বাজারে সংকট সয়াবিন তেলের, কমেছে চালের দাম
দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়ানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তেলের দাম আর বাড়ানো হবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সরবরাহ সংকট আরও গভীর হয়েছে, বেড়েছে দামও। এই যখন পরিস্থিতি, তখন ব্যবসায়ীদের দিক থেকে নতুন দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। সাধারণত রমজানে তেলের চাহিদা দ্বিগুণ হয়। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। সেই ফর্মুলাতে এগোচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আবারও দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে, চাল আমদানির খবরে বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দাম কিছুটা কমেছে। জাতভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ১ থেকে ৪ টাকা কমেছে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। তাই, অনেক ক্রেতা তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এখন বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ১৫৭ টাকা। বোতলজাত দুই লিটার সয়াবিন তেল ৩৫০ টাকায় এবং পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৮৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ সপ্তাহে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৮ থেকে ৬৪ টাকা, সরু চাল ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং ব্রি-২৯ চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কমছে আলু ও পেঁয়াজসহ সবজির দাম
এখন বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির কেজি ৫০ টাকার মধ্যে। রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, সিম ২৫ টাকা, মুলা ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, দেশি শসা ৩০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, প্রতিটি পিস লাউ ৪০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা এবং বড় সাইজের ফুলকপির জোড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরবরাহ ভালো থাকায় কমেছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। প্রতি কেজি রসুন ২৪০ টাকা ও দেশি আদা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মাছের সরবরাহও ভালো। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দাম কিছুটা কমেছে। তবে, নদীর মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। এখন মাঝারি সাইজের চাষের রুইয়ের কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। প্রতি কেজি চাষের পাঙাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ ১৫০ টাকা, শিং ৫০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ডিমের দামও কমেছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।
ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক আছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় বাজার করতে আসা শিল্পি বেগম বলেছেন, ‘সবজির দাম কমছে। আমরা চাহিদামতো কিনতে পারছি। তবে, মুদিপণ্যের দাম আগের মতো। তেলের দাম কমলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য উপকার হতো।’
কারওয়ান বাজারের একটি নামি ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেলের ডিলার মো. রাসেল শিকদার বলেন, ‘আমার প্রতিদিনের চাহিদা ২০০ কার্টন তেল; কিন্তু আমার কাছে সেগুলোর মাত্র ১১০ কার্টন এসেছে। তা-ও এক দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কোম্পানির কাছে আমি অগ্রিম টাকা জমা দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা সঠিক পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে না। বাজারে তেলের সংকট চলতে থাকলে আমরা কীভাবে ব্যবসা চালাব?’
মতামত দিন