Ramisa rape-murder case:
রামিসা হত্যা মামলা: আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিশাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি চলাকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে ‘ডলার’ নামে অপর এক ব্যক্তি জড়িত থাকার দাবি করে তাকে গ্রেপ্তারের আকুতি জানিয়েছে সে। অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত চত্বরে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সকাল পৌনে ১১টায় সোহেলকে এবং ১১টায় স্বপ্নাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসলে আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
শুনানির শুরুতে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর বিচারক আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। এ বিষয়ে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা বলে, ‘আমি নির্দোষ, স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাঁরে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।...আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে।’
বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে সোহেল বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ, স্যার।’
এরপর আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার উদ্দেশ্যে বলেন, মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি অনুযায়ী তিনিও একই অপরাধে দোষী। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে স্বপ্না আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’
দুই আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্যের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা টয়লেটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ জানায়, এর আগেও সোহেল রানা আদালতে হাজির হয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। গত মঙ্গলবার (২ জুন) এই মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে