Views Bangladesh Logo

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টি বলয়

প্রায় সারা দেশে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে সৃষ্ট একটি শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ বা ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭ বা ৮ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে এই বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব অনুভূত হতে পারে। এতে করে দীর্ঘদিনের তাপদাহ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। তবে বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশেই বাড়বে তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত।

বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে সিলেট বিভাগে। এ অঞ্চলের চার জেলা- সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভিবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাহাড়ি ঢল ও স্বল্পমেয়াদি জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকায় এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগেও বৃষ্টি বলয়ের সক্রিয়তা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এসব অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব কিছুটা কম থাকবে। এসব এলাকায় মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত ও স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া ও বজ্রঝড় দেখা দিতে পারে।


ঢাকা আবহাওয়া আফিস জানিয়েছে, এই সময়টাতে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. আজিজুর রহমান ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ ধরনের বৃষ্টি বলয় সাধারণত মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পূর্বাভাস দেয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে।’ তিনি জানান, এসময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি থাকবে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশীদ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘বৃষ্টি বলয় বঙ্গোপসারে সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৬ বা ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭ বা ৮ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব অনুভূত হতে পারে। এর কারণে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়বে। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এসব ঝড় তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসময় তীব্র বজ্রপাতের শঙ্কাও থাকবে।’ তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা বাড়ছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাছাড়া কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য এই বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিবৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আগাম প্রস্তুতি জরুরি।


জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সমরেন্দ্র কর্মকার এই বৃষ্টি বলয়ের বিষয়ে বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর আগমনের প্রাক্কালে এ ধরনের বৃষ্টি বলয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এটি একদিকে যেমন গরম কমাতে সহায়ক, অন্যদিকে কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগাম বৃষ্টিপাত বোরো ধানের জন্য উপকারী হলেও অতিবৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।


বৃষ্টি বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এই সময়ে কৃষক, জেলে ও খোলা স্থানে কাজ করা সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


তবে এই বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হওয়ার আগে দেশের আবহাওয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে করে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, কৃষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এ সময় তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি বলয় আসার আগ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায়ও তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়া অব্যাহত থাকবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ