Views Bangladesh Logo

অর্থঋণ আইনে নিলাম প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জে সরাসরি রিট গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

অর্থঋণ আদালত আইনের আওতায় ব্যাংক পরিচালিত নিলাম প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি হাইকোর্টে রিট আবেদন করা যায় না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে আইনে বিকল্প প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকায় রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য মামলায় দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৬ জুলাই বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ধারার অধীনে শুরু হওয়া নিলাম প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়—বিবাদীপক্ষের এমন যুক্তি মেনে নিয়ে পূর্বে জারি করা রুল এবং অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান। ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং অপর দুই বিবাদীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কিশোর।

রায়ে বলা হয়, নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রির পর ক্রেতার নামে বিক্রয় দলিল নিবন্ধন ও নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হলে তার চূড়ান্ত আইনগত স্বত্ব তৈরি হয়। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর রিটের মাধ্যমে নিলাম বাতিল বা সম্পত্তি ফেরত চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একটি ব্যাংক থেকে এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধ না করায় সুদ-আসল মিলিয়ে বকেয়া দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫ টাকা। পরে ঋণ আদায়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিলামের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকায় সম্পত্তিটি বিক্রি করে। একই বছরের জুনে ক্রেতার নামে বিক্রয় দলিল নিবন্ধন ও নামজারিও সম্পন্ন হয়।

এরপর সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ঋণগ্রহীতা আশরাফুল ইসলাম হেলাল। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে রুল জারি এবং হস্তান্তর কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে শর্ত ছিল, ৯০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতে হবে; অন্যথায় রুল ও স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রিট আবেদন খারিজ করে দেন আদালত।

রায়ে আদালত বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ও ১২(৮) ধারায় নিলাম সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সেই প্রতিকার বিদ্যমান থাকলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, রুল জারির সময় নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে আবেদনকারী বকেয়া পরিশোধ না করায় রুল ও স্থগিতাদেশ আইনগতভাবে কার্যকর ছিল না। এদিকে নিলামের পর সম্পত্তির দলিল নিবন্ধন ও নামজারি সম্পন্ন হওয়ায় ক্রেতারা আইনগতভাবে চূড়ান্ত মালিকানা অর্জন করেছেন। ফলে রিটের মাধ্যমে ওই নিলাম বাতিল করে আবেদনকারীকে সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, নিলামে বিক্রি হওয়া অর্থ থেকে ব্যাংকের সব বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের পর অতিরিক্ত কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা বিলম্ব না করে রিট আবেদনকারীকে ফেরত দিতে হবে।



মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ