অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৭ উপদেষ্টার পরিচিতি
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর গতকাল বুধবার গঠিত হয়েছে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও ১৬ জন উপদেষ্টা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৬ সালে তিনি ও তার গ্রামীণ ব্যাংক শান্তিতে নোবেল পান। বিশ্বের ২৪টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬১টি সম্মানসূচক ডিগ্রি পেয়েছেন তিনি। তার ঝুলিতে আছে ৩৩টি দেশের ১৩৬টি সম্মাননা। কিন্তু নিজ দেশেই গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন কোণঠাসা। কর্তৃত্ব হারিয়েছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত সেই গ্রামীণ ব্যাংকের। মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি কলাম লেখেন নিয়মিত। তার বাড়ি বরিশালে।
সুপ্রদীপ চাকমা: একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসু প্রদীপ চাকমা। ২০২৩ সালে ২৪ জুলাই তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়। মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত ছিলেন সুপ্রদীপ চাকমা। এছাড়া রাবাত, ব্রাসেলস, আঙ্কারা এবং কলম্বোতে বাংলাদেশ মিশনেও তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নবম গভর্নর ছিলেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর (দরিশ্রীরামপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
এ এফ হাসান আরিফ: ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি, এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ ।
ড. আসিফ নজরুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি লেখক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। তাকে নিয়মিত সমসাময়িক বিষয় নিয়ে টক শোতে দেখা যায়।
তৌহিদ হোসেন: বাংলাদেশের একজন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন। তিনি ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবেশকর্মী হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ফারুক-ই-আজম: ‘বীর প্রতীক’ পদবির মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিধান রঞ্জন রায়: জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি লেখালেখির সঙ্গেও জড়িত।
আদিলুর রহমান খান: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মী হিসেবেও পরিচিত আদিলুর রহমান খান। ১৯৯৪ সালে ‘অধিকার’ নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
ফরিদা আখতার: বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। পাশাপাশি তিনি একজন লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী।
আ ফ ম খালিদ হাসান: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আ ফ ম খালিদ হাসান। পেশায় তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন।
নূর জাহান বেগম: গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নুরজাহান বেগম।
শারমিন মুরশিদ: সমাজ কল্যাণ সংস্থা ‘ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মো. নাহিদ ইসলাম: তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন নাহিদ। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা করছেন। একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন এই সমন্বয়ক। এরপর সেখান থেকে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন।
সর্বশেষ তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সূচনার পর তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে