বিশ্বকাপে আজ কার যাত্রা শেষ?
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যেন ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম অথচ সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়। এখানে এক মুহূর্তের ভুল শেষ করে দিতে পারে চার বছরের স্বপ্ন, আবার একটি নিখুঁত পাস কিংবা দুর্দান্ত গোল লিখে দিতে পারে ইতিহাস। আজকের রাতও তেমনই তিনটি ভিন্ন গল্পের অপেক্ষায়। কোথাও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা রক্ষার লড়াই, কোথাও স্বাগতিকের সামনে বাড়তি প্রত্যাশার চাপ, আবার কোথাও সমান শক্তির দুই দলের কৌশল আর সাহসের পরীক্ষা।
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর দ্বিতীয় রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও নকআউটের মঞ্চে পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি কথা বলে মানসিক দৃঢ়তা, মুহূর্তের সিদ্ধান্ত আর সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা।
ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের ছন্দ গড়ে তুলবেন ডেকলান রাইস। বল পুনরুদ্ধার, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডিফেন্স থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তরই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব। আক্রমণভাগে হ্যারি কেন শুধু গোলশিকারি নন, প্রয়োজনমতো নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও সমান কার্যকর। ডান প্রান্তে বুকায়ো সাকা গতি, ড্রিবলিং ও এক-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে ভেঙে দিতে পারেন। অন্যদিকে জুড বেলিংহ্যাম বক্স-টু-বক্স দৌড়ে মাঝমাঠকে প্রাণবন্ত রাখবেন, দূরপাল্লার শট কিংবা হঠাৎ বক্সে ঢুকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্যও রয়েছে তাঁর।
গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শারীরিক সামর্থ্য ও সংগঠিত রক্ষণ। মাঝমাঠে গায়েল কাকুতা সৃজনশীল পাসে আক্রমণের পথ খুলে দিতে পারেন। সামনে সেদ্রিক বাকাম্বু সামান্য সুযোগ পেলেই গোলমুখে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। রক্ষণে শ্যান্সেল মবেম্বা আকাশপথের বল, ট্যাকল এবং নেতৃত্বে দলের ভরসার নাম। ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলতে হলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণই হবে কঙ্গোর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সান ফ্রান্সিসকোতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। মাঝমাঠে ওয়েস্টন ম্যাককেনি শক্তি ও প্রেসিং দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবেন। ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক বাম প্রান্ত থেকে গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করবেন। আর টিমোথি ওয়েয়া উইং দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণে হতে পারেন বড় অস্ত্র।
বসনিয়ার ভরসা অভিজ্ঞ এডিন জেকো। বয়স বাড়লেও বক্সের ভেতরে তাঁর অবস্থান নেওয়ার দক্ষতা এখনও ঈর্ষণীয়। মাঝমাঠে মিরালেম পিয়ানিচ সঠিক পাস ও সেট-পিসে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। রক্ষণে আনেল আহমেদহোদজিচ শক্ত ট্যাকল ও বল ক্লিয়ারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করবেন। নকআউটের ম্যাচে অভিজ্ঞতার মূল্য কতটা, সেটিই প্রমাণ করতে চাইবে বসনিয়া।
আজকের তৃতীয় লড়াইয়ে সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও সেনেগাল। শক্তির বিচারে প্রায় সমানে সমান এই দুই দল। বেলজিয়ামের আক্রমণে জেরেমি ডোকুর গতি এবং ড্রিবলিং হতে পারে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কেভিন ডি ব্রুইনা তাঁর নিখুঁত থ্রু-পাস ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন খেলা দিয়ে যেকোনো সময় রক্ষণ চিরে দিতে সক্ষম। সামনে রোমেলু লুকাকু সুযোগ পেলেই গোল করার মতো স্ট্রাইকার।
অন্যদিকে সেনেগালের আক্রমণের মূল ভরসা নিকোলাস জ্যাকসন, যিনি গতিতে রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। মাঝমাঠে ইদ্রিসা গানা গেয়ে বল দখল, ট্যাকল এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। রক্ষণে কালিদু কুলিবালি অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও দৃঢ়তায় সেনেগালকে আত্মবিশ্বাস জোগাবেন।
বিশ্বকাপের এই রাতে তিনটি ম্যাচ, তিনটি ভিন্ন গল্প। কোথাও স্বপ্ন বাঁচানোর যুদ্ধ, কোথাও ইতিহাস লেখার সুযোগ, কোথাও শক্তির সমীকরণ ভেঙে নতুন নায়ক হওয়ার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে, কে ফিরবে হতাশা নিয়ে—তার উত্তর লুকিয়ে আছে সবুজ ঘাসে গড়ানো ৯০ মিনিটের অনিশ্চিত নাটকে।
মতামত দিন