Views Bangladesh Logo

টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত

‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’কে প্রাধান্য দিয়ে নীতিমালা তৈরি করতে হবে

Rased Mehedi

রাশেদ মেহেদী

সম্প্রতি ফ্রান্স সরকার সরকারি দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুম কিংবা মাইক্রোসফটের মিট কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য ‘অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সিং প্লাটফরম’ ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সিদ্ধান্তে বলা হয়, ফ্রান্স ২০২৭ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিদেশি অন্য কোনো রাষ্ট্রের ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার ব্যবহার থেকে সেরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায় থেকেই সরে আসতে চায়। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, ওই প্লাটফরমগুলোতে অসংখ্য সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং সেই আলোচনার ডাটা যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে যা ফ্রান্সের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করছে।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য সমন্বিত ‘ডিজিটাল সার্বভৌম’ নীতি গ্রহণেও উৎসাহিত করার বিষয়ে ফ্রান্স উদ্যেগে নেবে বলেও জানানো হয়। ইউরোপের আরও এক দেশ অষ্ট্রিয়া মাইক্রোসিফটের অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে এবং নিজেদের তৈরি অফিস ব্যবহারকে সার্বজনীন বরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এক্ষেত্রে বিলাসী রাজতন্ত্রের দেশ সৌদি আরবও আরও একধাপ এগিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘সার্বভৌম এআই’ জাতীয় নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি চ্যাটবট-ভিত্তিক এআই সার্ভিস প্রোভাইডার ওপেন এআই এবং গ্রোককে সৌদি আরবের স্থানীয় এআই কোম্পানি ‘হিউমেইন’-এর সার্ভারের মাধ্যমে সেবা প্রদানে চুক্তি করেছে। এ চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের মে থেকেই দাম্মামে স্থাপন করা ডাটা সেন্টার ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি কোম্পানি সৌদি আরবের ব্যবহারকারীদের সেবা দিচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের এআই দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এমন একটি এআই ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তুলেছে যেখানে বিদেশি প্লাটফর্মও সৌদি আরবের সার্ভারের বাইরে তাদের ডাটা স্থানান্তর করতে পারছে না। এটাই এ মুহূর্তে ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।

গত ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজধানী দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইন্ডিয়া ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। এই সামিটে বেশি রাষ্ট্রপ্রধান, ৬০ জন মন্ত্রী এবং ৫০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক এআই বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। এই সামিটের শেষ দিনে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ইন্ডিয়া এ আই মিশন ২.০ ঘোষণা করেন। তার বর্ণনায় ভারতের জন্য সার্বভৌম এআই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ মিশনের লক্ষ্য।

ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার মিশন নিয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যেগের বিষয় নিয়ে আরও উদাহরণ দিলে শ্রীলংকা, উজবেকিস্তানসহ আরও কিছু দেশের নাম চলে আসবে। আর ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান দুনিয়ার বাস্তবতায় ‘সভরেন এআই’ বা নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের এআই অবকাঠামো তৈরির কোনো বিকল্প নেই। এই বাস্তবতা থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিষয়টিকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

‍ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব কিংবা সভরেন এআই সম্পর্কে অনেকেরই কম-বেশি জানা আছে। তবু বলি, শুধু ভার্চুয়াল জগতে নয়, অ্যাকচুয়াল জগতেও সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এখন ‘ডাটা’। ভার্চুয়াল জগতে বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন বড় ভলিউমের ডাটা তৈরি করছেন এবং সেগুলো অ্যাকচুয়াল বা বাস্তব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সমরাস্ত্রের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণেই বিভিন্ন দেশ এমন ডাটা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে, যেটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অন্য দেশ সহজে সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। যেমন চীন যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের প্লাটফরমের বিপরীতে নিজস্ব প্লাটফরম গড়ে তুলেছে।

রাশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আভ্যন্তরীণ ‘অফ নেট’ ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ভারতে টেলিকম খাতের অগ্রগতি বিদেশী কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে শুরু হলেও গত কয়েক বছরে দেশটির পুরো টেলিযোগাযোগ খাতের অবেকাঠামো, অপারেশন এবং সার্ভিস ডেলিভারি সব কিছুই স্থানীয় কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় চলে এসেছে। এমনকি ফেসবুক, গুগলের মতো প্লাটফর্ম ভারতে সার্ভিস দিচ্ছে ভারত সরকারে সব শর্ত মেনে এবং নিয়ন্ত্রণে থেকে। এখন ধীরে ধীরে শ্রীলংকাও সে পথেই হাঁটছে। সৌদি আরব একটু ব্যতিক্রম। বিদেশি এআই প্লাটফর্মকে নিজেদের সার্ভারের চৌহদ্দির মধ্যে থেকে সার্ভিস দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় নিয়ে আসার ঘটনা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ওপরে যেসব দেশের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে সেগুলো তো যথেষ্ট উন্নত অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের কি সেই অবস্থা আছে? অবশ্যই আছে। কারণ শ্রীলংকর উদাহরণ তো সামনে আছে। আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও বেশি। কারণ টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের কিছু স্থানীয় উদ্যেক্তা যেভাবে প্রতিকূল সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর জোরালো আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে, তা শ্রীলংকার চেয়ে অনেক ভালো উদাহরণ।

স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও উদ্যেক্তাদের হাতে দেশজুড়ে বিস্তৃত ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠা, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া, টায়ার থ্রি ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা, আইওটি সফটওয়্যার টেকনোলজি জাপানের মতো দেশে সরবরাহ করা, নিজেদের চেষ্টায় কারখানা স্থাপন করে স্মার্টফোন উৎপাদন করা সবকিছুই আমাদের অমিত সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। বিগত বছরগুলোতে তাই কিছুই হয়নি, সে ধুয়া তুলে সবকিছু বাদ দেওয়া যায় না। কিছুই না হলে ফোরজি ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন কীভাবে? গ্রামে বসে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছেন কীভাবে?

বাস্তবতা হচ্ছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো মোটামুটিভাবে গড়ে উঠলেও ডিজিটাল সার্ভিস অবকাঠামো এবং পরিষেবা কেন্দ্রিক যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলো মূলত ফাঁকা আওয়াজই থেকে গেছে। যেমন টায়ার ফোর ডাটা সেন্টার করা হয়েছে, কিন্তু সেটা এত বেশি অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালণা করা হয়েছে যে তার কোনো গুরুত্বই জাতীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠেনি।

বরং বেসরকারি উদ্যেক্তা আরও কম ব্যয়ে যে টায়ার থ্রি ডাটা সেন্টার নির্মাণ করেছেন, সেটা সরকারের টায়ার ফোরের চেয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি আস্থা অর্জন করেছে। সরকারি পর্যায়ে অবাস্তব চিন্তায় পাঁচশ’র বেশি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। ‘লার্নিং আর্নিং’ কিংবা এ জাতীয় যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি।

আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো। বিটিসিএল, টেলিটক, বিএসসিসিএল, কেবল শিল্প কোম্পানি, টেলিফোন শিল্প সংস্থা বারবার দুর্নীতির জন্য সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগত রুগ্ন হয়েছে।

বিটিসিএল মূলত পরিণত হয়েছিল সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আমলা, কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং দু-তিনটি বিদেশি ভেন্ডর কোম্পানির কম সময়ে বড় টাকা বানানোর উর্বর ক্ষেত্র। বিটিসিএল-এর ৯৫ শতাংশ প্রকল্পই দুর্নীতির জন্য আলোচিত হয়েছে। টেলিটক কখনো নিজের পায়ে দাঁড়াতেই পারেনি, চিরদিনের লোকসানি প্রতিষ্ঠান!

বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই বলে বিএসসিসিএল লাভজনক! বাস্তবে বেসরকারি আইটিসি কোম্পানিগুলোর সঙ্গেই টিকতে পারে না। বেসরকারি সাবমেরিন কেবল কোম্পানি এলে এই কোম্পানির আভ্যন্তরীণ করুণ চিত্র সহজেই বোঝা যাবে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা খুবই অস্বচ্ছ। তার প্রমাণ সি-মিই-উই-৬ প্রকল্প নেওয়ার পর তার আর হদিস নেই। একটা গল্প বার বার শোনানো হচ্ছে, সমুদ্রে কেবল বসানোর কাজে নিয়োজিত মার্কিন ঠিকাদার কোম্পানি ইয়েমেন সমুদ্রসীমা দিয়ে ভয়ে কাজ করতে পারছে না, আবার সিঙ্গাপুর ল্যান্ডিং স্টেশনের জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ সমস্যার যেন সমাধান নেই, পুরোনো গল্পেরও শেষ নেই! তবে এসব রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানিরর হাতে অমূল্য সম্পদ আছে। যে সম্পদ অবশ্যই সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চেহারা পাল্টে যাবে।

বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে আশা করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ আমলে এসব কোম্পানিতে যেসব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর তদন্ত হবে এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কাজটা শুরু হবে। বাস্তবে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাহেব আওয়ামী লীগ আমলে বিটিসিএল দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্পের বিষয়ে তদন্ত বন্ধ করে দ্রুত প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের সুপারিশ করে চিঠি দিলেন! এর উদ্দেশ্য খুব সহজেই বোঝা যায়। তারপর নিজের মতো করে ঝড়ের গতিতে একের পর এক নীতিমালা তৈরি করলেন, এরপর গন্ডায় গন্ডায় অধ্যাদেশ জারি হলো। যেগুলোকে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিছক জঞ্জাল ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।

আসলে তার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। এটা বুঝতে হলে বিদেশি মালিকানাধীন তিনটি মোবাইল অপারেটরের দিকে তাকাতে হবে। এই উপমহাদেশে টেলিনর পাকিস্তান ছেড়েছে, মিয়ানমার থেকেও চলে গেছে। বাংলোদেশেও গ্রামীণফোন অনেক দিন থেকেই যাই যাই করছে। বাংলালিংক বিক্রেতা খুঁজছে আরও কয়েক বছর ধরে। রবির মূল ব্যবসায় বিনিয়োগ কমিয়ে কিছু ‘সাইড ব্যবসা’ বিস্তৃত করার চেষ্টায় আছে।

মূলত, এই কোম্পানিগুলোর ‘এক্সিট ভ্যালু’ বাড়ানোর মহান দায়িত্ব নিয়েছিলেন সদ্য বিদায়ী বিশেষ সহকারী মহোদয়। এ জন্যই ভ্যালু চেনে সব স্তরে মোবাইল অপারেটরদের ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করছেন তার তৈরি তথাকথিত নীতিমালায়।

এখন প্রশ্ন ওঠে, এই কোম্পানিগুলো চলে যেতে চায় কেন? কারণ তারাও জানে, আগামী তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় এখনকার মডেলে আর ব্যবসার সুযোগ বেশিদিন নেই। বাংলাদেশে স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলোর দ্রুত সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টাও তাদের ব্যবসার ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না। এটা খুবই সত্যি আজ হোক, কাল হোক, প্রতিটি দেশ বাস্তবতার প্রয়োজনেই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল অবকাঠামো, অপারেশন এবং সার্ভিস ডেলিভারি সিস্টেম গড়ে তুলবেই।

টেলিনর এ কারণেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে নরওয়ে এবং আশে পাশের দেশগুলোতে আরও বেশি সক্ষমতা বাড়াতে নজর দিয়েছে ২০১৬ সাল থেকেই। ভিয়ন ইউরোপ জুড়ে সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের বড়িয়েছে প্রায় তিনগুন। অতএব ইউরোপের একজন নাগরিক বাংলাদেশের সরকারি দায়িত্বে যাওয়ার পর ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ‘এক্সিট ভ্যালু’ বাড়ানোর দায়িত্ব নেবেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, মালয়েশিয়ার কোম্পানি আজিয়াটা ভবিষ্যতের বাস্তবতায় পুরোনো ব্যবসায় ব্যয় কমিয়ে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র খুঁজছে আরও প্রায় দশ বছর আগে থেকে।

বিশেষ সহকারী সাহেবের তথাকথিত নীতিমালাতেই তাদের জন্যও সহায়ক! অতএব এই কোম্পানিগুলো কম সময়ে কত বেশী মুনাফা করা যায়, সেই চিন্তা থেকেই ব্যবসা করে আসছে, ভবিষ্যতেও করবে। বাংলাদেশের জন্য সক্ষম ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা কোনোভাবেই তাদের লাভের অংকে পড়ে না, অতএব তারা সেটা করবেও না।

নতুন সরকারের নীতি নির্ধারকদের এ বিষয়গুলো সক্রিয় বিবেচনায় রেখে পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিবর্তিত বাস্তবতার চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানিগুলোর অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আগামী দিনের জিজিটাল সার্বভৌম ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

এ কারণে রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে দ্রুত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার বাইরে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে ‘সার্বভৌম এআই’ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে এক নম্বরে রেখেই পুরো টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য সময়েপযোগী একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে। বিদেশি কোম্পানির সাবেক শীর্ষ ব্যবস্থাপক নন, বরং পরামর্শ নিতে হবে সেইসব দেশীয় উদ্যেক্তাদের, যারা নিজেদের অদম্য চেষ্টায় প্রতিকূল সরকারি নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে সক্ষম অবকাঠামো, ডাটা সেন্টার, কারখানা গড়ে তুলেছেন, সফটওয়্যার রপ্তানি করেছেন উন্নত দেশে। তাহলে একটি দেশের জন্য সময়ের চাহিদায় উপযুক্ত নীতিমালা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। আশা করি, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।

রাশেদ মেহেদী, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত বিশ্লেষক, সম্পাদক, ভিউজ বাংলাদেশ

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ