২৭ জুলাই শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু: চিফ প্রসিকিউটর
বহুল আলোচিত শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে মামলার বিচারিক কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।
এর আগে গত ৭ মে ডা. দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন। ওইদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে পরিচালিত অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে এ বিষয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে ওই ঘটনার বিষয়ে উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগে সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
মতামত দিন