Views Bangladesh Logo

আপিল বিভাগে কী ঘটেছিল, ব্যাখ্যা দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান বিচারপতি কেন এজলাস ত্যাগ করেন এবং ওই সময় আদালতে কী ঘটেছিল, তা সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ঘটনার সূত্রপাত হওয়া মামলাটি সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিষয়টির সূত্রপাত। ওই ঘটনায় একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদী পাঁচটি রিট করেন। তবে আগের রিট খারিজের আদেশ পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ ওই রিটের এক নারী আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ওই মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে আদেশ দেওয়ার সময় ওই নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে আদেশ শুনেছিলেন। তবে তখন মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে মামলাটির আদেশ হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই মামলায় জরিমানা আরোপের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছেন এবং সেই আদেশ পরিবর্তন করা হবে না। আদালতের মতে, মামলায় ‘সিরিয়াস ফ্রড’ বা গুরুতর প্রতারণা করা হয়েছে। এমনকি আপিল বিভাগের আগের আদেশও গোপন করা হয়েছে বলে আদালত মনে করেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রধান বিচারপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এ বিষয়ে আর কথা না বলতে বলেন। তখন খোকন মন্তব্য করেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রথমে বিষয়টি প্রধান বিচারপতি কিছুটা হালকাভাবে নেন। পরে তিনি মাহবুব উদ্দিন খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি সত্যিই এমনটা বোঝাতে চেয়েছেন কি না। খোকন একই বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর এ বক্তব্য ‘অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’। এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, এত বড় কথা বলার পর তিনি ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে আর অংশ নেবেন না।

এ কথা বলেই প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে তাঁর সঙ্গে আপিল বিভাগের আরও তিন বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

ঘটনাটি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিই আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবী ও বিচারপতিদের মধ্যে কখনো কখনো ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। বিচারপতিরা কখনো আইনজীবীদের বকাঝকাও করেন। তবে এসব বিষয় আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ববোধ সবার মধ্যে থাকা উচিত।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ