মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও তাকে দুই লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৪ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরবর্তীতে রায় ঘোষণার জন্য আজকের (৩০ জুন) দিনটি ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল ।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইনু বলেন, 'এটি একটি ফরমায়েশি রায়। প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে আমাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম।'
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত শুরু হয় এবং ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়।
পরে গত বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ইনুর বিরুদ্ধে আনীত আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে রয়েছে-নিজের নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততা, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।
নিহত ছয়জন হলেন-শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
এই মামলায় অপরাধ প্রমাণে প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষী দেন তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন। অন্যদিকে এবং আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন দুইজন। এরপর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৩ মে শেষ হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মতামত দিন