Views Bangladesh Logo

ভারতের সংসদের উভয়কক্ষেই খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি মরনোত্তর শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্টের উভয়কক্ষ।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয়কক্ষেই খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রস্তাব রাখা হয় এবং তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই জানায়, বাজেট সেশনের প্রথম দিনে উভয়কক্ষের সদস্যদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই অধিবেশনেই খালেদা জিয়া ছাড়াও ভারতের সাবেক এমপি এল. গনেশন এবং এমপি সুরেশ কালমাদি-এর প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা ফ্রি প্রেস জার্নাল জানিয়েছে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) লোকসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের সূচনালগ্নে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী, লোকসভার সাবেক পাঁচ সদস্য এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। শোক প্রস্তাবের সময় প্রয়াতদের নাম উচ্চারণ করা হয় এবং পরে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ উপস্থিত আইনপ্রণেতারা দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান।

এসময় লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, 'বেগম খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, উনি বাংলাদেশের সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকাও পালন করেছেন। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ এ বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। এ সভা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যা আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব। এ সভা তার প্রয়াণে তার ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা ব্যক্ত করছে। এ সভা তার সম্মানে এখন নীরবতা পালন করবে।'

এদিকে পিটিআই জানিয়েছে, বুধবার রাজ্যসভার অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়া এবং রাজ‍্যসভার সাবেক দুই সদস্য এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদির জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হয়।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন। পরে প্রয়াতদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

শোকপ্রস্তাবে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে রাধাকৃষ্ণন বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।

রাধাকৃষ্ণন বলেন, “তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দিয়েছিলেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।

বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ সম্বোধন করে মোদী সেখানে লেখেন, খালেদা জিয়ার প্রস্থান ‘অপূরণীয় শূন্যতা’ সৃষ্টি করলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার টিকে থাকবে।

এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে খালেদা জিয়ার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে মোদী সরকারের এমন উদ্যোগী ভূমিকাকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের প্রতি দিল্লির ‘কৌশলগত যোগাযোগ চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ