মাতৃভাষা
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার রাজশাহীতে, প্রথম রক্ত ঝরেছিল এখানেই
পৃথিবীর ইতিহাসে জাতিস্বত্বার পরিচয় প্রতিষ্ঠার যত লড়াই আছে, সেসবের মধ্যে আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অনন্য। মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের এরকম অদ্বিতীয় ঘটনা বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ জুড়ে শুধু মাত্র বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল। আজ আমাদের এই গৌরবময় অমর একুশের ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। আজকের দিনে রাজশাহীতে উদ্বোধন করা হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নগরীর পুরাতন সার্ভে ইন্সটিটিউটের জায়গায় পূর্ব নির্ধারিত প্রায় এক একর এলাকা জুড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।
বাংলাদেশের কাম্যতম বহুভাষী শিক্ষা
প্রতিটি ভাষা পৃথকভাবে জীবন ও জগৎকে ধারণ ও বর্ণনা করে থাকে- ত্রিশের দশকে স্যাপির-হোর্ফ হাইপথিসিসে এমনটা দাবি করা হয়েছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে বহুভাষী শিক্ষা একভাষী শিক্ষার তুলনায় কার্যকর ও সম্পূর্ণতর হবার কথা। বহুভাষী শিক্ষা ১) স্বাভাবিক (Natural/Organic) হতে পারে এবং ২) কৃত্রিম হতে পারে (Artificial)। রোমান আমলে (খ্রিষ্টপূর্ব ১ম থেকে ৫ম শতক) ল্যাটিন ভাষা-ভিত্তিক বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা ছিল একটি স্বাভাবিক বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা (Natural/Organic Multilanguage Education), কারণ ল্যাটিন তখনও একটি জীবিত ভাষা। মধ্যযুগের দ্বিতীয় পর্বে (১০০০ থেকে ১৫০০) ল্যাটিন ভাষা-ভিত্তিক বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা ছিল একটি কৃত্রিম বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা (Artificial/Imposed Multilanguage Education), কারণ ল্যাটিন তখন একটি মৃত ভাষা। আমার দাবি, স্বাভাবিক বহুভাষী শিক্ষা ব্যবস্থা যতটা সর্বজনীন ও কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, কৃত্রিম বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা এই দুই কর্তব্য পালনে ততটাই ব্যর্থ হবার কথা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষাভিত্তিক বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা হবে একটি স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা, কারণ বাংলা সর্বসাধারণের মুখের ভাষা।
