হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিননামা জমা দিলেন এমপি গাজী নজরুল
ঢাকার পল্লবী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া জামিনের জামিননামা আদালতে জমা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জামিননামা জমা দেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্য।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। সেই জামিনের কাগজপত্র রোববার সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে আট সপ্তাহের জামিন দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন নজরুল ইসলামের সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় করা মামলায় তার অভিযোগ, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের সন্দেহকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মামলায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। এজাহারে বাদী ওবায়দুর রহমান নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় তিনি থাকতেন। আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাসায় নজরুল ইসলামের যাতায়াত ছিল।
এজাহারে ওবায়দুরের অভিযোগ, একপর্যায়ে তার ভাগনির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানোর পাশাপাশি নজরুল ইসলামকে এমন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, মগবাজারের একটি চক্র গাজী নজরুল ইসলাম ও তার ভাগনির কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। নজরুল ইসলামের সন্দেহ ছিল, ওবায়দুর ওই ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই ওবায়দুরের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে একটি ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে আহত ওবায়দুর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে ওবায়দুর আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর আসামিরা তাকে যেখানে পাবেন সেখানেই হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়ে আসছেন। তবে মামলার এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি জানা যাবে।
এদিকে, ব্যক্তিগত ভিডিওকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এর পরপরই তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
মতামত দিন