আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি আইভীর
পুলিশের গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। হাজিরা শেষে আদালত ভবিষ্যতে তার পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। নারায়ণগঞ্জে আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি হত্যা, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে- আর আজকে আমি-ই কি অপরাধী? এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন- তারা দেখবেন।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা এই মামলায় আইভীর হাজিরার নির্ধারিত তারিখ ছিল আজ। তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওই মামলায় আইভী আগে থেকেই জামিনে রয়েছেন। এদিন তার আইনজীবীরা ব্যক্তিগত হাজিরার পরিবর্তে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের গাড়ি বহরে করা হামলার মামলায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যে জামিন পেলে তা চেম্বার কোর্টে যায়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আপিল বিভাগে জামিনের রুল নিষ্পত্তি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে ওনার হাজিরা ছিল। যেহেতু উনি দীর্ঘদিন কারাবাসী ছিলেন, শারীরিক অসুস্থ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির পরিবর্তে আইনজীবী হাজিরা প্রদান করবে এই মর্মে গত তারিখে আদালতে দরখাস্ত দেওয়া হয়। আজ শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে আগামীতে আসামির পরিবর্তে তার আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করবে। যতদিন পর্যন্ত মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে না নেওয়া হয় ততদিন পর্যন্ত আসামির পরিবর্তে আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করতে পারবে।’
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের করা তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর চলতি বছরের ৩ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মতামত দিন