Views Bangladesh Logo

তিন দেশে তিন মহোৎসব, আজ পর্দা উঠছে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের

অপেক্ষার পালা শেষ। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাতো ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসরের পর্দা উঠছে আজ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবারের আসরটি প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু দলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই নয়, আয়োজনের ব্যাপ্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনার কারণেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। আর সেই সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—তিন আয়োজক দেশেই আলাদাভাবে তাদের প্রথম ম্যাচের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে ফুটবলের সঙ্গে মিলবে বিশ্ব সঙ্গীতের তারকাদের পরিবেশনা।

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম অ্যাজটেকায় (বর্তমান ফিফা নামকরণে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম)। স্বাগতিক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচের দেড় ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় আয়োজিত হবে ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণে থাকছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা এবং আফ্রিকান সংগীত তারকা বার্না বয়। তারা পরিবেশন করবেন টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’। এছাড়া মঞ্চ মাতাবেন মেক্সিকোর জনপ্রিয় ব্যান্ড মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, জে বালভিন, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস এবং টাইলা।

মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অ্যাজটেক সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে আলোকসজ্জা, নৃত্য এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে। আয়োজকদের দাবি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এত বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়নি।

পরদিন শুক্রবার রাত ১টায় কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে কানাডার ও বসনিয়া ম্যাচের আগে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে দেশটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন কানাডীয় সংগীতশিল্পী মাইকেল বুবলে। তার সঙ্গে পারফর্ম করবেন আলেসিয়া কারা, অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ, ইলিয়ানা, ভেজেড্রিম, বলিউড ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি, ডিজে সানজয় এবং উইলিয়াম প্রিন্স। আয়োজকরা কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এমন বৈচিত্র্যময় শিল্পী তালিকা সাজিয়েছেন।

কানাডার অনুষ্ঠানে দেশটির আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আধুনিক কানাডার বহুজাতিক সমাজব্যবস্থা, শিল্প ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের দর্শকদের কাছে একটি ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিতে চায় আয়োজকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে, স্বাগতিকদের প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায়। এ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরি ও র‍্যাপ তারকা ফিউচার। এছাড়া থাকবেন আনিটা, লিসা, রেমা এবং টাইলা। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন ড্যান শে এবং প্যারাগুয়ের সংগীতদল পুরাহেই সোল।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক লেজার প্রযুক্তি, ড্রোন শো এবং ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। হলিউডের বিনোদন জগতের প্রভাবও থাকবে পুরো আয়োজনে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোর একটি।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবে আধুনিক আলোকসজ্জা, বিশাল ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আয়োজক দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরার বিশেষ আয়োজন। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন যুগের প্রতীক হিসেবে ফুটবল ও বিনোদনের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যাবে এই অনুষ্ঠানগুলোতে।

তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সৃজনশীল পরিকল্পনা ও প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে ইতালির মার্কো বালিচ। তিনি একাধিক অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সৃজনশীল পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো তার প্রতিষ্ঠান ‘বালিচ ওয়ান্ডার স্টুডিও’-এর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। অলিম্পিকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। আর বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে শুধু মাঠের খেলায় নয়, বিশ্বসংস্কৃতির এই বর্ণিল মিলনমেলার দিকেও।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ