Views Bangladesh Logo

বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের শেষের শুরু আজ

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব অনেকটা দীর্ঘ এক উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের মতো। শুরুতে থাকে স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর অজস্র সম্ভাবনার আলো। কিন্তু দুটি ম্যাচ পেরোতেই সেই গল্পের রং বদলাতে শুরু করে। কারও চোখে তখন নকআউটের নিশ্চয়তার উজ্জ্বলতা, কারও সামনে ঝুলে থাকে বিদায়ের শঙ্কা, আবার কেউ দাঁড়িয়ে থাকে ভাগ্য নির্ধারণী শেষ লড়াইয়ের অপেক্ষায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ৪৮টি দলের প্রত্যেকেই দুটি করে ম্যাচ শেষ করেছে। আর সেই দুই ম্যাচের পরই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে অনেক সমীকরণ। কেউ নিশ্চিত করেছে শেষ ৩২-এর টিকিট, কেউ হারিয়েছে সব সম্ভাবনা। তবে সবচেয়ে বড় সত্য হলো—বেশির ভাগ দলের ভাগ্য এখনো লেখা হয়নি। তাদের জন্য তৃতীয় ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং টিকে থাকা আর বিদায়ের মাঝখানে টানা এক সূক্ষ্ম রেখা।

গ্রুপ ‘এ’-তে স্বাগতিক মেক্সিকো যেন নিজেদের মাটিতে স্বপ্নের পথচলাই শুরু করেছে। টানা দুই জয়ে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা প্রথম দল হিসেবে নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্ব। দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আশায় বেঁচে আছে, আর চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা অপেক্ষা করছে শেষ দিনের নাটকের জন্য।

গ্রুপ ‘বি’-তে জমেছে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা। কানাডা ও সুইজারল্যান্ড সমান চার পয়েন্ট নিয়ে পাশাপাশি এগোচ্ছে। অন্যদিকে বসনিয়া ও কাতারের জন্য শেষ ম্যাচটি অনেকটা শেষ সুযোগের দরজার মতো।

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিল ও মরক্কো নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। দুই দলেরই চার পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে সেলেসাওরা। স্কটল্যান্ডও এখনো স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু হাইতির জন্য বিশ্বকাপের আকাশে আলো নিভে গেছে আগেই।

গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র যেন নিখুঁত এক অভিযাত্রায় রয়েছে। টানা দুই জয়ে তারা পৌঁছে গেছে শেষ ৩২-এ। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও তুরস্কের বিশ্বকাপযাত্রা শেষ হয়ে গেছে সময়ের আগেই।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তির হাসি ফুটেছে জার্মানদের মুখে। গ্রুপ ‘ই’-তে টানা দুই জয়ে তারা নিশ্চিত করেছে পরের পর্ব। আইভরিকোস্টও ভালো অবস্থানে রয়েছে, তবে ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের জন্য এখনো শেষ ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াই বাকি।

গ্রুপ ‘এফ’-এ ফুটবলপ্রেমীরা দেখছেন এক রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা। নেদারল্যান্ডস ও জাপান সমান চার পয়েন্ট নিয়ে এগোচ্ছে। সুইডেনও রয়েছে হিসাবের ভেতরে। বিপরীতে তিউনিসিয়ার জন্য বিশ্বকাপের গল্প শেষ হয়ে গেছে।

গ্রুপ ‘জি’ ও ‘এইচ’-এ পরিস্থিতি আরও জটিল। মিসর ও স্পেন আপাতত শীর্ষে অবস্থান করে নিরাপদ অবস্থায় থাকলেও ইরান, বেলজিয়াম, উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর। এখানকার প্রতিটি গোল, প্রতিটি পাস, এমনকি প্রতিটি ফাউলও বদলে দিতে পারে পুরো হিসাব।

গ্রুপ ‘আই’-তে ফ্রান্স ও নরওয়ে ইতোমধ্যেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। দুই দলেরই ছয় পয়েন্ট। অন্যদিকে সেনেগাল ও ইরাক এখন শুধু সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে।

আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’-তে দেখিয়েছে চ্যাম্পিয়নসুলভ দৃঢ়তা। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট, কোনো গোল হজম নয়। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া এখন দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে ব্যস্ত। জর্ডানের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন অবশ্য শেষ হয়ে গেছে।

গ্রুপ ‘কে’-তে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল নিজেদের এগিয়ে রেখেছে। আর গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়ার ত্রিমুখী লড়াই শেষ ম্যাচকে পরিণত করেছে এক অনিশ্চিত নাট্যমঞ্চে।

এখন বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের শেষের শুরু। সামনে অপেক্ষা করছে সেই ম্যাচগুলো, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল ভেঙে দিতে পারে চার বছরের স্বপ্ন, আবার একটি গোল বদলে দিতে পারে একটি জাতির ইতিহাস। ফুটবল বিশ্ব তাই তাকিয়ে আছে নতুন সূর্যোদয়ের দিকে—যেখানে কেউ লিখবে টিকে থাকার গল্প, আর কেউ নীরবে বিদায় জানাবে সবচেয়ে বড় মঞ্চকে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ