Views Bangladesh Logo

হাঁটিয়ে ৬ তলায় ওঠানো ও পেছনে হাতকড়া পরানো নিয়ে বিচারকের কাছে পলকের ক্ষোভ

মামলার শুনানিতে হাঁটিয়ে আদালতের ষষ্ঠ তলায় ওঠানোয় বিচারকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সঙ্গে হাতকড়া সামনে পরানোর ব্যবস্থা করারও আবেদন জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলার শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন পলক।

এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এ সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন পলক।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম? লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয় তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনা করে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

তখন বিচারক বলেন, ‘এটা আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।’

জবাবে পলক বলেন, ‘এটা আপনার অথরিটি না, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনিচুর রহমান বলেন, ‘তিনি আদালতে যে দাবি করেছেন, সেটা অনৈতিক। আইনজীবীদের মনোবল দুর্বল করার জন্য তিনি এমন কথা বলেছেন। তবে তাতে আইনজীবীরা ভীত নন।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে পলক বলেন, ‘আপনার থেকে আমার দূরত্ব বেশি দূরে নয়।’

এদিকে, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করায় তাঁদের বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়নি। এ কারণে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘আগামী ২৬ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।’

পরে পলককে লিফটে করে নিচে নামানো হয়। এ সময় হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি আহত হন।

হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করে গত বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজীব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টু।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ