মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে ক্ষতির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে মানুষ, পশু-পাখি ও গাছপালার সম্ভাব্য ক্ষতি স্বাস্থ্য ঝুঁকি নির্ণয়ে গবেষণা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটারি কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহম্মেদ ভূঁইয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও আদালত এলাকার মতো জনবহুল স্থানে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডিসেম্বর। এর আগে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের রিটটি করেন। ২০১৯ সালে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রায় দিয়ে বিকিরণের মাত্রা পর্যালোচনা ও গাইডলাইন প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান আদালতে মতামত দেন এবং লিখিত প্রতিবেদনে বিকিরণের মাত্রা কমানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রস্তাব দেন।
শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘ভারত, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা কমানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো আইসিএনআইআরপি’র পুরোনো মানদণ্ড বহাল রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ মাত্রা ক্ষতিকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। সেটিকে আমলে না নিয়ে আইসিএন আইআরপি এর মতামত অনুসারী এখনো বিকিরনের আগের মাত্রা কার্যকরী রেখেছেন। যদিও ভারত সহ কয়েকটি দেশে গবেষণায় দেখা গেছে এ ধরনের মাত্রা ভৌগলিকভাবে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যারা বসবাস করে তাদের জন্য ক্ষতিকর।’
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল এবং বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজুর নাহিদ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে