প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: ৪৬ হাজার প্রার্থীর ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল মেধার ভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে রিট আবেদনকারী ১৫১ জন প্রার্থীকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করে পুনরায় প্রকাশ করতে হবে।
রিটকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাজুল ইসলাম রায়ের পর সংবাদমাধ্যমকে জানান, আপিল বিভাগ তিনটি প্রধান নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত, ১৫১ জন রিটকারীকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ২০২৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফল সুপ্রিম কোর্টের কোটা-সংক্রান্ত রায়ের আলোকে পুনরায় প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেন, আগের কোটা পদ্ধতির পরিবর্তে মেধাভিত্তিক নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় যেসব ৬ হাজার ৫৩১ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ ন্যায়বিচারের স্বার্থে বহাল রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পুরোনো কোটা কাঠামো অনুসরণ করে ফলাফল প্রস্তুত করায় প্রার্থীরা এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট আগের নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দিলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায়। আজ সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় মূলত বহাল রেখে এই নতুন নির্দেশনাগুলো জারি করলেন।
মতামত দিন