সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ দেওয়ার দাবিতে আইনি নোটিশ
সংবিধান সংস্কারের সম্ভাব্য উদ্যোগের মধ্যে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে। এ দুটি বিষয় সংবিধান থেকে অপসারণে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯০ দিনের সময়সীমা দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পরে সংশোধিত প্রস্তাব জনগণের অনুমোদনের জন্য জাতীয় গণভোটে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে ‘সমাজতন্ত্র’ বাদ দেওয়ার পক্ষে অর্থনৈতিক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮ ও ১০ অনুচ্ছেদে সমাজতন্ত্রের উল্লেখ ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় এ বিধান বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ব্যক্তিমালিকানা ও বিনিয়োগের সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নোটিশে ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশদাতার বক্তব্য, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে এই নীতির সামঞ্জস্য নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক বিভিন্ন দলিল ও গ্রন্থের উদ্ধৃতিও নোটিশে দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দাবিগুলোর মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পেছনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনামলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো নোটিশদাতার নিজস্ব যুক্তি ও ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বর্তমান সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে এ চার নীতির কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ১০ অনুচ্ছেদে শোষণমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা এবং ১২ অনুচ্ছেদে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
আইনি নোটিশে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মতামত দিন