বিদ্যুৎ বিল ‘অস্বাভাবিক’, কারণ জানে না নেসকো
বাড়ি বাড়ি জ্বলে আলো। ঘুরে ফ্যান, চলে ফ্রিজ, টেলিভিশন ও এসি। আরও নানান ব্যবহার রয়েছে বিদ্যুতের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ব্যবহারে রয়েছে ভিন্নতা। বিদ্যুতের এই পেছনে থাকে একটা সাধারণ হিসাব। মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব।
কিন্তু গেল জুন মাসে সেই হিসাবটাই অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সেই মাসের বিদ্যুৎ বিলের হিসাব মিলছে না। ফলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আশঙ্কা করছেন নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেডের (নেসকো) গ্রাহকেরা।
বগুড়া তিনমাথা এলাকার বাসিন্দা রেদোয়ানুল ইসলাম জুন মাসের বিদ্যুতের খরচ দেখে হতবাক হয়ে গেছেন। ওই মাসে তার প্রিপেইড মিটারে তুলতে হয় ৬ হাজার ৬০০ টাকা।
তিনি বলেন, গরমের সময় সাধারণত তার বিদ্যুৎ বিল থাকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। শীতে সেটা আরও কমে হয় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। কিন্তু এবার সেই পুরনো হিসাব বদলে গেছে। অথচ জীবনযাপন একই রকম চলছে।
শুধু রেদোয়ানুল ইসলামই নন। বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন বিল অস্বাভাবিক বেড়েছে, কেউ বলছেন প্রিপ্রেইড মিটারে জনগণের টাকা চুরি হচ্ছে।
বগুড়া মহানগরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা রাকিব আহসান জানান, প্রতিমাসে তার ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। জুন মাসে তার ২০০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল হিসেবে খরচ হয়েছে।
তবে নেসকোর প্রিপ্রেইড মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের শিকার সব গ্রাহক হননি।
স্থানীয়ভাবে অন্তত ২০ জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন এই অস্বাভাবিক বিলের কবলে পড়েছেন।
বগুড়ার ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা রনজু হোসেন জানান, জুন মাসে তার কোনো অতিরিক্ত বিল গুনতে হয়নি। স্বাভাবিক বিলই উঠেছে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া অন্তত ১০ জন জানান, আগে মিটার দেখলে মনে হতো হিসাব নিজের হাতে আছে। এখন হয়ত হিসাব আমাদের বাইরে চলে গেছে।
বিদ্যুৎ বিলের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারা আশঙ্কায় রয়েছেন যে, পরের মাসের বিল কত আসবে?
অন্যদিকে নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হঠাৎ করে বিল বৃদ্ধির কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে।
জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়ে বিশেষ বার্তাও দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
গত ২৯ জুন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে জানা গেছে। এই বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো. আফাজ উদ্দিন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিকতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
গ্রাহকেরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের পুরো দৈনন্দিন জীবন। নেসকোর বক্তব্য অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটা কোনো সমাধান না। কারণ ভূতুড়ে বিলের শিকার হওয়া গ্রাহকের মধ্যে কয়জন অভিযোগ করবেন? কেউ ঝামেলা চান না। তবে এরকম চলতে থাকলে তখন সমাধানে শুধু অভিযোগ নয়, আন্দোলনও করা হবে।
মতামত দিন