বিএনপির দুর্গে জামায়াতের নজর, কেন্দ্রে যাবেন না আ. লীগের ভোটাররা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে বগুড়ার রাজনৈতিক চিত্র কিছুটা আলাদা। বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবার ভোট নিয়ে বাড়তি উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের প্রার্থী ছিলেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পর এ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। সেই সাথে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তারেক রহমানের প্রার্থীতা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৭ আসনে এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াতে ইসলামী।
বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী ছিলেন মোরশেদ মিল্টন। তিনি গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বগুড়া-৭ আসন থেকে বিএনপির হয়ে লড়াই করতে যাচ্ছেন মোরশেদ মিল্টন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, শুধু বগুড়া-৭ আসনই নন, জেলার যেকোনো আসন থেকে বিএনপির প্রার্থীই জয়ী হবেন। বগুড়ার মানুষ বিকল্প কিছু ভাবেন না।
বেগম খালেদা জিয়া নেই- এমন পরিস্থিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়া-৭ আসনে জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। খালেদা জিয়া থাকলে আসনটি তারা হয়তো হারাতেন, তবে এখন জয় অনেকটা নিশ্চিত।
ভোটকে সামনে রেখে দল দুটি নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। সেই সাথে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ছোট-বড় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
তবে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। আওয়ামী লীগ ছাড়া এ নির্বাচনে তারা ভোট বর্জন করবেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এই সরকার আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশ নিতে দিচ্ছে না সরকার।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে জয়ী হন বেগম খালেদা জিয়া।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় বগুড়ার সাতটি আসনকেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে এই দুই আসনকে স্থানীয়ভাবে বিএনপির দুর্গ বলা হয়।
বগুড়া-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেলকে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বলছেন, এই দুই আসনের যেকোনো একটিতে জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যে দেশের জন্মলগ্নে বাধা সৃষ্টি করেছে জামায়াতে ইসলামী, সেই দেশেই তারা (জামায়াতে ইসলামী) ক্ষমতায় বসতে চায়। এটা জাতির জন্য লজ্জার বিষয়।
এই দুই আসনের অন্তত ১০০জন আওয়ামী লীগের সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না। এ কারণে ভোট দিতে কেন্দ্রেই যাবেন না তারা।
শাজাহানপুর-গাবতলী আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়া-৭ আসন জিয়া পরিবারের আসন। এ আসনে হারের কোনো আশঙ্কাই নেই।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বগুড়া-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা গোলাম রব্বানী ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে বা কোন ব্যক্তি- তা দেখার বিষয় নয়। আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমার আদর্শ। জনগণ যাকে চান, তিনিই নির্বাচিত হবেন। আমি আশাবাদী, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, দেশের জন্য জিয়া পরিবারের অবদান ও ভূমিকার কারণে জনগণ বিএনপির প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন। যে দল থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিক না কেন, তারা (অন্য দলের প্রার্থী) বিপুল ব্যবধানে ভোটে পরাজিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া-৭ আসন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় এখানে অন্য যেকোনো প্রার্থীকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে