ব্রাজিলের স্বস্তির দিনে তুরস্কের বিদায়, রাতে নেদারল্যান্ডসের অগ্নিপরীক্ষা
বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি ম্যাচ কখনও স্বপ্নকে আকাশে উড়িয়ে দেয়, আবার একটি ভুলই ঠেলে দিতে পারে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। প্রথম ম্যাচ শেষে যে ব্রাজিলকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা, দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে সেই দলই ফিরেছে স্বস্তির হাসি নিয়ে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়া নেদারল্যান্ডস আজ নামছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। আর এদিনই শেষ হয়ে গেছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ তুরস্কের স্বপ্ন। আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পেয়ে বিদায়ের বেদনাতেই শেষ হয়েছে তুর্কিদের বিশ্বকাপ অভিযান।
মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন তো দূরের কথা, নকআউট পর্বে ওঠাও তখন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। তাই হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কার্যত ফাইনালের মতো। সেই পরীক্ষায় দারুণভাবে উতরে গেছে সেলেসাওরা। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ৩-০ গোলের সহজ জয় তুলে নিয়ে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন মাতেউস কুনিয়া। ৪০তম মিনিটে একই জুটির সমন্বয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২ মিনিট) এবার গোলের খাতায় নাম লেখান ভিনিসিয়ুস নিজেই। তিন গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। তবে জয়টি ব্রাজিলকে শুধু তিন পয়েন্টই দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও।
এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ড্র করলেই নকআউট পর্ব প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে শেষ ম্যাচেও জয় চাইবে সেলেসাওদের। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া মরক্কোও সমানতালে এগিয়ে চলায় শেষ রাউন্ডে জমে উঠবে গ্রুপ ‘সি’-এর লড়াই।
এদিকে আজকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের। প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে চাপে আছে ডাচরা। বিপরীতে সুইডেন প্রথম ম্যাচেই তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। আজ সুইডেন জিতে গেলে তাদের পয়েন্ট হবে ছয়, আর নেদারল্যান্ডস এক পয়েন্টেই আটকে থাকবে। তখন শেষ ম্যাচে জয় পেলেও অন্য দলের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ডাচদের। তাই এই ম্যাচটি কার্যত নেদারল্যান্ডসের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।
এদিন বিশ্বকাপকে বিদায় বলেছে এবারের অন্যতম চমক তুরস্কও। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটের আগেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েও জালের দেখা পায়নি। একের পর এক সুযোগ নষ্টের হতাশা শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কান্নায় রূপ নেয়। শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠেই ভেঙে পড়েন অধিনায়ক হাকান চ্যালহানওলু, গোলরক্ষক উগুরজান চাকির এবং ডিফেন্ডার মের্ত মুলদুর। সতীর্থদের সান্ত্বনা দিয়েও তাদের চোখের জল থামানো যায়নি।
দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ ‘এ’ ও ‘বি’-তে নকআউটের লড়াই এখনও খোলা থাকলেও, গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিল ও মরক্কো এগিয়ে রয়েছে। গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলো প্রায় নিশ্চিত করেছে, আর তুরস্ক বিদায় নেওয়ায় প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ উজ্জ্বল হয়েছে।
এদিকে গ্রুপ ‘ই’, ‘এফ’ ও ‘জি’-এর দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলো হতে পারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জার্মানি জিতলে গ্রুপ ‘ই’-তে আইভরি কোস্ট বিদায়ের মুখে পড়বে। গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস হেরে গেলে তাদের ভাগ্য অনেকটাই অন্যদের হাতে চলে যাবে। আর গ্রুপ ‘জি’-তে দ্বিতীয় ম্যাচে যে দল জিতবে, তারা নকআউটের পথে বড় সুবিধা পাবে; হারলেই বিদায়ের শঙ্কা তাড়া করবে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই যেন একেকটি ফাইনাল।
মতামত দিন