নিবন্ধ
নিমতলি ট্র্যাজেডির ১৬ বছর, পোড়া দাগ মুছে গেলেও সারেনি ক্ষত
২০১০ সালের ৩ জুন। ঘড়ির কাটায় রাত ৯টা বাজতে আর কিছুক্ষণ বাকি। তখনও বেশ জমজমাট পুরান ঢাকার অলিগলি। আর ঠিক সেসময়ই ঘটে যায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক অগ্নি দুর্ঘটনা। যে ঘটনায় ঝরে যায় ৭২টি পরিবারের ১২৪ তাজা প্রাণ। আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ভয়ানক সে দিনে নির্মম এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল দেশবাসী। আপনজনকে চোখের সামনে পুড়তে দেখেছেন অনেকেই।
তোফায়েল আহমেদ: স্বাধীনতার ইতিহাসের সংগ্রামী প্রতিধ্বনি
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস কেবল একটি ভূখণ্ডের জন্মকাহিনি নয়; এটি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অসীম ত্যাগ, অদম্য সাহস এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের গৌরবময় অধ্যায়। এই ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে জড়িয়ে আছে অসংখ্য বীর, যাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদান ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেত না। তাঁদেরই একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন- তিনি তোফায়েল আহমেদ।
'বঙ্গবন্ধু' উপাধির রূপকার তোফায়েল আহমেদ
উত্তাল ষাটের দশক! ফেব্রুয়ারি মাসের সন্ধ্যা বেলা রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের গগনবিদারী কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটি। যে উপাধি আজও বাঙ্গালির হৃদয়ে চির অমর, চির উজ্জ্বল— সেই উপাধির রূপকার ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
ঈদ ও আধ্যাত্মিকতা
বাহ্যিক উৎসব থেকে অন্তরের জাগরণ। ঈদ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি কেবল বাহ্যিক আনন্দ, ভোজ বা সামাজিক মিলনের আড়ম্ভরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূলত ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এর আধ্যাত্মিক শিক্ষায়, যা মানুষের অন্তরকে শুদ্ধ করে, নৈতিকতা জাগ্রত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে; যাতে আত্মদর্শনের অনাবিল আনন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় সাধক বা ব্যক্তিচিত্তে। ইসলামে প্রচলিত দুটি ঈদ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—উভয়ই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও একই লক্ষ্যের দিকে আহ্বান জানায়—আত্মসংযম, আত্মসমর্পণ ও আত্ম-উপলদ্ধি।
কোরবানির শিক্ষা : আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা
ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু কুরবানী—যা কেবল পশু জবাইয়ের একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির এক অনন্য প্রতীক। কুরবানীর প্রকৃত শিক্ষা হলো মানুষের ভেতরের লোভ, হিংসা, অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতাকে পরিত্যাগ করা এবং মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করা।
সাদাকালো টিভির দিনগুলোতে রঙিন ঈদ আয়োজন
আমাদের ছেলেবেলার জীবনটা ছিল সত্যিই সাদামাটা কিন্তু আনন্দময়। এ সময়ের মতো এত এত বিনোদন মাধ্যম তখন ছিল না। শুধু ছিল বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। টেলিভিশন সেটগুলো ছিল সাদাকালো, পর্দা ছিল ১৪ ইঞ্চি, ১৭ ইঞ্চি ও ২০ ইঞ্চির। এর চেয়ে বড় টিভি সেট কারও ঘরেই দেখিনি সে সময়। কিন্তু আমাদের দেখা টিভি অনুষ্ঠানগুলো সাদাকালোয় দেখলেও আনন্দগুলো ছিল বেশ রঙিন। যে যুগের টিভির ঈদযাপনের কথা লিখছি, সে সময় ছিল না রঙিন টিভি, ভিসিআর, এইচডি টিভি, কম্পিউজার, ডিভিডি কিংবা ইউটিউব। ছিল একমাত্র সবেধন নীলমণি বিটিভি। বেশির ভাগ গ্রামে তখনও ইলেকট্রিসিটি আসেনি। কিন্তু আমাদের সময় চট্টগ্রামের রাউজান গ্রামে ছিল ইলেকট্রিসিটি। আমরা টিভি দেখা শুরু করি ১৯৮০ সাল থেকে যতদূর মনে পড়ে। সম্ভবত বিকেল বেলা বিটিভি সম্প্রচার শুরু হতো আর শেষ হতো রাত ১২টায়। শুরু হতো জাতীয় সংগীত দিয়ে, শেষও হতো জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত বাজিয়ে।
হাতে কাটা সেমাই থেকে অ্যারাবিয়ান কুনাফা, বাঙালির ঈদ-খাবারের বিবর্তন
ঈদের সকাল মানেই বাতাসে ভেসে আসা মিষ্টি সুবাস। নতুন জামা, আতরের গন্ধ আর পরিবার-পরিজন মিলে একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া, প্রতিবেশী, আত্মীয়ের বাড়ি ঘোরাঘুরিই বাঙালির ঈদ।
রামিসা নেই: ভেতরটা যেন এক হিমশীতল অন্ধকারে ডুবে আছে
মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির সেই চেনা শ্রেণিকক্ষটিতে আজ কোনো কোলাহল নেই। বাইরে তপ্ত রোদ, অথচ ঘরের ভেতরটা যেন এক থমথমে, হিমশীতল অন্ধকারে ডুবে আছে। যে বেঞ্চটিতে বসে প্রতিদিন ক্লাসের রোল নম্বর ‘এক’—রামিসা পরম মায়ায় তার বই খাতা মেলতো, সেই কাষ্ঠখণ্ডটি আজ বড় বেশি একা, বড় বেশি স্তব্ধ। প্লে আর কেজিতে দ্বিতীয় হওয়ার পর যে ফুটফুটে মেয়েটি প্রথম শ্রেণিতে নিজের মেধার প্রতিভায় প্রথম হয়েছিল, আজ তার মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ স্কুল থেকে পাওয়া ট্রফিগুলো ঘরের কোণে শোভা পাচ্ছে।
উত্তাল বিশ্ব, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একটি রোমাঞ্চকর খেলা: বিশ্বকাপের শুরুটা যেভাবে
বিশ্বকাপ ফুটবল— “দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ”। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর। কিন্তু প্রায় একশ বছর আগে, এই টুর্নামেন্টের অস্তিত্বই ছিল না। সেকালে ফুটবলে বিশ্বসেরা নির্ধারণের একমাত্র মঞ্চ ছিল অলিম্পিক গেমস। এই খেলাটির প্রতি সারাবিশ্বের মানুষের ব্যাপক সাড়া দেখে ফিফা'র তৎকালীন এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট জুলে রিমের (Jules Rimet) মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল; ‘ফুটবলের জনপ্রিয়তা যদি এতই বেশি, তাহলে এর নিজের আলাদা বিশ্বমঞ্চ থাকবে না কেন?’ সেই ভাবনা থেকেই শুরু। ১৯২৮ সালে ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতি চার বছর পর পর আয়োজন করা হবে একেবারে নতুন এক টুর্নামেন্ট; শুধু ফুটবলের জন্য, ফুটবল ভক্তদের জন্য এবং শুধু ফুটবল খেলা জাতীয় দলগুলোর জন্য। তখনও কেউ জানত না, ফুটবল একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হবে।
মা শুধু একটি দিনের নয়, মা রঙিন হওয়ার অধিকার রাখেন
মা দিবস এলেই চারপাশ যেন হঠাৎ আবেগে ভরে ওঠে। সর্বত্র শুধু মায়ের আত্মত্যাগের গল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে অসংখ্য স্ট্যাটাস, ছবির নিচে ভালোবাসার লাইন, মূলধারার মিডিয়ায় বিশেষ আয়োজন—সব মিলিয়ে এক আলাদা আবহ। বাজারে কার্ড, ফুল, উপহার আর মাকে খুশি করার নানান আয়োজন।
