কাদের, নাসিম ও আরাফাত গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন না: আইনজীবী
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গুলিবর্ষণ, হত্যা বা সহিংসতার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তাদের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনকালে তিনি এ দাবি করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতাকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, মিরপুর থেকে শুরু করে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও ফেনী—কোথাও সংঘটিত সহিংসতার কোনো ঘটনাস্থলে কাদের, নাছিম বা আরাফাতের ব্যক্তিগত উপস্থিতির প্রমাণ প্রসিকিউশন দেখাতে পারেনি।
তিনি জানান, এই তিনজনের পক্ষে তিনি আইনি লড়াই করছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের মূল অভিযোগ হলো, তারা ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ের নীতির আওতায় হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হাসান ইমাম যুক্তি দেন, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো কমান্ডারের অধীনস্থদের সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু কাদের, নাছিম ও আরাফাত রাজনীতিবিদ, তারা কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার নন।
তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, সব নির্দেশ একজন ব্যক্তির কাছ থেকেই এসেছিল। এই মুহূর্তে আমি তার নাম বলব না। তবে সবাই সেই ব্যক্তির নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে। সুতরাং কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আওতায় আমার মক্কেলরা দায়ী নন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যেও বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত তিন নেতার উপস্থিতির কথা পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ড বা গুলিবর্ষণের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণও প্রসিকিউশন হাজির করতে পারেনি।
তার যুক্তি, যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, দায় তাদেরই। শুধু রাজনৈতিক নেতা হওয়ার কারণে তাদের ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা যায় না।
তবে ট্রাইব্যুনাল জানতে চাইলে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জন্য তিনি কাকে দায়ী করছেন, তার নাম প্রকাশ করেননি হাসান ইমাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার আসামি নন—এমন কোনো ব্যক্তির নাম বলা যাবে না। তিনি শুধু দাবি করেন, একজন ব্যক্তিই নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ওই ব্যক্তি এ মামলার আসামি নন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আইনের সংশোধিত ধারার আওতায় রাজনৈতিক নেতাদের দায়ী করার যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ধারায় একজন ব্যক্তির দায়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার মক্কেলদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য নেই।
এসব যুক্তি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।
মতামত দিন