এলপি গ্যাসে সিন্ডিকেট, সংকটের দায় কার?
দুদিন ধরে ঘরে এলপি গ্যাস নেই। একদিন বাজার ঘুরেও সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। পরদিন পাওয়া গেলেও দাম বেশি হওয়ায় কেনার সামর্থ্য নেই। বর্তমানে একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা। বাধ্য হয়ে মাটির চুলাতেই রান্না করতে হচ্ছে। দাম কমলে তখন কিনবো।
কথাগুলো বলেন বগুড়া শহরের শাকপালা এলাকার বাসিন্দা সিয়াম ইসলাম।
সিয়াম ইসলাম আরও জানান, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) শাকপালা এলাকায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গেলে ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম চান। ওই সময় ব্যবসায়ী জানান বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, তাই মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
দাম কমলে বাড়ির জন্য এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনবেন বলে জানান সিয়াম।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ (জানুয়ারি মাসের জন্য) করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অথচ বগুড়ায় সেই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, দোকানে সিলিন্ডার মজুত থাকা সত্ত্বেও প্রথমে গ্যাস নেই বলা হয়। পরে বেশি দাম দিতে রাজি হলে তখনই গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যায়। সরকার নির্ধারিত দামের কোনো তোয়াক্কা নেই।
বগুড়া শহরের রেহানুল ইসলাম, সুমন হোসেনসহ অন্তত ১০ জন খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রেতার সঙ্গে কথা হয়।
তারা জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা নিয়মিত সরবরাহ করছেন না।
খুচরা ব্যবসায়ী সুমন হোসেন বলেন, আমার দোকানে এখন কোনো সিলিন্ডার নেই। ডিলাররা বেশি দাম চান। তাই কিনতে পারছি না। অনেক ক্রেতা নিরুপায় হয়ে বলেন দাম বেশি হলেও এলপি গ্যাস এনে দিন।
তবে তারা (খুচরা ব্যবসায়ী) স্বীকার করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সংকটের সুযোগে অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন।
পেট্রোম্যাক্স এলপি গ্যাসের বগুড়ার ডিলার আর কে রাধাকৃষ্ণ ট্রেডিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, গুদামে গ্যাস ভর্তি কোনো সিলিন্ডার নেই। শুধু ফাঁকা সিলিন্ডার পড়ে আছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাধন চন্দ্র মোদক ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, সপ্তাহে আমাদের প্রায় ৪ হাজার সিলিন্ডার প্রয়োজন। অথচ কোম্পানি দিয়েছে মাত্র ১০০টি। আমরা দাম বাড়াইনি। মূলত কোম্পানিগুলোই সরবরাহ প্রায় বন্ধই রেখেছে।
যমুনা স্পেসটেক (এলপি গ্যাস) এর উত্তরবঙ্গের হোল্ড ডিস্ট্রিবিউটর নূর উদ্দিন ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, গত ৫ জানুয়ারি এলপি গ্যাসের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা থাকলেও পৌঁছায়নি। একারণে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ৮ বা ৯ জানুয়ারির মধ্যে জাহাজ এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তবে ব্যবসায়ী নূর উদ্দিনের এই কথায় একমত নন ক্রেতা ও অনেক খুচরা ব্যবসায়ী।
তাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। একই অভিযোগ করছে সরকারও।
এলপি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানান তিনি।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, এলপি গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের অভিযান চলমান। গতকালই (৫ ডিসেম্বর) অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তবে অভিযানের পরও কেন সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন হচ্ছে না-এমন প্রশ্নে ডিসি বলেন, আমরা তো আর মেশিন না যে একদিনেই সব নিয়ন্ত্রণ হবে। অভিযান চলছে। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে