বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্তানদের কাছে জবাব চেয়ে আইনি নোটিশ
রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তার চার সন্তানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (০৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি সাক্ষরিত নোটিশটি পাঠানো হয়েছে নুরুজাহান বেগমের চার সন্তানের কাছে। নোটিশে বৃদ্ধা নুরুজাহান বেগমের ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা, দেখভাল এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নুরুজাহান বেগমের চার সন্তান হলেন—খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডাপ্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান এবং স্কুলশিক্ষিকা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা। লিগ্যাল নোটিশটি প্রদান করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী কে এম আশরাফ রাব্বী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী প্রায় ৭৫ বছর বয়সী নুরুজাহান বেগম রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘ সময় নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কয়েকদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং এটি প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবিধানে নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার রয়েছে এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এ সন্তানদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, এ ঘটনা সেই প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।
নোটিশে বৃদ্ধার সন্তানদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, মায়ের জীবদ্দশায় তার ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় দেখভালের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ, খোঁজখবর নেওয়া এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘ সময় বৃদ্ধার অবস্থান সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণ, মায়ের প্রতি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে বলে দাবি করলে তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করা হতে পারে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে