কুমির থাকা সেই দীঘিটি আর কতদিন অরক্ষিত থাকবে
কুমির টেনে নিয়ে গেছে কুকুর। ভিডিও ছড়িয়েছে সারা দেশে। সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। তবু বদলায়নি কিছুই। বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন ঐতিহাসিক দীঘির পাড় আজও অরক্ষিত। প্রতিদিন শিশু থেকে বৃদ্ধ— নানা বয়সের মানুষ নামছেন কুমিরের সেই জলে। প্রশাসন জানে, মাজার কর্তৃপক্ষও জানে। তবু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
গত ৮ এপ্রিল দীঘির পাড় থেকে একটি আহত কুকুরকে গভীর জলে টেনে নিয়ে যায় কুমির। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ দীঘিতে ভেসে ওঠে। শুধু এবারই না, জানা গেছে এর আগেও কুমিরটি নানাজনকে আঘাত করেছিল। এমনকি হাত ছিঁড়ে নেওয়ারও ঘটনা রয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার পরেও দীঘিতে মানুষের অবাধ যাতায়াত ও গোসল থামেনি। নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, দীঘির পাড়ে শিশুরা পানিতে খেলছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ গোসল করছেন, কেউ আবার গা ভিজিয়ে নিচ্ছেন। কুমির থাকার বিষয়টি জেনেও কারও মধ্যে তেমন কোনো আতঙ্ক চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, এখন কুমির দেখা যাচ্ছে না। কুমিরটি পাড়ের কাছে এলে তখন কেউ পানিতে নামেন না।
ওই সময় দীঘির পাড়ে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসানকে। তিনি কৌশলে কুমিরটিকে পোষ মানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার ইশারায় কুমিরটি দীঘির পাড়ে আসে এবং আবার সরে যায়।
মেহেদী হাসান ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘দীঘিতে এখন একটি কুমির আছে। আগে কয়েকটি থাকলেও সেগুলো মারা গেছে।’
মাজার গেট সংলগ্ন কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কুমিরের এমন আচরণ তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারা দাবি করেন, কুকুরকে কুমির খুব পছন্দ করে। তবে আগের ঘটনাগুলোর কোনো ভিডিও না থাকায় সেগুলো আলোচনায় আসেনি।
তারা আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক কুকুরের ঘটনাটি ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে মাজারবিরোধী কিছু পক্ষ ও সাংবাদিকরা জড়িত।
অন্যদিকে মাজার শরীফের খাদেমদের দেখা গেছে দর্শনার্থীদের দীঘির পানিতে নামতে উৎসাহ দিতে। কোনো সতর্কতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এভাবে মানুষকে কুমিরের জলে নামতে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় আছে। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকে গোসল করেন, পানি স্পর্শ করেন। এমনকি বোতলে করে পানি নিয়ে যান। এ অবস্থায় হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা দিলে মাজারভক্তরা বিষয়টি ভালোভাবে নাও নিতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মানুষের গোসল বা পানি সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে— যেখানে কুমিরটি যেতে পারবে না।’
তবে এই সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট করেননি ইউএনও। ততদিন পর্যন্ত কুমিরের দীঘিতে মানুষের জীবন ঝুঁকি নিয়েই চলবে— এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে