ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের হিড়িক
ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর মধ্যে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একের পর এক আবেদন জমা পড়ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কিংবা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান আছে। দ্রুতই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া শুরু হবে।
জানা গেছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে আবেদন করতে হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আবেদকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মাত্রা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেয়। ঝুঁকি প্রমাণিত হলে মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেন এবং পুলিশ সদস্য (গানম্যান/বডিগার্ড) বা অন্য কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বরাদ্দ করা হয়।
অন্যদিকে পিস্তল/রিভলভারের জন্য সর্বনিম্ন ৩০ এবং শটগানের জন্য ২৫ বছর হতে হয়। জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর নিরাপত্তা চেয়ে রাজনীতিবিদদের আবেদন বেড়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর আবেদন করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। নিরাপত্তা চেয়ে গত ২২ ডিসেম্বর আবেদন করেছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, একই দিন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, ২৪ ডিসেম্বর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও ২৮ ডিসেম্বর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ, একই দিন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ আবেদন করেছেন।
এছাড়া ডেমরা–যাত্রাবাড়ী থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, পাবনা–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাফির তুহিন, যশোর-৫ আসনের এম ইকবাল হোসেন, ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার, ঢাকা-৯ আসনের হাবিবুর রশিদ, ঢাকা-১০ আসনের শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৮ আসনের এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়তের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গত ডিসেম্বরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস তারুকদার দুলু ও রেজা কিবরিয়া আবেদন করেছেন চলতি জানুয়ারি মাসে।
আবেদনকৃতদের তালিকায় আরো আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আকতার হোসেন. হান্নান মাসউদ ও এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা তাসনিম জারা। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্ত (যুগ্ম সচিব) বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থী অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট জেলা এসপি, রেঞ্জ ডিআইজি ও মেট্রোপলিটন কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গানম্যান, নজরদারি ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণআন্দোলনে সক্রিয় অনেকেই গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দাবি করেছেন। তবে ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হলেও পুলিশ বাহিনীর সীমিত জনবলের কারণে সবাইকে গানম্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক আবেদনকারী শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং ব্যক্তিগত যানবাহন না থাকায় বিশেষ করে যারা রিকশা বা গণপরিবহনে চলাচল করেন তাদের ক্ষেত্রে গানম্যান মোতায়েন বাস্তবসম্মতও নয়।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অনেকেই আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে যারা বেশি ভারনারেবল (নিরাপত্তা ঝুঁকিতে) রয়েছেন তাদের একজন অস্ত্রধারী রক্ষী দেওয়া হচ্ছে। যারা কম ঝুঁকিতে আছেন তাদের কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, কিভাবে চলাফেরা করবেন। কোন সময় কখন কাকে কী জানাতে হবে। সবাইকে তো আর গানম্যান বা অস্ত্র দেওয়া সম্ভব না।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে