; বাঙালি পরিচয়ের দ্বান্দ্বিক নির্মাণ
যখন কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় র্যালি করে, মাটির টেপা পুতুল কিংবা গলায় গুনগুন শুর ধরে, এসো হে বৈশাখ এসো এসো, এখন প্রশ্ন আসে এই উদযাপন রীতি এটা কি বাঙালির উৎসব নাকি হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি 'মুসলমানদে'র উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? দ্বিতীয় অভিযোগটি খুবই গুরুতর। বৈশাখের আগমনে এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আবর্তিত হয়। এর নির্যাস রয়েছে আমিত্ব, সংস্কৃতি, ধর্ম ইতিহাসের বোঝাপড়ার মধ্যে।
গজল থেকে পপ, বহুমাত্রিক প্রতিভায় কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে
বহুমুখী সংগীতের সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলেকে বলা হয় কুইন অব প্লেব্যাক সিংগার। ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্র সংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল, পপ ও আধুনিক ধারার গানে তার অসামান্য অবদান তাকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়ে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন।
অফিস সময় কমানোর জটিল অঙ্ক ও অবুঝ মনের ত্রিভুজ ভাবনা
দেশের নীতিনির্ধারকদের অন্দরমহল থেকে যখন কোনো ‘যুগান্তকারী’ সিদ্ধান্তের খবর আসে, তখন আমরা সাধারণ মানুষ খুশিতে গদগদ হব নাকি কপালে হাত দিয়ে বসে থাকব, তা বুঝতে বুঝতেই অর্ধেক দিন পার হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি কানে এল, জ্বালানি সাশ্রয় করার মহৎ উদ্দেশ্যে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করে দেওয়া হচ্ছে। আবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মলত্যাগ করতে হবে, মানে শপিংমল বা ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ করে দিতে হবে। খবরটা শুনে আমার ওই ‘বোকামন’টা কেন জানি খচখচ করছে। সমস্যাটা নাকি জ্বালানি তেল নিয়ে। কিন্তু অফিস সময় কম হলে বা শপিংমল বন্ধ করে দিলে ইমপ্যাক্টটা কোথায় কীভাবে পড়বে—এই গাণিতিক রহস্যটাই মেলাতে পারছি না। আমি অবশ্য অঙ্কে বরাবরই কাঁচা, বয়স বাড়লেও মাথাটা আর পাকল না!
নাসার আর্টেমিস-২: ৫৩ বছর পর কেন চাঁদে ফিরছে মানুষ?
প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক পর আবারও চাঁদের পথে পা বাড়ালো মানুষ। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারীকে নিয়ে ওরিয়ন মহাকাশযানটি উড়ে গেছে চাঁদের উদ্দেশ্যে। তাদের ১০ দিনের যাত্রা শেষে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা।
পালপিট রক: যেখানে দাঁড়ালে মনে হবে পৃথিবী এখানেই শেষ!
কল্পনা করুন, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৯৮২ ফুট (৬০৪ মিটার) উঁচুতে একটি সমতল পাথরের ওপর। যার চারপাশে নেই কোনো রেলিং বা নিরাপত্তা বেষ্টনী। সামনে শুধু দিগন্তজোড়া পাহাড় আর পায়ের নিচে নীল জলাশয় বা ফিওর্ড। নরওয়ের প্রাইকেস্টোলেন বা পালপিট রক ঠিক এমনই এক শিহরণ জাগানিয়া জায়গা, যা সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: সামলাতে সরকারের ৭ পদক্ষেপ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে পারে বাংলাদেশ, এমনটিই বলা হয়েছে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে। ঢাকায় ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতির প্রভাব স্পষ্ট। পেট্রল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত কার্যক্রমের পরামর্শ দেয়া হয়েছে, এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দিনের বেলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে গণপরিবহন কমে গেছে, ডেলিভারি কর্মীরা বসে থাকছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর স্বাভাবিক জীবন প্রায় থমকে গেছে।
দেশেই উৎপাদন হয় পেট্রোল-অকটেন, তবু কেন শঙ্কট?
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, আর এই চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে শিল্পায়ন, পরিবহন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং নগরায়নের প্রভাব। দেশে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ পাম্পে এর তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেনের এমন টালমাটাল পরিস্থিতি তা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয়। তাবে বাস্তবে এই সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ সমস্যার ফল নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
রাজশাহীর হাম বিপর্যয়: আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা নাকি কাঠামোগত সহিংসতা
হাম — চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি অত্যন্ত সংক্রামক, কিন্তু শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য একটি ভাইরাস। তবে রাজশাহীর বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শব্দটি আর কেবল একটি ক্লিনিক্যাল পরিভাষায় সীমাবদ্ধ নেই— এটি হয়ে উঠেছে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যর্থতার জীবন্ত দলিল। গত দেড় মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এই রোগের জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে ৫৩টিরও বেশি শিশু। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস এবং দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র দুই সপ্তাহেই হামের গ্রাসে হারিয়ে গেছে ৪৪টি প্রাণ। আর এই লেখাটি চূড়ান্ত হওয়ার আগের মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় আইসিইউর দীর্ঘ সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে করতে নিভে গেছে আরও ৩টি নিষ্পাপ শিশুর জীবনপ্রদীপ।
