সম্পাদকীয়
এই লজ্জার দায় কার?
প্রথমেই বলি, এ লজ্জার দায় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের। আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের কথা বলব না, বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের জন্য প্রধানত দায় সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের। কিন্তু লজ্জাজনক হচ্ছে তারা দায় নেন না, দায়িত্বও স্বীকার করেন না। মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটেই রাজনীতিবিদদের দায়ী করছি। চট করে এর জবাব দিয়ে বলা হবে, ‘রাজনীতিবিদরা কি ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের পাহারা দেবেন?’
প্লিজ, আমাদের শিশুদের বাঁচান
আমরা যারা বার্তাকক্ষে বসে প্রতিদিন খবর লিখি, সম্পাদনা করি, তাদের কাছে মৃত্যু সংবাদ অনেকটাই সহনীয়। আর দশটা বিষয়ের খবরের মতো শুধু একটা খবর হয়ে যায়। স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা খুব কমই খবর হয়। যদি কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি মারা যান, শুধুমাত্র তখনই স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বড় রিপোর্ট হয়। মৃত্যু সংবাদের পাশাপাশি অসংখ্য শোকবার্তা আসে। দশ বাক্যের মৃত্যু সংবাদের সঙ্গে পঞ্চাশ বাক্যের শোকবার্তা যোগ করা হয়।
‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’: যুক্তরাষ্ট্রের পতন ও চীনের উত্থান
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই যেতে হল বেইজিংয়ে। কারন বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমাগত মিত্রহীন হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সামনে আর কোন উপায় ছিল না। স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অমাবস্যার আঁধার ক্রমাগত দানা বাঁধতে শুরু করেছিল জো বাইডেনের শাসনামল থেকেই। অতি সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের পর ওয়াশিংটনের আকাশে সেই অন্ধকার যখন ঘনীভূত হচ্ছে, নতুন সূর্যের আলো তখন পূবের আদি সভ্যতার বৃহত্তম ভূমি বেইজিং-এর আকাশ থেকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
তৃতীয় টার্মিনাল: ‘টু-পাইসে’র জন্য অপ্রয়োজনীয় ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প?
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের দায়িত্ব যেহেতু বেবিচকের (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) হাতে, সে কারণে তাদের নামটাই শিরোনামে এসেছে। কিন্তু এর আগেও একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ একই ধরনের মূর্খতার ভান করেছে এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে সরকারের ওপর মহলের কঠোর নির্দেশে সচেতন হয়েছে। তবে এবার একটু ব্যতিক্রম। কারণ বেবিচকের কর্তা-ব্যক্তিদের সচেতন করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্যয় নির্ধারণ করেছে ৪৮ কোটি টাকা!
বাসের অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা বানচালের ষড়যন্ত্র!
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী গত ১৫ মার্চ সহজ ডট কম থেকে হানিফ পরিবহনের একটি টিকেট কিনেছিলেন ১৯ মার্চ রাত সাড়ে ন’টার ট্রিপে নওগাঁ ভ্রমণের জন্য। কিন্তু ১৯ মার্চ সকাল ৮টায় তিনি সহজ ডট কম থেকে রাত সাড়ে ন’টার হানিফ পরিবহনের ওই ট্রিপ বাতিলের নোটিশ পান।
‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’কে প্রাধান্য দিয়ে নীতিমালা তৈরি করতে হবে
সম্প্রতি ফ্রান্স সরকার সরকারি দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুম কিংবা মাইক্রোসফটের মিট কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য ‘অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সিং প্লাটফরম’ ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সিদ্ধান্তে বলা হয়, ফ্রান্স ২০২৭ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিদেশি অন্য কোনো রাষ্ট্রের ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার ব্যবহার থেকে সেরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায় থেকেই সরে আসতে চায়। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, ওই প্লাটফরমগুলোতে অসংখ্য সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং সেই আলোচনার ডাটা যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে যা ফ্রান্সের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করছে।
তারেক রহমান, চাটুকার থেকে সাবধান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছেন। কারন তিনি দু’এক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনে দলের এমন বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের সরকার প্রধান হওয়ার এই শুভক্ষণে আমরাও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাব, তবে তার তাগে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তাকে জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্মরণ করিয়ে দেওয়াকে নিজের কর্তব্য বলে মনে করছি। কারন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের আর কোন সরকার প্রধানকে সরকারের মেয়াদ শেষে ‘অসম্মানিত’ চরিত্র হিসেবে দেখতে চাইনা। জানি আজকের দিনে এসব বিষয় ভালোলাগার কথা নয়। আজকের দিনে প্রশংসা বাক্য শুনতেই খুব বেশি ভাল লাগবে। তবুও কিছু ভিন্ন কথা শোনাতে চাই, কারন নিমোর্হভাবে সত্য তুলে ধরাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।
থুতু ফেলা নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ কেন?
জাতি হিসেবে যে আমরা দিন দিন অধঃপতনের দিকে যাচ্ছি তার সর্বশেষ নজির থুতু ফেলা নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এমন আরও অনেক ঘটনা দেখা যাচ্ছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর সংঘর্ষ লেগে যাচ্ছে এবং তাতে করে অনেকের প্রাণহানিও হচ্ছে। লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন এই কিছুদিন আগে; কিন্তু সাধারণ জনগণ যা করতে পারে তা কি করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। সমাজের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মানের চোখে দেখে, সেই সম্মান তারা রাখছে কোথায়?
আলু ব্যবসায়ীদের বাজারজাতকরণে সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করুন
যে কোনো ব্যবসায়ই একটা মানবসেবা এবং তার সঙ্গে নীতিনৈতিকতা সম্পর্কিত; কিন্তু যুগে যুগে দেশে দেশে দেখা গেছে অতিরিক্ত লাভের আশায় অনেক ব্যবসায়ী অসাধু প্রক্রিয়ার অংশ নেন। আখেরে তারা ক্ষতি করেন নিজেরই। লাভের বদলে তারা লোকসানের মুখ দেখেন। এতে করে তাদের নিজেদেরও যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ক্ষতি হয় জনসাধারণেরও। কারণ যে কোনো পণ্যের সঙ্গেই একটি জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত।
ঢাবি ভাসমান হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ নয়
ভাসমান হকারদের ভিড় শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা ঢাকা শহরের জন্যই এক করুণ নিয়তি। গ্রামাঞ্চলে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই বলে অসহায় মানুষগুলো রাজধানীতে এসে ভিড় করেন। যে যা পারেন তাই করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। সহজ পন্থা, কোনো ছোটখাটো ব্যবসা, যাকে আমরা ভাসমান হকার বলেই চিহ্নিত করে থাকি।
