শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার (১৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন মামলায় গ্রেপ্তার থাকা নয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও শামসুল হক টুকুসহ সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক রয়েছেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলার বেশ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবেদনও সব আসামির ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মামলার দুই আসামি হাসানুল হক ইনু ও আবদুর রাজ্জাককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়নি। এসব কারণে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চান রাষ্ট্রপক্ষ।
এর পর ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট আসামিদের হাজির করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি এবং পলাতক আসামিদের বিষয়ে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সাবেক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এ ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা এবং কারাগারে থাকা আসামিদের হাজির করার বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ১৬ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় রোববারের শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক হলো।
মতামত দিন