মরিয়মের মৃত্যুর সময় বাসায় খাচ্ছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে এমপি গাজী নজরুল
রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ঘটনার দিনের বিষয়ে পুলিশের কাছে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি, ঘটনার দিন তিনি বাসাতেই ছিলেন এবং ওই সময় এলাকার কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগে রিমান্ডের প্রথম দিনে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দেন গাজী নজরুল। মামলার তদন্তের স্বার্থে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গাজী নজরুল দাবি করেছেন, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি বাসায় ফেরেন এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে খাবার খান। পরে মরিয়ম খেয়েছেন কি না জানতে গিয়ে তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান।
তিনি জানান, অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
গাজী নজরুল আরও দাবি করেন, মরিয়মের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে এর আগে তাদের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মরিয়ম মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই কথা বলতেন।
অন্যদিকে, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম দাবি করেছেন, ঘটনার দিন মরিয়মের সঙ্গে তার কোনো ঝগড়া হয়নি।
গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে জানা যায়, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (১৯)। এ ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
এরপর থেকে তিনি দুই স্ত্রীকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন বলে জানা যায়।
গত রোববার সন্ধ্যায় ওই ফ্ল্যাট থেকেই মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মতামত দিন