Views Bangladesh Logo

বগুড়ায় উপনির্বাচন: চায়ের দোকানেও নেই আলোচনা, আগ্রহ কম ভোটারদের

Masum   Hossain

মাসুম হোসেন

বগুড়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যে চায়ের দোকানগুলো একসময় রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের প্রাণকেন্দ্র ছিল, সেখানে এখন নির্বাচন প্রসঙ্গ প্রায় অনুপস্থিত।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকানের আড্ডায় ভোট নয়—প্রাধান্য পাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম, জ্বালানি তেলের সংকট ও এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি।

বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা ৫৫ বছর বয়সী জহুরুল ইসলাম বলেন, সামনে নির্বাচন থাকলেও তা নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো আলোচনা নেই। তবে তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে তিনমাথা এলাকায়। সেখানে ৬০ বছর বয়সী শাহ আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। কেউ চাইলে ভোট দিতে যাবেন, কিন্তু এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আলোচনা নেই। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই এ বিষয়ে কথা বলছেন।

শহরের খান্দার, ঠনঠনিয়া, মফিজ পাগলার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় একই অবস্থা দেখা গেছে। সর্বত্রই মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাজারদর ও জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো। জীবিকার চাপ রাজনৈতিক আগ্রহকে অনেকটাই ছাপিয়ে গেছে।

আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারেক রহমান এই আসনে জয়লাভের পর তা ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এবারও জামায়াত সেই সোহেলকেই প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বাদশা, যিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র।

শহরের অন্তত ১০০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এই আসনে তুলনামূলক কম ভোট পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

ঠনঠনিয়া এলাকার বাসিন্দা সোহাগ ইসলাম, যিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, ভোটের দিন ছুটি থাকলেও তিনি বগুড়ায় গিয়ে ভোট দেবেন না। উপনির্বাচন নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই।

তবে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহ কম থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা থেমে নেই। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু সেই প্রচারণা সাধারণ মানুষের আলোচনায় তেমন প্রভাব ফেলছে না।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ