‘বারবার মামলা না দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন’, আরেক মামলায় গ্রেপ্তার মডেল মিষ্টি
আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মডেল সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাসকে। রোববার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
এদিন কারাগার থেকে মিষ্টি সুবাসকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তার আইনজীবী গোলাম রাব্বানী এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানান আইনজীবী গোলাম রাব্বানী।
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ মিষ্টি সুবাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিষ্টি সুবাস আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান।
অনুমতি পেয়ে তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছি। এটা তো কোনো অপরাধ হতে পারে না। আমাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জামিন পেলেই আমাকে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন।’
পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মিষ্টি সুবাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন কিশোর মো. আবির। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের ছোড়া গুলিতে আবির, যিনি এ মামলার বাদী, গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিদের সহযোগী হিসেবে মিষ্টি সুবাস প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
গত ২৬ মার্চ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসেন মিষ্টি সুবাস। ওই দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে অবস্থান করার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে।
ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ওই মামলায় তিনি জামিন পান। তবে জামিন পেলেও কারাগার থেকে বের হতে পারেননি। কারণ, এরপর তাকে একের পর এক অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মতামত দিন