যে অন্ধকারে মিডিয়া কখনও চোখ রাখে না!
আজ এমন এক অন্ধকারের গল্প বলতে যাচ্ছি যেখানে বাংলাদেশের মিডিয়া চোখ রাখতে ভয় পায়। সেই অন্ধকারে শোষণ, তাচ্ছিল্য আর অপমানে জর্জরিত হলেও বড় বড় সম্পাদক, তুখোড় অনুসন্ধানী সাংবাদিক, বিজ্ঞ কলামিস্ট, টকশোর জনপ্রিয় বিশ্লেষক, কেউই সেই বেদনার কথা বলতে পারেন না। অথচ সেই অন্ধকার জগতের নিয়ন্ত্রকরা সেলিব্রেটি হিসেবে সমাজে সমাদৃত, সাংবাদিকতার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেন, কেউ কেউ নিজেরাই বড় বড় সম্পাদকের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। কারণ যে সম্পাদক মন্ত্রীকে চোখ রাঙান, ঝানু আমলাকে এক হাত দেখিয়ে দেন, রাজনীতিবিদদের দফা-রফা করে দেন, মাফিয়া ডন আর ভয়ংকর সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অসীম সাহসের সঙ্গে কলম ধরেন, সেই সম্পাদক অন্ধকারের সেই মাফিয়া চক্রের সবচেয়ে নিম্নস্তরের কর্মীটিরও রীতিমতো পিঠ চুলকে দেন, সালাম দেন, তার সম্মানে ফাইভ স্টারে পার্টি দিয়ে ধন্য হন!
আমি সেই অন্ধকারের গল্প বলতে এসেছি বড় ঝুঁকি নিয়েই। এই লেখার আগে পরিচিত যার সঙ্গেই কথা বলেছি তারা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ভয় দেখিয়েছেন। ‘যদি এদের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন তাহলে আপনার শুধু সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালনের অধ্যায়ই শেষ হবে না, সম্ভবত আর কখনও কোনো মিডিয়াতে চাকরিও করতে পারবেন না!’ অর্থাৎ, গত প্রায় তিরিশ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার একেবারেই শেষ হয়ে যাবে! তবুও লিখতে বসেছি। কারণ এই অন্ধকার বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনার একটা বড় অংশ নিজেরা দখল করে নিয়ে যাচ্ছে, মিডিয়ার প্রাপ্য অর্থের বড় অংশ নিজেদের পকেটে ভরে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, যখন সাংবাদিকরা ওই অন্ধকারের কুশীলবদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পরিশ্রম করে, মেধার ব্যয় করে, সামান্য বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেও বছরের পর বছর একই বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। আমি তাই আর কাঁপতে রাজি নই, একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যতটুকু সম্ভব এবার সেই অন্ধকারকে উন্মোচন করতে চাই।
আমি এই অন্ধকারের কুশীলবদের প্রথম দাপট দেখেছিলাম ২০০৫ সালে। সে সময় আমি জনকণ্ঠে। রং ফর্সা করা ক্রিমের ব্যবসার নামে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ভণ্ডামি, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পণ্য বিক্রির বিষয়ে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছিলাম। সেই ধারাবাহিক প্রতিবেদন তুমুল আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক মাসের অনুসন্ধানে তৈরি করা সেই প্রতিবেদনে আমার নাম ব্যবহার করা হয়নি। চিফ রিপোর্টার আমাকে বলেছিলেন, এই প্রতিবেদন শুধু দুই-তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নয়, দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে যাবে। ‘ওরা ভয়ংকর পাওয়ারফুল। তোমার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেবে। জনকণ্ঠ বড় প্রতিষ্ঠান, সামলে নেবে। কিন্তু তুমি সামলাতে পারবে না।’ অতএব নাম গোপন রাখা হলো।
কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তারা জেনে গেলেন, আমি সেই রিপোর্টার। প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্ব প্রচারিত হওয়ার পর একটি নারী কণ্ঠে অফিসের নম্বরে ফোন এলো। তিনি নিজের কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় না দিয়ে সরাসরি আমার রিপোর্টের প্রসঙ্গে জানতে চাইলেন, ‘রিপোর্টটা কি আপনি নিজে করেছেন, না অফিসের চাপে অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে করেছেন?’ আমি সবিনয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, প্রথমে তার প্রশ্নের উত্তর দিতে। এরপর তার পরিচয় দেবেন কি না সেটা ভেবে দেখবেন। সঙ্গে আরও একটি কথা বললেন, তারা না চাইলে বড় বড় অনেক পত্রিকার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। অতএব পরিচয় বড় কথা নয়, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি। আমি এবার তাকে সরাসরি জানালাম, ‘আমি নাম-পরিচয়বিহীন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলি না।’ আমি এই কথোপকথনের কথা জনকণ্ঠের তৎকালীন উপদেষ্টা সম্পাদক শ্রদ্ধেয় তোয়াব খানকে জানালাম। তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘তোমার সিরিজ চালিয়ে যাও।’
এরপর দুই দিন পর সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থার অন্যতম একজন কর্ণধার ফোন করলেন। শুধু আমি নই, পুরো বাংলাদেশ তাকে এক নামে চেনে। আমি নিজেও তার গুণের অনেক বড় গুণগ্রাহী। অতএব পরিচয় পেয়ে বিনয়ে গলে পড়লাম। তিনি আগের দিন আমার সঙ্গে সেই নারী কর্মীর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশ করলেন। বাংলাদেশের মিডিয়ার বেশ কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে ইতিবাচকভাবে কথা বললেন। এরপর তার সঙ্গে কোনো একদিন মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন রেখে দিলেন। সিরিজের পঞ্চম পর্বের পর সিরিজ বন্ধ করতে প্রবল বাধা এলো। তবে উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান এবং সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদের দৃঢ়তার কারণে শেষ পর্যন্ত সিরিজটি পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হলো আট পর্বে এসে।
আমি ওপরের উদাহরণ তুলে ধরলাম, বিজ্ঞাপনী সংস্থার ভয়ংকর দাপটের চিত্রটি তুলে ধরার জন্য। আমি যে অন্ধকারের কথা বলতে এসেছি, সেই অন্ধকার বৃত্তের চারদিকে চোখ ধাঁধানো মায়াবি আলোর প্রাচীর তৈরি করে রেখেছে এই বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো। সেই গোলকধাঁধার অন্ধকারের ভেতর মিডিয়ার জন্য চোখ রাখা সত্যিই খুব কঠিন।
আপনাদের মনে হতে পারে, সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থার নাম নিচ্ছি না কেন? সংস্থাটির নাম এশিয়াটিক। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থা। এক সময় এটি পাকিস্তান আমলে ‘ইস্ট এশিয়াটিক’ নামে যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি কপিরাইটার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা আলী যাকের। আমার নিজেরও খুব প্রিয় অভিনয়শিল্পীদের একজন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আলী যাকেরই এশিয়াটিক কিনে নেন। ১৯৭৩ সালেই তৎকালীন লিভার ব্রাদার্স এশিয়াটিকের ক্লায়েন্ট হয়ে যায়। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এশিয়াটিককে। ১৯৮১ সালে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের আরেক দিকপাল আসাদুজ্জামান নূর এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর এশিয়াটিকের যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের মেলবন্ধনও হয়ে ওঠে এশিয়াটিক।
এত বড় বড় মানুষের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই এশিয়াটিক এক সময় দানব হয়ে উঠল। প্রথমে ঢাকার ছোট-বড় সব সংবাদপত্র, পরে টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন সংবাদমাধ্যম—সবকিছুই এশিয়াটিকের দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়ল। বহুজাতিক বড় কোম্পানি যারা নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়, তাদের বেশিরভাগই এশিয়াটিকের ক্লায়েন্ট। অতএব নিয়মিত বিজ্ঞাপন পেতে হলে এশিয়াটিকের কর্ণধার থেকে অফিসের দারোয়ান-পিয়ন সবাইকে তেলে ভাসিয়ে রাখা ছাড়া বড় বড় সম্পাদক, টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকদের কোনো উপায় থাকল না। দেশে ছোট-বড় আরও কিছু বিজ্ঞাপনী সংস্থা থাকলেও সেগুলো এশিয়াটিকের ধারেকাছে ছিল না। ফলে এশিয়াটিকের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য কমিশনের হার দিন দিন বাড়তে লাগল।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে, এক সময় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১০০ টাকার বিজ্ঞাপন হলে ৭০ টাকাই বিজ্ঞাপনী সংস্থার পকেটে যাওয়া শুরু করল। এখনকার হিসেবও অনেকটা তাই। ধরুন একটা বড় ব্র্যান্ড থেকে একটা পত্রিকার জন্য ১০০ টাকার বিজ্ঞাপন এলো। প্রথমেই তার ৫৫ টাকা যাবে সরাসরি বিজ্ঞাপনী সংস্থার পকেটে। আবার বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থা সরাসরি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় না। বিজ্ঞাপন আসে সাব-এজেন্সির মাধ্যমে। এসব সাব-এজেন্সির গোপন কর্ণধার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা টিভি চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগের হোমরা-চোমরা কেউ। এদের কাছে চলে যায় আরও ১৫ টাকা। এই ১৫ টাকার মধ্যে ৫ টাকা পায় সাব-এজেন্সি, ১০ টাকা চলে যায় মূল বিজ্ঞাপনদাতা ব্র্যান্ড কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তার কাছে। ফলে শেষ পর্যন্ত পত্রিকা পায় ৩০ টাকা। এ কারণে দেখবেন, যে পত্রিকায় তিন মাস ধরে বেতন নেই, সাংবাদিকরা ধারদেনায় জর্জরিত, সে পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতি বছর গাড়ির মডেল বদলাচ্ছেন!
এশিয়াটিক এত বড় কোম্পানি হওয়ার পরও দেশের বাইরে তাদের ব্যবসা বিস্তৃত করতে পারেনি। কারণ সহজে বিপুল আয়ের কারণে, তাদের সামনে নতুন উদ্ভাবনের চিন্তা মাথাতেই আসেনি। তবে এশিয়াটিক বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বহুজাতিক কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা মাইন্ডশেয়ারের অংশীদার হয়ে ‘এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার’ হয়েছে। এরপর শোষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমি আমার অভিজ্ঞতায় দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে সবচেয়ে বেশি দীর্ঘসূত্রতা করে যে প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সংবাদমাধ্যম-সাংবাদিকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তার নাম এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার। আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমন রাজউকে ফাইল হারানোর খবর ছাপতাম। এখন হরহামেশা ফাইল হারায় মাইন্ডশেয়ারে। তাদের কাছে তিন মাস আগে একটা বহুজাতিক কোম্পানির বিজ্ঞাপনের বিল পাঠানো হলো। মাইন্ডশেয়ারের এক কর্মী জানালেন, বিল পেতে প্রায় ছয় মাস লাগবে। এর একমাস পর আরেক কর্মী ফোন করে রীতিমতো নির্দেশের সুরে বললেন, ‘আগের বিলের কপি হারিয়ে গেছে, আবার যেন সেই বিলের কপি তাদের অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়!’ বলেই ধপাস করে ফোন রেখে দিলেন। সরকারি অফিসের কর্মকর্তারাও নিজেরা ভুল করলে একবার সরি বলেন। এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার কর্মীদের মধ্যে সেই ন্যূনতম ভদ্রতাজ্ঞানও নেই। বিল হারিয়েছে এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার, ভুলটা তাদের। অথচ নিজেদের ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম অফিসকে তারা কড়া গলায় নির্দেশ দিচ্ছে! কত বড় ধৃষ্টতা।
কেউ যদি একবার বনানীতে এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার অফিসে যান, তাহলে হতাশ হবেন। এত রুগ্ণ চেহারার বহুজাতিক কোম্পানির অফিস ঢাকায় খুব কমই আছে। অফিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে স্পষ্ট বুঝবেন এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুবই কম, যে কারণে ব্যবহারটাও খুব খিটখিটে। এত নিম্নমানের কর্মকর্তা-কর্মী দিয়ে সম্ভবত বাংলাদেশে আর কোনো বহুজাতিক কোম্পানি চলে না! নিম্নমানের কর্মী রাখার অর্থ হচ্ছে এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ারের সুশীল কর্ণধাররা অত্যন্ত কম বেতনে কর্মী রেখে বেশিরভাগ টাকা নিজেদের পকেটে রাখছেন!
অথচ দেশের বিজ্ঞাপনের বাজারের সিংহভাগ এদের দখলে। সংবাদমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দের প্রায় ৫৫ শতাংশ এরাই নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সবচেয়ে বড় সংকটের পেছনে এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ারের মতো বেনিয়া কোম্পানি। যদি একটা পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের বিজ্ঞাপনের বিল ছয় মাস আটকে রাখা হয়, তাহলে কী অবস্থা দাঁড়ায়! বিশেষ করে মাঝারি আয়ের সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য খুবই বড় সংকট তৈরি হয়। যদি মাসে তিনটে বিজ্ঞাপন আসে, আর তিনটেই হয় মাইন্ডশেয়ারের মাধ্যমে, তাহলে ওই মাসে সেই মিডিয়ার সাংবাদিকদের বেতন আটকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়! আসলে এরা প্রত্যেক সংবাদমাধ্যমের, প্রত্যেক সাংবাদিকের শত্রু। এদের ঠেকানোর একমাত্র উপায় দেশের সব সংবাদমাধ্যমের একজোট হয়ে এদের বয়কট করা! মূল ব্র্যান্ড থেকে সরাসরি বিজ্ঞাপন এলে সংবাদমাধ্যমগুলো বরাদ্দকৃত বাজেটের অন্তত ৬০ শতাংশ পাবে।
ভারতেও মাইন্ডশেয়ারের কার্যক্রম আছে। আরও একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম আছে। কিন্তু ভারতের স্থানীয় কোম্পানি ম্যাডিসন মিডিয়া সবাইকে ছাপিয়ে এখন সে দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থা। তারা কোনো বিদেশি বেনিয়ার অংশীদার না হয়ে নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আমি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে নই। যদিও এ ধরনের সংস্থা একটা মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান, তবুও সেটা হতে পারে। একটা বড় ব্র্যান্ড এ ধরনের এজেন্সি নিয়োগ করতেই পারে।
কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিদেশি বেনিয়া সংস্থার এজেন্ট হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ বিদেশি কোম্পানির এজেন্ট হলে দেশের বাইরে টাকা যাবেই। অথচ এ ধরনের বিজ্ঞাপনী সংস্থা কোনো উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের জিডিপিতে বড় অবদান রাখতে পারে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানও নয়। এ কারণে সরকারের নীতিমালা থাকা উচিত, বিদেশি বিজ্ঞাপনী এজেন্সিগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা। বরং এ খাতে কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে নীতিসুবিধা দিয়ে একটা সুনির্দিষ্ট নীতির মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা, যেন সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে কমিশন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে বড় কোনো পার্থক্য তৈরি না হয়। বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার নামে দুর্নীতির খেলা না চলে।
২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে ডিএফপি’র একক নিয়ন্ত্রণ থেকে সরকারি বিজ্ঞাপন মুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলে সরকারি বিজ্ঞাপন ঘিরে দুর্নীতির প্রায় ৭০ শতাংশই দূর হয়ে গিয়েছিল। এবার বর্তমান সরকার যদি এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ারের মতো দানবদের হাত থেকে দেশের বিজ্ঞাপন খাত মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে সেটা হবে আরও একটি বড় মাইলফলক।
রাশেদ মেহেদী, সম্পাদক, ভিউজ বাংলাদেশ
মতামত দিন