Views Bangladesh Logo

এই লজ্জার দায় কার?

Rased Mehedi

রাশেদ মেহেদী

প্রথমেই বলি, এ লজ্জার দায় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের। আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের কথা বলব না, বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের জন্য প্রধানত দায় সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের। কিন্তু লজ্জাজনক হচ্ছে তারা দায় নেন না, দায়িত্বও স্বীকার করেন না। ‍মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটেই রাজনীতিবিদদের দায়ী করছি। চট করে এর জবাব দিয়ে বলা হবে, ‘রাজনীতিবিদরা কি ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের পাহারা দেবেন?’ সভ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ঘরে ঘরে গিয়ে পাহারা দিতে হয় না, রাষ্ট্রীয় রীতি ও নাগরিকবোধ সম্পন্ন শিক্ষিত-সচেতন মানুষ তৈরি করা হলে তারাই নিজেদের বিবেকের পাহারাদার হয়ে যায়। এর জবাবেও বলা হবে শিক্ষিত মানুষ কি অপরাধ করে না? অবশ্যই করে, কিন্তু কথা কথায় শারীরিক হামলা বা আক্রমণ করার মতো হিংস্রতা সত্যিকারের শিক্ষিত মানুষ দেখায় না।


এখানেই আমাদের দুর্ভাগ্য, এখানেই আমাদের রাজনীতিবিদদের নির্লজ্জ ব্যর্থতা। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্ভবত, এই মুহুর্তে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোর অন্যতম বলা যায়। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রমাগত ডিগ্রীধারী বিকৃত রুচির, হিংস্র, যুক্তিহীন, অবিবেচক মানুষ তৈরি হচ্ছে। এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আমরা আছি যেটা সত্যিকারের ন্যায়-অন্যায়, সুন্দর-অসুন্দরের পার্থক্য করতে শেখায় না। আর এই নষ্ট শিক্ষা ব্যবস্থাই সোহেল রানার মতো ভয়ংকর ধর্ষক, খুনীদের জন্ম দিচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বাংলাদেশে সুস্থ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যর্থতা অবশ্যই রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে।

অনেকে দারিদ্র্যের কথা বলবেন, সামাজিক মূল্যবোধ না থাকার কথা বলবেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আগ্রাসনের কথা বলবেন, অনলাইনে পর্ণো ছবির দাপটের উদাহরণ দেবেন বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়িয়ে। কিন্তু হাতের পাশেই জ্বলজ্বলে উদাহরণ আছে শ্রীলংকা, সেদিকে তাকাবেন না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকায় শিক্ষার হার সবচেয়ে বেশী, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত ও সভ্য। যে কারণে সে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও মানুষগুলো চট করে মানসিকভাবে দরিদ্র হয়ে পড়ে না। সে দেশেও আন্দোলন হয়, তবে গন্ডায় গন্ডায় বাড়ি-ঘর, স্থাপনা ধ্বংস করা হয় না। রাজা পাকসের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, তার বাড়ির ভেতরে আন্দোলনকারীরা ঢুকেছে কিন্তু একটি বস্তুও সেই শত শত মানুষের কেউ চুরি করেনি, লুট করে নিয়ে যায়নি। রাজা পাকসের আন্ডার-ওয়্যার গেঞ্জি নিয়ে রাজপথে মিছিল করেনি। ওই আন্দোলনে একজন এমপির ওপর হামলার ঘটনায় সে দেশে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা সরকারই আন্দোলনের ভেতরে থাকা বিপথগামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, আদালত শাস্তি দিয়েছে।

শ্রীলংকায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার হার, যারা একটি সুস্থ শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শিক্ষিত হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে আর স্টাডিরুমে বেশী সময় দেন, আমাদের দেশের শিক্ষকদের মতো একটা হলের হাউস টিউটর হওয়ার জন্য লালায়িত থাকেন না। শ্রীলংকায় শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তি নেই। যে কারণে শ্রীলংকায় আন্দোলনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক হয়ে যায়, সবাই ক্লাসরুমে ফিরে যায়। আর আমাদের দেশে অটোপাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের ভেতর থেকে সুবিধাভোগী একটা অংশ তৈরি করে দ্রততম সময়ে এমপি-মন্ত্রী বানিয়ে দেশকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও ভয়ংকর রাজনৈতিক নষ্টামির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেউ কেউ আবার নেপেথ্যে থেকেও ক্ষান্ত হন না, বরং নিজেদের সৃষ্টি করা সুবিধাভোগীদের সঙ্গে পাশের চেয়ারে বসে নষ্টামির ‘আপগ্রেডেড’ কায়দা-কানুন শেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।


শুধু শ্রীলংকা নয়, ভারত নয়, যারা পাকিস্তানকে উদাহরণ হিসেবে সামনে আনলে বিশেষ পুলক অনুভব করেন, তারাও পাকিস্তানের দিকে ভালো করে তাকান। পাকিস্তানেও আমাদের দেশের মতো এত নষ্ট বিভাজিত শিক্ষা ব্যবস্থা নেই, এত নোংরা শিক্ষক রাজনীতি এবং নষ্ট শিক্ষা প্রশাসন নেই। যে কারণে দুবাই-দোহা বিমানবন্দরে যখন পাকিস্তানের শিক্ষিত নাগরিকরা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনে করে, তখন বাংলাদেশি অদক্ষ শ্রমিকরা তাদের অধীনে বাথরুম পরিস্কারের কাজ খোঁজে!

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাজনৈতিক দলের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মী হিসেবে স্বীকৃতিকেই নিজের সেরা অর্জন মনে করেন। যে কারণে বিভিন্ন সরকারের আমলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যদের মধ্যে দু’একজন মাত্র কখনও কখনও উপাচার্য হয়ে উঠেছেন। বাকীরা পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র, তাদের মূল কাজ হচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের লেজুড় ছাত্র সংগঠনের গুন্ড-মস্তানদের সব ধরনের অপকর্ম করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এমনকি অন্তববর্তী সরকারের আমলেও উপচার্য মহোদয়দের সেই রাজনৈতিক লেজুড় বৃত্তির সক্রিয় ভূমিকাতেই দেখা গেছে। একটা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা যখন সামগ্রিকভাবে ব্যক্তিত্বহীন হয়ে পড়ে, সে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়। আমাদের দেশে সেই অবস্থাই চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বার বার তারা সবাই সে সময়ের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়েও দেখেছি, ধর্ষকদের বিচারেও সবচেয়ে বড় বাধা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অনুগত ‘রাজনৈতিক চরিত্রহীন’ শিক্ষকরা এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসন। যে দেশে শিক্ষকদের বড় অংশই প্রকৃত শিক্ষিত নন এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হওয়ার বিকৃত মানসিকতার চর্চা করেন, সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধুমাত্র ডিগ্রীধারী বের হয়, শিক্ষিত মানুষ নয়! সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধর্ষককে দেখা গেল সেও সাভারের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বড় সাগরেদ বলে জানা যাচ্ছে। যে কারণে তাকে শিক্ষক পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের ভেতরে পেয়েও আটকে রাখতে ব্যর্থ হয়, পুলিশও ধরে না! প্রকৃতপক্ষে সামগ্রিকভাবে আমাদের নষ্ট শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বত্র ধর্ষকামী মানসিকতার জন্ম দিচ্ছে। এই ধর্ষকামী মানসিকতার ব্যক্তিরাই সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ঘরের পাশেই সোহেল রানার মতো ভয়ংকর ধর্ষকরা মুখোশ পড়ে বসে থাকে, আমরা টের পাই না।

মিরপুরের ঘটনার পর ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টের নীচে মন্তব্যগুলো দেখুন। ছোট্ট রাইসার পোশক নিয়ে যারা জঘন্য, রুচিহীন মন্তব্য করেছেন, তারা কি সোহেল রানার মতোই ধর্ষকামী মানসিকতার নন? তারা কোন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উঠে এসেছে? ওই রুচিহীন মন্তব্যকারীদের পোশাক এবং চেহারার ধরনই তারা কোন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উঠে এসেছে, তার পরিচয় তুলে ধরছে। কিন্তু এটাই দুর্ভাগ্য সেই ধর্ষকামী মন্তব্যকারীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না, তাদের শিক্ষার ত্রুটি নিয়ে কথা বলা যাবে না, তাদের মানসিক বিকৃতি নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, তাদের সুস্থ মানসিকতায় ফিরিয়ে আনতে কোনো পদেক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা করা যাবে না। আলোচনা তুললেই এই বিকৃত চর্চার সুফলভোগী কিছু ভণ্ড রাজনৈতিক নেতৃত্ব একদল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে উস্কে দেবে, এরপর দলবল নিয়ে আপনাকে আক্রমণ করতে ছুটে আসবে। প্রগতিশীল দাবিদার রাজনৈতিক দলের নেতারা তখন বিমূর্ত কবিতা লিখে বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজেদের সান্ত্বনা দেবেন, আর প্রতিক্রিয়াশীল প্রকৃতির রাজনৈতিক দলের নেতারা সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আরও বেশী ঘৃনা-বিদ্বেষের বিষ ছড়াতে উস্কানি দেবেন, যত উস্কানি তত ভোটব্যাংক সুরক্ষিত হবে!

পৃথিবীর সব দেশেই শিশু নির্যাতনকে সবচেয়ে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। আর আমাদের দেশে তিন বছরের শিশুকে পর্যন্ত মামলার আসামি করে আদালতে তোলার বিষয়টিও আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। রাস্তায় পুলিশ কর্তৃক শিশুর কলার চেপে ধরে নির্যাতন করার ঘটনাও বেশ স্বাভাবিক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তুচ্ছ কারণে গন্ডায় গন্ডায় শিশুকে জেলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করেন না! আবার শিশু অধিকার নিয়ে কথা বললে প্রশাসনের পদস্থ ব্যক্তিরা মুখ বাঁকিয়ে ফেলেন, ‘এভাবে কো আর কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না’! অথচ কিশোর গ্যাং যে কিছু নোংরা রাজনীতিবিদরাই তৈরি করেন এবং পোষেণ সে কথা প্রশাসনের সবাই জানে, সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও জানেন। আমাদের অতি দাম্ভিক প্রশাসন কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ব্যর্থ, কিন্তু ছয় মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাকে সাধারণ একটা মামলায় জেলে পাঠানোর ক্ষেত্রে খুবই দক্ষ!

এই যে দেখুন, ড.মুহম্মদ ইউনুসের সরকার শিশুদের টিকা নিয়ে পর্যন্ত ব্যবসা করতে গিয়ে যে বিশাল সংকটের জন্ম দিল, তার বলি হচ্ছে নিস্পাপ শিশুরাই। হাম রোগটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। সেই রোগটিকে আবারও ফিরিয়ে আনল অন্তবর্তী সরকার, এত শিশুর মৃত্যু চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। এর পরিণাম অনেক ভয়বাহ হতে বাধ্য। দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রজন্ম নানা রকম শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকার আশঙ্কা প্রবল হয়। বাংলাদেশে শিক্ষিত মানুষের কত অভাব, তার প্রমাণ হাম আবারও প্রায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা থেকে প্রমাণিত হলো। ড.ইউনুস সরকারের চারপাশে সব পিএইডডি ডিগ্রীধারীরা ছিলেন। তাদের একজনও হামের টিকায় শিশুমৃত্যু নিয়ে কোনো কথাই বললেন না। নিজেদের ভুল স্বীকার করার মহত্ত্বের কথা তারাই এক সময় প্রচার করেছেন। অথচ এখন নিজেদের বেলায় তাদের মুখোশ খুলে পড়েছে। এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরা কি সত্যিই শিক্ষিত মানুষ? না’কি নিছকই মতলবাজ, সুবিধাভোগী, জ্ঞানপাপী একটি চরিত্র?

সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, বিগত অন্তবর্তী সরকারের সময়ে দেশে বিকৃত রুচির চর্চা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। যত রকম নষ্টামি, হিংস্রতা আছে তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের নামে কৌশলে ‘ডেমোক্রেসি’র পরিবর্তে হিপোক্রেসিকে রাষ্ট্রীয় নীতির মর্যাদায় নিয়ে আসার অপচেষ্টা করা হয়েছে। মবতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে হিংস্রভাবে খুন করাকে নিজেদের অধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে! এই বিকৃতি রুচির চর্চার প্রতি বিগত অন্তবর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন দেশকে দীর্ঘমেয়াদে চরম বিকৃতি চর্চার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত যতটুকু নীতি-আদর্শ, মননশীলতা চর্চার ক্ষেত্র ছিল সেগুলোও একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে ড.মুহম্মদের অন্তবর্তী সরকার। অন্তবর্তী সরকারের আমলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নির্মূল করে ফেলা হয়েছে। নির্ধারিত কারিকুলামের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড খেলাধুলা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য জরুরি। কিন্তু সেগুলো আর নেই। ফলে বিকৃতির এই চর্চার লাগাম টেনে ধরা আজকের এবং আগামীর সরকারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের প্রতি অনুরোধ, সবার আগে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবুন। প্রতিবেশী দেশগুলো কিভাবে শিক্ষায় অভাবনীয় অগ্রগতি করছে, সেগুলো পর্যালোচনা করুন। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ছাড়া এ দেশকে কোনোভাবেই, কোনো সংস্কার কমিশন দিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি করুন, রুচিশীল বিনোদেনের ক্ষেত্র বিস্তৃত করুন। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বিকৃতি চর্চার অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হতে পারে না। এ মাটি আমার সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও প্রকৃত মানুষ হওয়ার উর্বর ভূমিতে পরিণত করার শপথ নেই রামিসার বাবা-মায়ের হাতে হাত রেখে।

রাশেদ মেহেদী, সম্পাদক, ভিউজ বাংলাদেশ

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ