হামের বদলে জলাতঙ্কের টিকা: তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের, ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রুল
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পাশাপাশি শিশুর পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ল’এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে রিটটি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।
জানা গেছে, গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ভূঞাপুরের ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন তার এক মাস পাঁচ দিন বয়সী শিশু ফাতিহাকে হামের টিকা দেওয়াতে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামের টিকার পরিবর্তে শিশুটিকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন দেন। কিছুক্ষণ পর শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঘটনাটি প্রকাশ পায় এবং হাসপাতালে আসা অন্যান্য শিশুর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, কাইয়ুম অবসরে যাওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দিয়ে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। নিয়মিত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম সেদিন হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন। শিশুর পরিবার জানায়, প্রতিবাদ করলে কাইয়ুম ও নুরুল ইসলাম খারাপ ব্যবহার করেন। শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে বলেও জানায় পরিবার।
কাইয়ুম ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ স্বীকার করেন, কাইয়ুম অবসরে থাকলেও টিকা কার্যক্রম চালাতে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে