নিবন্ধ
পদোন্নতির পরশপাথর: অবসর, অপসারণ ও অমর প্রশাসনিক কৃপাকাহিনি!
বাংলা ভাষায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রহিয়াছে-'শেষ ভালো যাহার, সব ভালো তাহার।' কিন্তু আমাদের প্রশাসনিক বাস্তবতায় ইহার একটি নব সংস্করণ প্রচলিত হইতে পারে-'শেষে পদোন্নতি যাহার, তাহার অতীতের হিসাব আর কাহার?' কারণ, যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ, কর্মদক্ষতা কিংবা শৃঙ্খলা-এই সকল শব্দ যেন ক্রমশ অভিধানের অলংকারে পরিণত হইতেছে; বাস্তবের প্রশাসনে তাহাদের স্থান দখল করিয়াছে এক রহস্যময় পরশপাথর, যাহার স্পর্শে অবসরও নবজীবন লাভ করে, চাকুরিচ্যুতিও পদোন্নতির সিঁড়ি হইয়া উঠে।
বন্যায় যেন থেমে না যায় শিশুর শিক্ষা
বাংলাদেশের মানুষ বন্যার সঙ্গে পরিচিত। বর্ষা এলেই নদী ফুলে ওঠে, চর ডুবে যায়, সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়, হাজারো পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়। কিন্তু এই পরিচিত দৃশ্যের আড়ালে প্রতিবছর আরেকটি নীরব বিপর্যয় ঘটে, যার দিকে তুলনামূলকভাবে কম নজর দেওয়া হয়। সেটা হলো শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়া। কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের জন্য বিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতি শুধু পাঠ্যসূচির নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি প্রজন্মের শেখার সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, ফাঁসির দণ্ড আর বিচারিক গোলকধাঁধা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের একটি মন্তব্য। গত রোববার তিনি বলেছেন, `শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরতে কোনো আইনগত বাধা নেই; বরং রাষ্ট্রপক্ষ চায় তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হোন এবং নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় আইনি প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ করুন।‘ তার এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—দেশে ফেরার পথ যদি আইনগতভাবে খোলা থাকে, তাহলে তার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড, হাইকোর্টে অপেক্ষমাণ ডেথ রেফারেন্স, সম্ভাব্য আপিল, বিভিন্ন আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সারা দেশে দায়ের হওয়া কয়েকশ মামলার জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কীভাবে এগোবে তার আইনি লড়াই? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন দৃষ্টি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দিকে।
জ্ঞানচর্চায় অভিভাবক হারাল বাংলাদেশ
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক চলে গেলেন। ভিউজ বাংলাদেশ অভিভাবক-তুল্য শ্রদ্ধেয়-জনকে হারাল। ভিউজ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি আমাদের অফুরন্ত প্রেরণার উৎস ছিলেন। নিয়মিত কলাম লিখেছেন ভিউজ বাংলাদেশে। তার একান্ত সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছি আমরা। যেখানে তিনি খোলামেলাভাবে রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। ভিউজ বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। তার প্রয়াণে ভিউজ বাংলাদেশ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
এমআরএ’র নতুন শর্তে হুমকিতে শতশত ক্ষুদ্র এনজিও
বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর সংস্থাটির শীর্ষ পদে আইন লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন নীতিমালায় এমন শর্ত আরোপ করা হচ্ছে, যা কার্যত ক্ষুদ্র এনজিওগুলোকে বন্ধ করে দিয়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের প্রচেষ্টায় সেই নীতিমালা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত এব্যাপারে কোন প্রজ্ঞাপন জারি হয় নি।
আলোকের কারিগর মুস্তফা মনোয়ার
বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে আধুনিক ও জনপ্রিয় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বুঝেছিলেন, শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশে এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদানে পাপেট একটি অসাধারণ মাধ্যম। তাঁর নির্মিত ও পরিকল্পিত পাপেট অনুষ্ঠানগুলো কেবল বিনোদনের উপকরণ ছিল না; বরং সেগুলো ছিল মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, নান্দনিকতা ও শিক্ষার সৃজনশীল পাঠশালা। আজও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ শৈশবের স্মৃতিতে তাঁর পাপেট চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের আবিষ্কার করেন। সেই স্মৃতিগুলোই প্রমাণ করে, একজন শিল্পী কেবল শিল্প নির্মাণ করেন না; তিনি মানুষের অনুভূতির ভুবনও নির্মাণ করেন।
ভূরাজনীতির নতুন মানচিত্রে বাংলাদেশ: আত্মমর্যাদা, বাস্তববাদ ও কূটনীতির নতুন অধ্যায়
একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রকৃত পরীক্ষা হয় সে কাকে বিরোধিতা করছে, তা দিয়ে নয়; বরং কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিজের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিতে পারছে, তা দিয়ে।
হামের ‘কামড়’ কি শুধুই অবহেলা, নাকি আমাদের ঘুম ভাঙানিয়া ডাক?
ভেবেছিলাম শত্রুকে আমরা চিরতরে কুপোকাত করে মাঠ থেকে তাড়িয়েছি। পোলিও আর ধনুষ্টঙ্কারের পর 'হাম' নামের যে পুরনো শত্রুটিকে আমরা প্রায় বিদায় জানিয়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটছিলাম, সে যে এত তাড়াতাড়ি গোপনে শক্তি সঞ্চয় করে এমন মরণকামড় দেবে, তা বোধহয় কেউ ভাবেনি। এনজিওতে সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে কাজ করার সুবাদে প্রতিদিন মাঠপর্যায়ের নানা তথ্যে আমাদের চোখ রাখতে হয়, ভাবনায় মন রাঙ্গাতে হয় বা ব্যথায় ভারাক্রান্ত হতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় যখন দেখছি যে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় লাখ ছুঁইছুঁই, তখন বুকের ভেতরটা সত্যি কেঁপে ওঠে। আমরা যারা শিশুদের অধিকার আর সুস্থ জীবন নিয়ে মাঠে রাতদিন এক করি, আমাদের জন্য এটি শুধু আশঙ্কার নয়, রীতিমতো আতঙ্কের!
শিশুদের খাবারে বিষাদ: স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সংকট ও উত্তরণের পথ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা আবারও আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে ধরেছে- যে কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার কথা, সেটাই কেন বারবার তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
নিমতলি ট্র্যাজেডির ১৬ বছর, পোড়া দাগ মুছে গেলেও সারেনি ক্ষত
২০১০ সালের ৩ জুন। ঘড়ির কাটায় রাত ৯টা বাজতে আর কিছুক্ষণ বাকি। তখনও বেশ জমজমাট পুরান ঢাকার অলিগলি। আর ঠিক সেসময়ই ঘটে যায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক অগ্নি দুর্ঘটনা। যে ঘটনায় ঝরে যায় ৭২টি পরিবারের ১২৪ তাজা প্রাণ। আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ভয়ানক সে দিনে নির্মম এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল দেশবাসী। আপনজনকে চোখের সামনে পুড়তে দেখেছেন অনেকেই।