নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়ে মতামত দিলো আইন মন্ত্রণালয়
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার। জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
তবে আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে ডেপুটি স্পিকার থাকায় সাংবিধানিকভাবে করণীয় কী, সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো মতামতে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শপথ পড়াতে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধান অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার যেহেতু স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করছেন, সে হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর জন্যও তিনিই সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।’
অর্থাৎ, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এর ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ভোট ও গণনা শেষে আজই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম জানা যাবে। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চিফ হুইপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সব মিলিয়ে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
মতামত দিন