Views Bangladesh Logo

Retailers accuse BERC and LPG companies of creating an artificial shortage

বিইআরসি ও কোম্পানির দিকে অভিযোগ: দাম বাড়ার আগে কেন এলপি গ্যাসের সংকট হয়?

Masum   Hossain

মাসুম হোসেন

নতুন করে দাম বৃদ্ধির ঘোষণার সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই এলপি গ্যাস (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হয়। দাম বাড়ানোর পর থেকে আবারো এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।

খুচরা বিক্রোতাদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ সিলিন্ডার প্রয়োজন, এর অর্ধেকেরও কম পান নতুন করে দাম ঘোষণার আগে। এতে খুচরা বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। তবে দাম বাড়ানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ডিলাররা আবার তাদের চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করেন।

গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)। যা সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ২৫২ টাকা বেশি।

এর আগে, প্রথম দফায় গত ২ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে অক্টোবরে দাম বাড়ানোর আগ পর্যন্ত এলপিজির দাম কিছুটা ওঠানামা করেছে।

দাম বেড়ে যাওয়ার অন্তত সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারেট সংকট দেখা দেয়। নির্ধারিত দামের চাইতেও সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে বগুড়ায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কেনেন ভোক্তারা।

ভোক্তা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানিগুলো ও বিইআরসি যোগসাজশে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে। পরবর্তী দাম বাড়ানোর পর এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি বিইআরসির চেয়ারম্যান।

বগুড়া মহানগরের একাধিক খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাম বেড়ে যাওয়ার আগে তারা ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার পাননা।

বগুড়া মহানগরের খুচরা বিক্রেতা রেহান হোসেন বলেন, নতুন করে দাম বৃদ্ধির দুই সপ্তাহ আগে থেকে ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার চেয়েও তারা পাননি।

তিনি জানান, ওই সময় ডিলাররা তাদের চাহিদামতো গ্যাস সিলিন্ডার দেননি। অর্ধেকেরও কম সিলিন্ডার পেয়েছেন তারা। এতে তাদের দোকানের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ডিলার পর্যায়ে ১২ কেজির যমুনা এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহও আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে।

এলপি গ্যাসের বাড়তি দাম সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

বগুড়া মহানগরের বেজোড়া এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, বেশি দামে সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্ত্রীকে মাটির চুলায় রান্না করতে বলেছেন।

তিনি জানান, এত টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য তার নেই। তাই স্ত্রীকে মাটির চুলায় রান্না করতে বলেছেন। কিন্তু খড়ির দামও বেড়েছে।

খুচরা বিক্রেতা রেহান হোসেন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসে জরিমানা করা হয়। অথচ তারা কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে নেই। যারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন, তাদের কতজনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়? প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

বগুড়া মহানগরের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার অভি মোদক জানান, ডিলাররা এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের অবৈধ মজুত করেন না। সেগুলো গোপনে কোথায় রাখবেন তারা? সবই মানুষ জানতে পারবেন। মূল সমস্যার তৈরী হয় এলপি গ্যাস কোম্পানি ও বিইআরসি থেকে।

ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের বিভিন্ন কোম্পানি ও বিইআরসি মিলে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে। পরে বিইআরসি দাম বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব পড়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর।

খুচরা বিক্রেতারা ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম বৃদ্ধির আগে সরবরাহ কমে গেলেও দাম বৃদ্ধির পর তারা আবার চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন।

রেহান হোসেন ও সুমন তালুকদারসহ অন্তত ১০ জন খুচরা বিক্রেতা জানান, তাদের দোকানে অভিযান চালানোটা লোক দেখানো। যারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত তাদের ধারেকাছেও যায় না জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

বগুড়া জেলা এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি আসলাম খাঁন ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, নতুন করে দাম বৃদ্ধির আগে কোম্পানিগুলে থেকে জানানো হয় যে, জাহাজ সমুদ্রে আটকে আছে, এলপি গ্যাস আসতে দেরি হচ্ছে। এ কারণ দেখিয়ে ওই সময় সরবরাহ কমিয়ে দেয় কোম্পানি। তারা কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ ঠিক থাকলে ভোক্তাদের কোন সংকটই হবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যমুনা অয়েল পিএলসির বগুড়া বিভাগীয় সেল্‌স অফিসের ম্যানেজার সাইদুল আলম চৌধুরী ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, মাঝে মধ্যে যমুনা গ্যাসের সরবরাহ একটু কম হয়। তবে এটা কোনো নিদিষ্ট সময়ে নয়, বিভিন্ন সময়ে হতে পারে। আর এসব বিষয়ে তাদের কথা বলা নিষেধ আছে। বিস্তারিত বলার জন্য অফিসে আলাদা লোক রয়েছেন।

জানতে চাইলে বিইআরসির পরিচালক (যুগ্ম সচিব, পেট্রোলিয়াম) মো. দিদারুল আলম ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান কথা বলবেন। এই ব্যাপারে কথা বলার দায়িত্ব তার নয়। বক্তব্য নিতে বিইআরসির চেয়ারম্যানকে ফোন করতে বলেন তিনি।

দাম বৃদ্ধির আগে বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট কেন হয়-এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, এ বিষয়ে চট করে বলা যায় না। এত সহজে আপনি প্রশ্ন করলেন, কিন্তু এ প্রশ্নের বক্তব্য অতটা সহজে দেওয়া যায় না।

এ কথা বলে ভিউজ বাংলাদেশের প্রশ্ন এড়িয়ে যান বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন।


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ