ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগের কর্মীর মৃত্যু: পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়, জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তর পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, আইনসচিব ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার বিচারিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
গত ২১ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ২৭ বছর বয়সী ইশতিয়াক। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ফরিদপুর আইন কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ফরিদপুর চিনিকলের মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
তবে তাঁকে কখন হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য রয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ জুন বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাঁকে আটক করেন ডিবির সদস্যরা। অন্যদিকে পুলিশের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ জুন দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এই দুই বক্তব্যের পার্থক্যে তিনি হেফাজতে কতক্ষণ ছিলেন, সেই হিসাব বদলে যায়।
ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান ২১ জুন সকালে বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় তাঁর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করা হয়। এজাহারের বিবরণে বলা হয়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইশতিয়াক পালানোর চেষ্টা করেন; পরে তাঁকে ধরে দুজন সাক্ষীর সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের কাছে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করেন এবং নিজ হাতে প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো গাঁজা বের করে দেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, হেফাজতে থাকা অবস্থায় ইশতিয়াক অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ব্রেন স্ট্রোকের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর কোনো শারীরিক আঘাত বা নির্যাতন করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
অন্যদিকে ইশতিয়াকের পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁর মা খাদিজা আক্তার ঘটনার পর বলেছিলেন, টাকার বিনিময়ে ছেলেকে ছাড়তে রাজি হয়েছিলেন পুলিশের সদস্যরা; তিনি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যান, কিন্তু জীবিত ছেলের বদলে পান ছেলের লাশ। ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ২৩ জুন ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে আজই ওসিসহ ১১ জনের নামে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।
মতামত দিন