ভিউজ বাংলাদেশ এর উদ্বোধন
সত্য জপেই ভিউজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে
সত্য, সত্য, সত্য, সত্য জপি। সত্য জপেই ভিউজ বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, এমন আশা জাগিয়ে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম বাইলিঙ্গুয়াল ভিউজ পোর্টাল। একই সঙ্গে বাংলা এবং ইংরেজিতে কনটেন্ট আপলোড, খবরের সঙ্গে খবরের বিশ্লেষণ নিয়ে দেশের প্রথম এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে এসেছিলেন প্রথিতযশা শিক্ষক, আমলা, অর্থনীতিবীদ, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবীরা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সত্য, সত্য, সত্য, সত্য জপি। সত্য জপেই ভিউজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি। সাংবাদিকতার সব চাইতে বড় বিষয় হলো সত্য প্রকাশ। সত্য প্রকাশের কাছে কোনো বাধাই সাংবাদিকের সামনে প্রতিবন্ধক হতে পারে না।
আরেফিন সিদ্দিক আরও বলেন, এখন দেশের সার্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক যে পরিস্থিতি কী তা বলা প্রয়োজন। ভিউজ বাংলাদেশের ট্যাগলাইন প্রোমোটিং পজিটিভ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে কিন্তু আমরা ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
অর্থনীতিবীদ কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, এটি নতুন ধরনের সংবাদ মাধ্যম। এখানে খবরের সঙ্গে মতামতগুলো সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে। তিনি বলেন, আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানুষ। ভিউজ বাংলাদেশ দেশের সব মানুষের কথা তুলে ধরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ- এই প্রশ্ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এসেছিল। বিজ্ঞানের আবিস্কার উদ্ভাবনের চেয়ে বেশি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এমন একটি প্রচার ইউরোপ, আমেরিকাজুড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, ভালো-মন্দ মিলিয়ে মানুষ। তবে মন্দটাকে তলানিতে রেখে ভালোকে আলোকিত করতে হবে। মন্দকে চিরদিনের জন্য বাতিল করে দেয়া সম্ভব হবে না। এরপরও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং আরও অনেক যুদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ভালোটা ভাবতে হবে।
রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, মতমত প্রকাশের জন্য এমন একটি বাইলিঙ্গুয়াল ওয়েবপোর্টালের প্রয়োজন ছিল। ভিউজ বাংলাদেশ সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে। দেশের বাইরের নাগরিকরা আমাদের সম্পর্কে জানতে যেসব খবরের সূত্র ব্যবহার করেন, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো স্বার্থান্বেসি মহলের অপপ্রচার। ভিউজ বাংলাদেশ সেই শূন্যতা পূরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, মাত্র ২০ বছর আগে মিডিয়ার অবস্থা কী ছিল, আর আজকে কী অবস্থা তা বিবেচনা করতে হবে। এখন মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দাঁড়িয়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো সম্পাদকীয় চরিত্র নেই। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানকে আমর মিডিয়া বলি কিভাবে? মিডিয়ার প্রধান কাজ দায়িত্বশীলতা এবং সত্যনিষ্ঠতা। বড় বড় যত সহিংসতা হয়েছে, সব সোস্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে। কেউ এখন আর সংবাদ পড়ার জন্য সংবাদপত্র পড়ে না, বিশ্লেষণ পড়ার জন্য পড়ে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ভিউজ বাংলাদেশ এদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন একটি উদ্যোগ। সাংবাদিকতায় কতগুলো রীতির মধ্যে নিউজ এক জায়গায় এবং ভিউজ আরেক জায়গায় ছাপা হতো। সম্পাদকীয় হবে পত্রিকার নিজস্ব মতামত, উপ-সম্পাদকীয় হবে যারা লেখেন তাদের মতামত। এই দুই লেখারই নির্ধারিত কিছু পাঠক ছিল। তারা এসব লেখার জন্য অপেক্ষা করতেন। পত্রিকায় সেই বিষয়গুলো এখন প্রায় বিলুপ্ত। পরিবর্তন ভালো, নতুনত্বও ভালো। কিন্তু সব পুরাতনই খারাপ না। আমাদের অনেক পুরাতন জিনিস হারিয়ে গেছে, যা আমরা এখনও খুঁজে বেড়াই। ভিউজের এই উদ্যোগের মাধ্যমে যদি আমরা সেই পুরাতন কিছু খুঁজে পাই, তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ হবো।
গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ভিউজ নিয়ে একটি পোর্টাল প্রচার শুরু করেছে এটি একটি সাহসী উদ্যোগ। তিনি মনে করেন, ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে যারা রয়েছেন তাদের নিয়ে কোন প্রশ্ন করা যায় না। আমি আশা করি ভিউজ বাংলাদেশ প্রশ্ন করবে এবং জবাবদিহিতার জায়গা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
লেখক ও সাংবাদিক মহসীন হাবিব বলেন, ভিউজ বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছে তাকে দুঃসাহসিক উল্লেখ করে বলেন, বাইলিঙ্গুয়াল সাইট প্রকাশ করাও চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ হাজারের বেশি সাইট আছে। এই ১ হাজার পোর্টালের ভেতর থেকে নিজেকে বের করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা ভিউজ বাংলাদেশ নিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
চিকিৎসক মামুন আল মাহতাব, স্বপ্নীল বলেন, বাংলাদেশে অনেক সংবাদমাধ্যম থাকলেও মতামত প্রকাশের জায়গা খুব কম, বিশেষ করে ইংরেজিতে। আমার প্রত্যাশা থাকবে ভিউজ বাংলাদেশ সেই চাহিদা পূরণ করবে।
কৃষি অর্থনীতিবীদ ড. জাহাঙ্গির আলম ভিউজ বাংলাদেশ ভিন্ন ধারার খবর প্রকাশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভিউজ বাংলাদেশ নির্ভরযোগ্য তথ্যের সমন্বয় ঘটাবে।
ভিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক রাশেদ মেহেদী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেন ক্লিকবেটের বাইরে সিরিয়াস কনটেন্ট তৈরি করার স্বপ্ন নিয়েই ভিউজ নেটওয়ার্কের যাত্রা শুরু। বস্তুনিষ্ঠতার নামে হোক, কিংবা ভিউ বাড়ানোর জন্য হোক; যেটা প্রকৃতভাবে সংবাদ হওয়া দরকার-তার পরিবর্তে এমন কিছু আসছে যা হওয়া উচিত নয়। আমরা এমন সংবাদ দিতে চাই যা মানুষের কাজে লাগবে। আমরা আমাদের ভাবনাটা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরতে চাই। মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়- আমরা এই মতবাদের সঙ্গে বিশ্বাসী নই। অবশ্যই মতামতের জন্য সস্পাদক দায়ী। সামাজিক মাধ্যমে যেকেউ মতামত দেয়, সেজন্য কোনো দায়িত্ব থাকে না। তাই আমাদের এখানে দায়িত্বের সঙ্গে মতামত প্রকাশিত হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সত্যিকারের মতামত প্রকাশ করাকে দুঃসাধ্য বলে মনে করেন কবি মোহন রায়হান। তিনি বলেন, ভিউজ বাংলাদেশ যদি সত্যিকার অর্থে এই কাজ করতে পারে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ভিউজ বাংলাদেশ নতুন ধরনের সংবাদ মাধ্যম হওয়াতে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তিনি ভিউজ বাংলাদেশের এই যাত্রাকে স্বাগত জানান।
আলোকচিত্রি নাসির আলী মামুন বলেন, আমি বিশ্বাস করি ভিউজ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের স্বাধীন মানসিকতার মানুষদের জন্য একটি লেখার জায়গা। বড় বড় বিভিন্ন পত্রিকায় মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী থাকেন না। তবে মতামত দায়িত্ব নিয়ে উপস্থাপন করা উচিত।
দৈনিক সমকালের উপ-সম্পাদক মাহবুব আজিজ ভিউজ বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি মনে করেন ভিউজ বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে মানুষের পক্ষে কাজ করবে।
বৈশাখী টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মুশফিক ইনাম বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তা সংগ্রহ করে তাদের মতো করে। কিন্তু সেই সংবাদের বিশ্লেষণ আমরা কি আশা করছি, সেটা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও ছিল না। ভিউজ বাংলাদেশ নামে দেখেই আমার মনে হচ্ছে, আমাদের প্রতিটি নাগরিকের একটি ঘটনাপ্রবাহ থেকে যে ভাবাব্যক্তি প্রকাশ হবে সেটা থেকে সবাই উপকৃত হবে।
সাংবাদিক মধুসূদন মন্ডল ভিউজ বাংলাদেশের এই যাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।
বিশিষ্টজন, উদ্যেক্তা ও লেখকদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসিমুল গণি, দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মাঈনুল আলম, ই-কমার্স উদ্যেক্তা ওয়ারেসা খানম প্রীতি, বাংলালিংকের চিফ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান, আইএসপিএবি’র সভাপতি ইমদাদুল হক, প্লেক্সাস ক্লাউডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবারক হোসেন, নগদের হেড অব কমিউনিকেশন জাহিদুল ইসলাম সজল, গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন অংকিত সুরেকা, এবং ফাইবার অ্যাট হোমের পরিচালক আব্বাস ফারুক।
ভিউজ বাংলাদেশ ভিউজ নেটওয়ার্ক লিমিটেড এর একটি উদ্যোগ। ভিউজ নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শরীফা আখতার দেশের বাইরে থাকায় ভিউজ বাংলাদেশের যুগ্মবার্তা সম্পাদক নিলুফার ডালিয়া তার শুভেচ্ছা বক্তব্যটি অনুষ্ঠানে পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারি সম্পাদক গিরীশ গৈরিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভিউজ বাংলাদেশের বার্তা সম্পাদক মারিয়া সালাম।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে