বিশেষ লেখা
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার
প্রতি বছর ২৭শে ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বের কিছু দেশে বিশ্ব এনজিও দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব এনজিও দিবস এর একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। বিশ্ব এনজিও দিবস সারাবিশ্বে সমাজ উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যাওয়া বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসমূহের জন্য একটি বৈশ্বিক উপলক্ষ হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে এটি এনজিওদের মাথাউঁচু করে দাড়াবার স্বীকৃতি, এটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নয়নের অংশীদারীত্বের স্বীকৃতি। বর্তমানে বিশ্বের ৮৯ টিরও বেশি দেশে এ দিবসটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে বাংলাদেশ এনজিও’র সুতিকাগার হলেও এখানে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় না।
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসন: এক কনসার্টে বদলে দেওয়া ইতিহাস
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কিছু বিদেশি নাম গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চারিত হয়—তাদের মধ্যে অন্যতম জর্জ হ্যারিসন। বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড The Beatles-এর এই গিটারিস্ট কেবল একজন সংগীতশিল্পীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানবিকতার একজন সাহসী কণ্ঠ। ১৯৪৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের দুঃসময়ে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা সংগীতের ইতিহাসে যেমন অনন্য, তেমনি বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী, চিরভাস্বর।
কাকের ডাক কমছে, সতর্ক বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি
কয়েক বছর আগেও শহর ও গ্রামে ভোর শুরু হতো কাকের ডাক দিয়ে। গ্রামের বাঁশবাগান, শহরের ছাদ, রাস্তার ধারের গাছ ও হাট-বাজারের আশপাশে ছিল কাকের দাপট। কিন্তু দিন দিন সেই পরিচিত দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। এখন আগের মতো কাকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক এলাকায় কাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির মর্যাদা খর্বের অভিযোগ: সংবিধান উপেক্ষা করেছেন ড. ইউনূস?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংবিধানিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিদেশ সফর এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি। এমনকি ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারির ক্ষেত্রেও অবহিত করেননি রাষ্ট্রপতিকে। তার এই অভিযোগ সত্য প্রমানিত হলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মো. ইউনূসের ওইসব কর্মকাণ্ড বেআইনী ও অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হবে। এমনটাই জানিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার রাজশাহীতে, প্রথম রক্ত ঝরেছিল এখানেই
পৃথিবীর ইতিহাসে জাতিস্বত্বার পরিচয় প্রতিষ্ঠার যত লড়াই আছে, সেসবের মধ্যে আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অনন্য। মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের এরকম অদ্বিতীয় ঘটনা বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ জুড়ে শুধু মাত্র বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল। আজ আমাদের এই গৌরবময় অমর একুশের ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। আজকের দিনে রাজশাহীতে উদ্বোধন করা হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নগরীর পুরাতন সার্ভে ইন্সটিটিউটের জায়গায় পূর্ব নির্ধারিত প্রায় এক একর এলাকা জুড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।
পাঞ্জাবি বৈষম্যের প্রথম প্রতিবাদ
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জাগরণ কাল। ১৯৪৭ সালে শুরু হয়ে যে আন্দোলন রক্ত স্নানে পূর্ণতা পেয়েছিল ১৯৫২ সালের রক্তরাঙা ফাগুনে। কিন্তু এই আন্দোলন শুধুই ভাষা কেন্দ্রিক একটি জনজাগরণ ছিল না। এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল পুঞ্জিভূত বঞ্চনার আগুন ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতারণা থেকে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সংবিধান পরিপন্থি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে মঙ্গলবার শপথ নিলেও একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্যরা। এ শপথ থেকে বিরত থাকেন ছয়জন স্বতন্ত্র এমপিও। তবে জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য দুই ধরনের শপথই পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের এই উদ্যোগকে সংবিধান পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের সদস্যদের জন্য শপথের বিধান নেই। ফলে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে এমন শপথ আয়োজন সংবিধান পরিপন্থি। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাংবিধানিক দায়িত্ব মূলত নির্বাচন পরিচালনা ও সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অতিরিক্ত কোনো পরিষদের শপথ পাঠ করানো তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’
শেষ বিকালের মেহেরুন রুনি ও অনন্তকালের আক্ষেপ
২০২৪ সালের পালাবদলের পর আমার মতো খুব সম্ভবত পুরো দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হবে। কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি। যতদূর জানা যায়, অন্তবর্তী সরকারের এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিশাল অম্বডিম্ব প্রশব করেছেন। তাঁদের আমলে, তাঁদের সময়ে এ নিয়ে আর কিছু হবে না। আর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন, তাই ১১ ফেব্রুয়ারি তাঁদের হত্যা দিবসে এবার বিচারের দাবি জানানোর মানুষও কম থাকবে নিঃসন্দেহে। সবাই এখন ক্ষমতামুখী। এমপি, মিনিস্টার ও প্রাইমিনিস্টারের দৌড়ে সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবি নিভৃতেই কাঁদবে। তবে আসুন আপনাদের একটি গল্প শুনায়। দুজন মানুষের নির্মম হত্যাকাণ্ডের গল্প।
নতুন সরকারের সামনে অপেক্ষমাণ কঠিন চ্যালেঞ্জ
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল সময়ের সূচনা হতে চলছে। এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল বা সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয় বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ নির্বাচন হতে চলছে। তাই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কাছে জনগণের যেমন থকবে প্রত্যাশার পাহাড়, তেমনটি নতুন সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে একাধিক কঠিন ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে জামায়াত আমিরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির জনাব শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনও নারী কখনও তার দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। আল জাজিরার সাথে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই অবস্থানকে ন্যায্যতা দিতে কারণ হিসেবে সামনে এনেছেন ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত জৈবিক পার্থক্য’ (আল জাজিরার সাথে সাক্ষাৎকার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬)। তার এই দাবি ধর্মতাত্ত্বিক এবং নীতিগত ভাবেই ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাপারে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে জনাব শফিকুর রহমানের নারী-বিষয়ক এই বক্তব্য নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার আগে, ইসলামে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে পবিত্র কুরআনের ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় যাওয়া জরুরি।
