তিন নারীকে বিদেশে যেতে বাধা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত নয়: হাইকোর্ট
তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
তিন নারীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় রিট আবেদনকারীরা পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে যে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগটি সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানান, বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কারণ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ৩০ আগস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন ওই তিন নারী। অভিযোগের পরও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, রিট আবেদনকারীরা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাঁদের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন ও বিমান টিকিট থাকা সত্ত্বেও বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়। তাঁদের কাছে বাসার লোকজন জানেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয় এবং বাসায় ফোন করতেও বলা হয়। তাঁরা অবিবাহিত এবং নিজেরা ভ্রমণ করছেন—এ বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে জানান তিনি।
আইনজীবীর ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলে।
ইশরাত হাসান আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকলে রিট আবেদনকারীদের পরবর্তী বিদেশযাত্রায় বাধা না দিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিট আবেদনকারীদের ভাষ্য, তাঁদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাঁদের বিমানবন্দর থেকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
মতামত দিন