সহজ ডট কমের প্রতারণা, কল্যাণপুরে বাস কাউন্টারের সামনে অসংখ্য ভুক্তভোগী
অনলাইন টিকেটিং সার্ভিস সহজ ডট কমের (Shohoz.com) ভয়াবহ প্রতারণায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো শত শত ঈদ যাত্রী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কল্যাণপুর দূরপাল্লার বাস কাউন্টারে গিয়ে সহজ প্রতারণার শিকার যাত্রীদের সঙ্গে কথা হয়। প্রতিবেদক নিজেও সহজ ডট কম থেকে ঢাকা থেকে বগুড়া-নওগাঁগামী ব্লু-লাইন এক্সপ্রেসের বাসের টিকেট কেটে প্রতারণার শিকার হন। ১৯ মার্চ সকাল ৯টার নির্ধারিত বাসের টিকেট আধ ঘন্টা আগে সকাল সাড়ে আটটায় বাতিল করে মেসেজ পাঠায় সহজ ডট কম।
পরে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কল্যাণপুর বাস কাউন্টারের গিয়ে শত শত যাত্রীকে কাউন্টারের সামনে উদ্বিগ্ন দেখা যায়। হুমায়ুন কবীর নামে একজন যাত্রী জানান, তিনি ব্লুলাইন থেকে ১৮ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার দু'টি টিকেট কেটেছিলেন। ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় তাকে ব্লু লাইন এক্সপ্রসের ম্যানেজার পরিচয়ে একজন ফোন দিয়ে জানান, তার বাসের সময় পরিবর্তন হয়েছে। তার বাসটি ১৯ মার্চ সকাল ৭টায় ছাড়বে। পরে তিনি সকাল ৭টায় এসে দেখেন, বাসের কাউন্টারের সামনে অসংখ্য যাত্রী। রাত ১২টা থেকে প্রতি দুই ঘন্টা পর পর ট্রিপ শিডিউল ছিল। কোন ট্রিপের গাড়িই ছাড়েনি। কাউন্টারে বাস কর্তৃপক্ষের কেউ নেই। যারা সহজ ডট কম থেকে টিকেট কিনেছিলেন তাদের প্রত্যেকের যাত্রা বাতিলের মেসেজ এসেছে ট্রিপের নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা আগে। তিনি বলেন, সহজ ডট কম একটি সুপরিচিত অনলাইন টিকেটিং ব্র্যান্ড। এখানে এভাবে প্রতারক বাস কোম্পানির টিকেট বিক্রি হবে, কল্পনাও করা যায় না। সহজ ডট কমের কারনেই মানুষ এ নতুন বাস সার্ভিস দাবি করা এ পরিবহনের টিকেট নিশ্চিন্তে কেটেছে। ঈদ যাত্রার আধঘন্টা আগে এভাবে ট্রিপ বাতিল করা অমানবিক। এর দায় অবশ্যই সহজ ডট কমের।
কল্যাণপুরে ব্লু-লাইন এক্সপ্রেসের কাউন্টারে সকাল ৯টায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এখানে আরও দু'টি কাউন্টার ছিল, সেগুলোও বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। পার্শ্ববর্তী শাহ ফতেহ আলী কাউন্টারের কর্মকর্তা রাসেল জানান, রাত ১২টা থেকেই ব্লু লাইন এক্সপ্রসে টিকেট কাটা অনেক যাত্রী এসে বাস না পেয়ে শাহ ফতেহ আলীসহ অন্যান্য বাস সার্ভিসে টিকিট খুঁজছেন। তাদের বেশীরভাগই সহজ ডট কম থেকে টিকেট কিনেছিলেন।
অপর একটি বাস কাউন্টারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্লু-লাইনের মত আরও কয়েকটি নাম সর্বস্ব পরিবহন সার্ভিস আছে, যেগুলোর নিজস্ব বাস বহর নেই। মূলত অন্য কোম্পানি থেকে বাস ভাড়া করে সহজ ডট কমের মাধ্যমে ঈদের আগে ঘন্টায় ঘন্টায় ট্রিপ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টিকেট বিক্রি করে। পরে কিছু যাত্রী পরিবহন করে, আর অধিকাংশ ট্রিপ বাতিল করে দেয়। এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে সহজ ডট কমের এক ধরনের যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।
খবর পেয়ে পুলিশের উপ পরিদর্শক মো.কবীর ঘটনাস্থলে আসেন এবং উত্তেজিত যাত্রীদের শান্ত করেন। তিনি পাশের একটি কাউন্টার থেকে ব্লু লাইন এক্সপ্রেসের সজল নামে একজন কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর নেন এবং তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কথা শেষ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা ভুক্তভোগী যাত্রীদের জানান, আধঘন্টা পর একটা বাস পাঠানোর কথা জানিয়েছে সজল নামের কর্মকর্তা। তিনি যাত্রীদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে দু'জন কাউন্টার কর্মী আসেন। নাহিয়ান ইসলাম নিশাত নামে একজন কাউন্টার কর্মী জানান, এখন তাদের কাউন্টার থেকে যারা নগদ টাকায় টিকেট কেটেছেন, তারাই এ দু'টি বাসে যেতে পারবেন। সহজ ডট কম থেকে টিকেট কাটা যাত্রীরা যেতে পারবেন না। তাদের টাকা এক মাসের মধ্যে সহজ ডট কম ফেরত দেবে। ফলে আবারও কাউন্টারের সামনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে অবস্থান নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে যাত্রীদের শান্ত করেন। তবে সহজ ডট কম থেকে টিকেট করা কোন যাত্রীই শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে আলাপ করার জন্য সহজ ডট কমের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করা হলেও কেউ ফোন ধরেনি। সহজ ডট কমের হট লাইন নম্বরে চার দফা ফোন দিয়েও কোন কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এ বছরই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার ট্রেন ও বাসের অনলাইন টিকেট নিয়ে সহজ ডট কমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে