আইসিটি
এআই যুগের বিশ্বযুদ্ধ: কোন জোটে বাংলাদেশ?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন এক বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হলো। আগের মতোই বিশ্বযুদ্ধের একপক্ষের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যপক্ষে চীন আর রাশিয়া। যথারীতি যুদ্ধের শুরুটা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইন্টারন্যাশনাল টেক সামিটের শেষ দিনে ২৫টি দেশের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্যাক্স সিলিকা জোট গঠিত হয়। এই জোট গঠনের মূল লক্ষ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে চীনের প্রভাবকে দুর্বল করা। মূলত এই জোটে সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তি খাতের শক্তিশালী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এক ছাতার নিচে আসে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে এ জোটে যোগ দিয়েছে ভারত।
‘স্বপ্ন’র ডেটাবেজ হ্যাক: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা
সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় দেশের বেসরকারি খাতে কর্পোরেট দায়বদ্ধতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৬৩টি জেলায় ৮১২টি আউটলেট এবং ৪০ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক নিয়ে স্বপ্ন দেশের অন্যতম বৃহত্তম গ্রাহক ডেটাবেজের অধিকারী। এই বিশাল আকারের প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের ওপর স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি যত্নশীল হওয়ার দায়িত্ব বর্তায়।
আবেগ দিয়ে নয়, কৌশলের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য সুশৃঙ্খল ডেটা গভর্নেন্স এবং ওটিটি (OTT) নীতিমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাইওয়ান সঙ্কট: সিলিকন শিল্পের কেন্দ্রে যুদ্ধের পদধ্বনি
২০২১ সালের জুলাই মাস। বিশ্ব তখন চিপের তীব্র সঙ্কটে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন এক সময়ে, প্রযুক্তি জগতের কেন্দ্রবিন্দু টিএসএমসি-এর চেয়ারম্যান মার্ক লিউকে এক বিশ্লেষক একটি অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলেন: "চীন যখন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দেয়, তখন আপনার গ্রাহকরা কি উদ্বিগ্ন হন না?"
করোনা মহামারি থেকে ভূ-রাজনীতির চ্যালেঞ্জ
২০২১ সালের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ জুম মিটিং ডাকলেন। বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও উৎপাদন কোম্পানির উনিশজন সিইওকে উদ্দেশ্য করে তিনি হাতে তুলে নিলেন বারো ইঞ্চি লম্বা এক সিলিকন ওয়েফার। তিনি বললেন, আমেরিকা ‘বড় ও সাহসী’ বিনিয়োগ না করলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তাই ‘আমাদের খেলাটা আরও শক্তভাবে খেলতে হবে’।
স্মার্টফোনের বাজার কি চোরাকারবারিদের কাছেই জিম্মি থাকবে
মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারের চিহ্নিত চোরাকারবারিরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কার্যালয় অবরোধের নামে জিম্মি করে অচলাবস্থার সৃষ্টি করছে। রাস্তা অবরোধ করে, শত শত নাগরিককে চরম দুর্ভোগে ফেলে চোরাচালানের অবাধ সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছে! সত্যিই বাংলাদেশ বড়ই অদ্ভুত জায়গা। সম্ভবত, এটি বিশ্ব রেকর্ড! বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দেশে এক দল চোরাবাকারবারিরা এভাবে রাস্তায় জড়ো হয়ে জনজীবন অচল করার তথাকথিত কর্মসূচী বাস্তবায়নের ধৃষ্টতা দেখাতে পারেনি।
চিপ নিয়ে চীন-মার্কিন লড়াই: ক্রেতা যখন প্রতিদ্বন্দ্বী
২০১৫ সাল। ইন্টেলের সিইও ব্রায়ান ক্রজানিচ তখন সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসসিয়েশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। স্বাভাবিকভাবেই, তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওয়াশিংটনে, যেখানে তিনি ট্যাক্স কমানো কিংবা নিয়ম-কানুন শিথিল করার মতো চিরাচরিত ব্যবসায়িক দাবিগুলোই জানাতেন। কিন্তু ওই বছর তিনি আর ব্যবসায়িক সুবিধা চাইলেন না, সরাসরি বললেন, “চীন যেভাবে আমাদের চিপ ইন্ডাস্ট্রি দখল করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, সেটা আমেরিকার জন্য বিপজ্জনক। এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”
হুয়াওয়ের উত্থান
হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইকে দেখলে প্রথমটায় তাঁকে সিলিকন ভ্যালির শান্ত-স্বভাবের কোনো নির্বাহীর মতোই মনে হয়। কিন্তু তাঁর কোম্পানির বৈশ্বিক প্রভাব এই সরল চেহারার থেকে অনেক গুণ বড়। বিশ্বের অসংখ্য দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক - যা আমাদের প্রতিদিনকার ভয়েস কল, মেসেজ আর ডেটা বহন করে - তার বিরাট অংশই দাঁড়িয়ে আছে হুয়াওয়ের ইকুইপমেন্টের ওপর। বহু জায়গায় হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে মোবাইল ফোনের সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
চীনের চিপ যুদ্ধ: শি জিনপিংয়ের আহবান থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস। সুইজারল্যান্ডের দাভোসের মঞ্চে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন বিশ্বের নেতাদের সামনে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ছিল শুধুই শান্তির বার্তা। সদ্য ক্ষমতা নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন 'আমেরিকা ফার্স্ট'-এর ডাক দিচ্ছেন, শি তখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে 'পারস্পরিক লাভের' কথা বললেন - গণমাধ্যম তাঁকে দিল 'গ্লোবালাইজেশনের রক্ষক' খেতাব। কিন্তু সেই আপাত শান্ত এবং উদার ঘোষণার আড়ালে ভেতরে ভেতরে চলছিল এক ভিন্ন পরিকল্পনা।
ইনটেল কীভাবে উদ্ভাবন ভুলে গেল?
কয়েক দশ ধরে সেমিকন্ডাক্টর জগতে ইনটেল ছিল নিরঙ্কুশ সম্রাট, মার্কিন প্রযুক্তি শক্তির প্রতীক। তাদের আবিষ্কার করা মাইক্রোপ্রসেসর ও বিখ্যাত x86 আর্কিটেকচার ছিল পিসি থেকে ডেটা সেন্টার - সবকিছুর প্রাণ।