প্রতিবেদন
কাকের ডাক কমছে, সতর্ক বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি
কয়েক বছর আগেও শহর ও গ্রামে ভোর শুরু হতো কাকের ডাক দিয়ে। গ্রামের বাঁশবাগান, শহরের ছাদ, রাস্তার ধারের গাছ ও হাট-বাজারের আশপাশে ছিল কাকের দাপট। কিন্তু দিন দিন সেই পরিচিত দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। এখন আগের মতো কাকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক এলাকায় কাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির মর্যাদা খর্বের অভিযোগ: সংবিধান উপেক্ষা করেছেন ড. ইউনূস?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংবিধানিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিদেশ সফর এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি। এমনকি ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারির ক্ষেত্রেও অবহিত করেননি রাষ্ট্রপতিকে। তার এই অভিযোগ সত্য প্রমানিত হলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মো. ইউনূসের ওইসব কর্মকাণ্ড বেআইনী ও অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হবে। এমনটাই জানিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার রাজশাহীতে, প্রথম রক্ত ঝরেছিল এখানেই
পৃথিবীর ইতিহাসে জাতিস্বত্বার পরিচয় প্রতিষ্ঠার যত লড়াই আছে, সেসবের মধ্যে আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অনন্য। মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের এরকম অদ্বিতীয় ঘটনা বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ জুড়ে শুধু মাত্র বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল। আজ আমাদের এই গৌরবময় অমর একুশের ৭৫ বছর পূর্ণ হলো। আজকের দিনে রাজশাহীতে উদ্বোধন করা হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নগরীর পুরাতন সার্ভে ইন্সটিটিউটের জায়গায় পূর্ব নির্ধারিত প্রায় এক একর এলাকা জুড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সংবিধান পরিপন্থি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে মঙ্গলবার শপথ নিলেও একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্যরা। এ শপথ থেকে বিরত থাকেন ছয়জন স্বতন্ত্র এমপিও। তবে জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য দুই ধরনের শপথই পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের এই উদ্যোগকে সংবিধান পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের সদস্যদের জন্য শপথের বিধান নেই। ফলে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে এমন শপথ আয়োজন সংবিধান পরিপন্থি। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাংবিধানিক দায়িত্ব মূলত নির্বাচন পরিচালনা ও সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অতিরিক্ত কোনো পরিষদের শপথ পাঠ করানো তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’
সংখ্যালঘু, আওয়ামী লীগ ও তরুণ ভোটারে বিশেষ দৃষ্টি জামায়াত-বিএনপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংকের দিকে। সেগুলো হচ্ছে সংখ্যালঘু, আওয়ামী লীগ–সমর্থক ও তরুণ ভোটার। এবারের নির্বাচনের আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় তাদের সমর্থক ভোটারদের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ–সমর্থকদের ভোট নিজেদের বাক্সে নেওয়া এবং তরুণদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে কৌশল সাজাচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এসব ভোটারই এবারের নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
দেশজুড়ে চলছে নির্বাচনী সহিংসতা, ভোটের দিন কী হবে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ইতোমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই সংঘর্ষ, সহিংসতা, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও আশঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে- ভোটের দিন কী হবে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: তারুণ্য যেন তুরুপের তাস
রাজপথ থেকে ভার্চুয়াল; সাতচল্লিশ-বায়ান্ন-একাত্তর-নব্বইয়ের ইতিহাসের পৃষ্ঠা জুড়ে তারুণ্যের জয়ধ্বনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সর্বত্র তরুণদের ভূমিকা ছিলো সর্বাধিক। দীর্ঘ সতেরো মাসের অপেক্ষার প্রহর শেষে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে এই প্রথম তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে । বৃহৎ রাজনৈতিক দল গুলোও নতুন করে হিসাব কষতে বসেছে তরুণ ভোটারদের নিয়ে। তারুণ্য যেন তুরুপের তাস; তারুণ্য যার , সংসদ তার- ব্যাপরটা এমনই দাঁড়িয়েছে।
মাঠের প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি, অনলাইনে জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী সব দলের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে মাঠে নেমে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মাঠ-পর্যায়ের প্রচারণায় দলগতভাবে বিএনপি অনেকটাই এগিয়ে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে বড় বড় সমাবেশ ও জনসভা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও সাংগঠনিক সভা করছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছে। এর বাইরে জামায়াতে ইসলামীও ভোটের মাঠে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। দলটি বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ, কর্মীসভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনলাইনে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণায় দলটি সবার থেকে এগিয়ে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও নিজ নিজ শক্ত ঘাঁটিতে প্রচারণা চালাচ্ছে।
৩০০ আসনের এক তৃতীয়াংশই ঝুঁকিপূর্ণ, নজরদারিতে ২৫ হাজার কেন্দ্র
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের যৌথ মূল্যায়নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত ১৩টি সংসদীয় আসনকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ৮,৭৪৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং আরও ১৬,৩৫৯টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে আরো ৮৫টি আসন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অতীতের সহিংসতার ইতিহাস, প্রভাবশালী প্রার্থীদের মুখোমুখি লড়াই ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় গ্রুপিংয়ের কারণে এসব আসনে সহিংসতা ও উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে।
শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি সারতে তৎপর নির্বাচন কমিশন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শেষ সপ্তাহের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, ব্যালট পরিবহন, ভোটার অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমন্বয়—সবকিছুই এখন কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে।
