শিল্প ও সংস্কৃতি
ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান: রাষ্ট্রপতি পদকে নতুন চোখে দেখার প্রয়াস
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে জনমনে এক ধরনের দ্বৈত ধারণা রয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী; অন্যদিকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় তাঁর ক্ষমতা সংবিধান ও রীতিনীতির দ্বারা সীমাবদ্ধ। এই আপাত বৈপরীত্যকে কেন্দ্র করেই অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিনের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি: সংবিধান, প্রথা, বাস্তবতা গ্রন্থের নির্মাণ।
জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় আবুল হাসনাতকে স্মরণ
প্রয়াত কবি, সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাতের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নবীনের সাহিত্য: স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শতবর্ষী গুণীজন
প্রাগ্ভাষ: ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে,’— মাইকেল মধুসূদনের এই কবিবাক্যটি শাশ্বত ও মানুষমাত্রের কাছেই সতর্কতামূলক আপ্তবাক্য। ‘মানুষ মরণশীল,’ এই ধ্রুবপদটি আমরা জেনেও ভুলে থাকি। সেজন্যই মহাভারতে যুধিষ্ঠিরের একটি বিখ্যাত উক্তি, ‘প্রতিদিন অগণিত মানুষ মারা যায়, অথচ সে ভাবে, আমি মরব না! এর চেয়ে আশ্চর্যের আর কী-ই বা হতে পারে,’— ‘কিমাশ্চর্যমতঃ পরম্?’
আলোকের কারিগর মুস্তফা মনোয়ার
বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে আধুনিক ও জনপ্রিয় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বুঝেছিলেন, শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশে এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদানে পাপেট একটি অসাধারণ মাধ্যম। তাঁর নির্মিত ও পরিকল্পিত পাপেট অনুষ্ঠানগুলো কেবল বিনোদনের উপকরণ ছিল না; বরং সেগুলো ছিল মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, নান্দনিকতা ও শিক্ষার সৃজনশীল পাঠশালা। আজও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ শৈশবের স্মৃতিতে তাঁর পাপেট চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের আবিষ্কার করেন। সেই স্মৃতিগুলোই প্রমাণ করে, একজন শিল্পী কেবল শিল্প নির্মাণ করেন না; তিনি মানুষের অনুভূতির ভুবনও নির্মাণ করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আজ সোমবার (২৯ জুন), বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্দেশ্যে মহাকবির জন্মভূমি কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ঈদ ও আধ্যাত্মিকতা
বাহ্যিক উৎসব থেকে অন্তরের জাগরণ। ঈদ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি কেবল বাহ্যিক আনন্দ, ভোজ বা সামাজিক মিলনের আড়ম্ভরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূলত ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এর আধ্যাত্মিক শিক্ষায়, যা মানুষের অন্তরকে শুদ্ধ করে, নৈতিকতা জাগ্রত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে; যাতে আত্মদর্শনের অনাবিল আনন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় সাধক বা ব্যক্তিচিত্তে। ইসলামে প্রচলিত দুটি ঈদ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—উভয়ই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও একই লক্ষ্যের দিকে আহ্বান জানায়—আত্মসংযম, আত্মসমর্পণ ও আত্ম-উপলদ্ধি।
কোরবানির শিক্ষা : আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা
ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু কুরবানী—যা কেবল পশু জবাইয়ের একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির এক অনন্য প্রতীক। কুরবানীর প্রকৃত শিক্ষা হলো মানুষের ভেতরের লোভ, হিংসা, অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতাকে পরিত্যাগ করা এবং মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করা।
সাদাকালো টিভির দিনগুলোতে রঙিন ঈদ আয়োজন
আমাদের ছেলেবেলার জীবনটা ছিল সত্যিই সাদামাটা কিন্তু আনন্দময়। এ সময়ের মতো এত এত বিনোদন মাধ্যম তখন ছিল না। শুধু ছিল বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। টেলিভিশন সেটগুলো ছিল সাদাকালো, পর্দা ছিল ১৪ ইঞ্চি, ১৭ ইঞ্চি ও ২০ ইঞ্চির। এর চেয়ে বড় টিভি সেট কারও ঘরেই দেখিনি সে সময়। কিন্তু আমাদের দেখা টিভি অনুষ্ঠানগুলো সাদাকালোয় দেখলেও আনন্দগুলো ছিল বেশ রঙিন। যে যুগের টিভির ঈদযাপনের কথা লিখছি, সে সময় ছিল না রঙিন টিভি, ভিসিআর, এইচডি টিভি, কম্পিউজার, ডিভিডি কিংবা ইউটিউব। ছিল একমাত্র সবেধন নীলমণি বিটিভি। বেশির ভাগ গ্রামে তখনও ইলেকট্রিসিটি আসেনি। কিন্তু আমাদের সময় চট্টগ্রামের রাউজান গ্রামে ছিল ইলেকট্রিসিটি। আমরা টিভি দেখা শুরু করি ১৯৮০ সাল থেকে যতদূর মনে পড়ে। সম্ভবত বিকেল বেলা বিটিভি সম্প্রচার শুরু হতো আর শেষ হতো রাত ১২টায়। শুরু হতো জাতীয় সংগীত দিয়ে, শেষও হতো জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত বাজিয়ে।
হাতে কাটা সেমাই থেকে অ্যারাবিয়ান কুনাফা, বাঙালির ঈদ-খাবারের বিবর্তন
ঈদের সকাল মানেই বাতাসে ভেসে আসা মিষ্টি সুবাস। নতুন জামা, আতরের গন্ধ আর পরিবার-পরিজন মিলে একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া, প্রতিবেশী, আত্মীয়ের বাড়ি ঘোরাঘুরিই বাঙালির ঈদ।
বিজুর অজানা কথা
'বিজুর অজানা কথা' বঙ্গীয় শব্দকোষ (শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়), বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ, ক্রিয়াভিত্তিক বর্ণার্থ বিধি (কলিম খান-রবি চক্রবর্তী) অনুসৃত বানান রীতিতে (যথাসম্ভবভাবে) সম্পাদিত।